রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

অন্যায়ের প্রতিবাদে আত্মমর্যাদাবোধ যেন হারিয়ে না যায়

সাক্ষাতকার
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার ৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৭

অন্যায়ের প্রতিবাদ করাকে সব সময় স্বাগত জানাই। নারীদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করার পক্ষে সব সময় আছি। নিজেও নারী বিদ্বেষিদের দুচোখে দেখতে পারি না। চলার পথে আমাদের নানান বাধা বিপত্তির মধ্যে দিয়ে চলতে হয়। এভাবেই আমাদের এগিয়ে যেতে হয় আমরা এগিয়ে যাই। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরা যেনো আত্মমর্যাদাবোধ হারিয়ে না ফেলি।

চলার পথে অধিকাংশ সময় যদি অন্যের অন্যায়ের প্রতিবাদে ব্যয় করতে হয় তাহলে স্বকীয় চিন্তা চেতনা প্রকাশ করার সময়টুকু কিন্তু সংকীর্ণ হয়ে যায়। তাই পরগাছা লোকজনকে এত গুরুত্ব দিলে একসময় নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা হয়ে যায়। ওরা তো থাকবেই, ওরা আছে, ওরা সবসময়ই ছিল। সুতরাং প্রতিবাদ নিজের রুচি পছন্দ অনুযায়ীই করতে হবে।

লুঙ্গি, গামছা, ধুতি সবকিছুই সুন্দর, অতি মনোরম। আমাদের স্বকীয়তার অংশ। তবে কে, কীভাবে তা ব্যবহার করল সেটি আলোচ্য বিষয় হতে পারে। নাচের ভঙ্গি, নাচের মুদ্রা ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। অনেক অব্যক্ত ভাবই এ মাধ্যমে প্রকাশ হয়ে যায়। ইংরেজিতে যাকে ‘ননভারবাল কমিউনিকেশন’ বলে।

পরীমণির বিষয় বহুদিন ধরে লেবু চিপতে চিপতে তেতো হয়ে গেছে। এই ইস্যুতে প্রতিবাদী সংগ্রামীদের সাথে সাথে তিনি নিজেও প্রতিপক্ষকে অনেকবার নাচের মুদ্রার মাধ্যমে নিজের ভাব প্রকাশ বুঝিয়েছেন। তার সাথে আমিও সহমর্মী হয়েছি এবং আরও অনেকের জন্যই হব। দেশের অনেকেই তার প্রতি হয়ে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। শুধু নায়িকা হিসেবে নয়। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে।

যা বলতে চাই, নাচের মুদ্রা দেখিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়, লুঙ্গি-ধুতিও পরা যায়, যেমন খুশি তেমন সাজাও যায়। তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু বারবার একই রকম প্রতিবাদে গুরুত্ব অনেকটা ম্রিয়মাণ হয়ে যায় বৈকি। না চাইতেই কেউ যদি গুরুজনের সম্মান আর স্নেহ পেয়ে যায় তা ধরে রাখতে ধৈর্য আর আত্মসম্মানবোধও থাকতে হবে। পরীর সাথে দেখা হলে বলতে চাই, পরী, আপনি আপন প্রতিভা বিকাশে মগ্ন হোন। আপনার ‘প্রীতিলতা’ দেখার প্রতীক্ষায় রয়েছি।

সাবিনা শারমিন
সাবেক ব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..