রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

অবৈধ নিয়োগ বন্ধ করতে হবে

সম্পাদকীয়
  • আপডেট টাইম : শনিবার ৩০ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫৫

দেশে অশিক্ষিত বেকারের চাইতে শিক্ষিত বেকরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়েও বছরের পর বছর থাকতে হচ্ছে বেকার। এর অন্যতম একটি কারণ যথা সময়ে দরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবলের চাহিদা থাকা শর্তেও নিয়োগ না দেওয়া। আর অবৈধ নিয়োগ। তাই অবৈধ নিয়োগ বন্ধে জোর চেষ্টা চালানো সময়ের দাবি। এক কথায় অবৈধ নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।

দেশে কর্মসংস্থান না থাকায় অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে প্রতিবছর ভূমধ্যসাগরে ডুবে শত শত বাংলাদেশি মারা যায়। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে বাংলাদেশিদের গণকবর পাওয়া যায়। পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে মরুভূমিতে ধুঁকে ধুঁকে অনেকের মৃত্যু হয়। অথচ দেশে বিদেশি কর্মীর ছড়াছড়ি। কর্মসংস্থান নিয়ে গবেষণা করেন এমন কারো কারো মতে, এই সংখ্যা আড়াই লাখের বেশি এবং এদের ৯০ শতাংশের বেশি অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করছে। তারা কোনো আয়করও পরিশোধ করছে না। কারিগরি পেশায় তো বটেই; সাধারণ হিসাবরক্ষণেও অনেকে বিদেশিদের নিয়োগ দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার এসব বিদেশীর থাকা নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যাথাও দেখা যায় না। তাই বিনা বাধায় আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ থেকে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার প্রতিবছর রেমিট্যান্স হিসেবে বিদেশে চলে যায়। অর্থাৎ আমাদের কষ্টার্জিত মোট রেমিট্যান্সের এক-পঞ্চমাংশই আবার বাইরে চলে যায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায়ও উঠে এসেছে, অবৈধভাবে কাজ করা বিদেশি কর্মীরা বছরে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে অনুমতিপত্র ছাড়াই কাজে লেগে যায়। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তারা এখানে থেকে যায়।

এটা ঠিক, অনেক টেকনিক্যাল কাজে বাংলাদেশি তরুণরা এখনো কিছুটা পিছিয়ে আছে। সেই ঘাটতি পূরণের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের যদি বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতেই হয়, তাহলে তা করতে হবে বৈধভাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..