শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

২২ দিন পর আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষেধ ছিলো। সোমবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার ইলিশ ধরা শুরু করবেন জেলেরা।

মৎস্য ও প্রাণিসস্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ১১ হাজার ১১৮ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারের মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৩৭ জেলার ১৫১টি উপজেলায় মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪৪টি জেলে পরিবারের জন্য এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২০ সালের চেয়ে ২৭ হাজার ৬০২টি বেশি জেলে পরিবারকে এবার বরাদ্দের আওতায় আনা হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি জেলে পরিবার ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই এ বছর ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মাছের রাজা ইলিশ:

মাছের রাজা ইলিশ টিভি বিজ্ঞাপনে নব্বই দশকের সাড়া জাগানো একটি স্লোগান পর আজও মানুষের মুখে মুখে। ইলিশ পছন্দ করে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। পদ্মার ইলিশের কথা ভাবতেই অনেকের জিভে পানি এসে যায়। ইলিশ দিয়ে নানা রকম মুখরোচক রান্না হয়।

একটি ইলিশের সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ৬০ সেমি.। বড় আকারের ইলিশের ওজন হয় প্রায় ২.৫ কিলোগ্রাম। স্ত্রী মাছ দ্রুত বাড়ে এবং সচরাচর পুরুষ ইলিশের চেয়ে আকারে বড় হয়। এ মাছ এক থেকে দুই বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ইলিশ সারা বছর সাগরে থাকে। শুধু ডিম পাড়ার সময় নদীতে আসে। নদীর ইলিশ বেশি উজ্জ্বল, কিছুটা রূপালী হয়। সাগরের ইলিশ লম্বা, সরু হয়। সাগরের ইলিশ তুলনামূলক কম উজ্জ্বল হয়।

মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ইলিশ বিষয়কপ্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, সাগর থেকে ইলিশ যখন ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে, মানে উজানে আসে তখন নদীর যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী খায়। ইলিশ মাছ তার কারণে তার শরীর বেটে ও মোটা হয়। নদীর ইলিশ তুলনামূলক স্বাদ ভালো হয়। কারণ, সমুদ্র থেকে ইলিশ নদীতে ঢোকার পরে নদীর উজানে মানে স্রোতের বিপরীতে যখন চলে, সে সময় এদের শরীরে ফ্যাট বা চর্বি জমা হয়। এই ফ্যাট বা তেলের জন্যই ইলিশের স্বাদ হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮৬ শতাংশই বাংলাদেশে আহরণ করা হয়।

আর বাংলাদেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৬০ ভাগ আসে বরিশাল অঞ্চল থেকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার টন। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ সমাপ্ত অর্থবছরে সেই রেকর্ড ভেঙে এখন পর্যন্ত ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ ৩৩ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত ১১ বছরের ব্যবধানে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ।

তথ্যানুযায়ী, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। বর্তমানে ১২৫ থেকে ১৩০টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে ইলিশের অভয়াশ্রম।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ নানা দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়। ইলিশের জীবনচক্র বেশ বৈচিত্র্যময়। খাদ্য বিষয়ক লেখক শওকত ওসমান জানান, ইলিশ সমুদ্র থেকে এসে নদীতে ডিম ছাড়ার পর বাচ্চা ইলিশ আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। অন্য সব মাছের চেয়ে ইলিশের প্রজনন ক্ষমতা বেশি।

বড় আকারের একটি ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ইলিশ সারা বছর ডিম পাড়লেও সবচেয়ে কম পাড়ে ফেব্রুয়ারি-মার্চে এবং সবচেয়ে বেশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। ইলিশ নীল-সবুজ শৈবাল, ডায়াটম, ডেসমিড, কোপিপোড, রটিফার ইত্যাদিও খেয়ে থাকে। তবে এদের খাদ্যাভ্যাস বয়স ও ঋতুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পুষ্টিগুণে ইলিশ অনন্য।

১০০ গ্রাম ইলিশে প্রায় ২১ দশমিক ৮ গ্রাম প্রোটিন। ১৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৩.৩৯ গ্রাম শর্করা, ২.২ গ্রাম খনিজ ও ১৯.৪ গ্রাম চর্বি। তাছাড়া আরও রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ওমেগা তিন ফ্যাটি এসিড, নায়াসিন, ট্রিপ্টোফ্যান, ভিটামিন, বি ১২, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসহ অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেলস। আরও আছে জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, আয়রন, সেলেনিয়ামের মতো খনিজও রয়েছে ইলিশ মাছে। জিঙ্ক ডায়াবেটিস রোগীদের পক্ষে খুব ভালো। সেলেনিয়াম অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করে। ইলিশ মাছে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই।

ইলিশ মাছে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ একেবারেই কম। অন্য দিকে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে হার্ট থাকে সুস্থ। ইলিশ মাছে রয়েছে আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম। এছাড়া ভিটামিন এ ও ডি-র চমৎকার উৎস হল ইলিশ মাছ।

মস্তিষ্কের ৬০ শতাংশই তৈরি ফ্যাট দিয়ে। যার অধিকাংশই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। যারা নিয়মিত মাছ খান তাদের বয়সকালে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেক কম দেখা যায়। শিশুদের মস্তিষ্কের গঠনেও সাহায্য করে ডিএইচএ। ইলিশ মাছ তেলে ভাজলে ফ্যাট ক্যালারির পরিমাণ বেড়ে যায়।

ইলিশে কারও কারও অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। ইলিশ খাওয়ার বেলায় এই বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। এক জরিপে দেখা গেছে, মাওয়া ঘাটের হোটেলগুলোতে শতকরা ৯০ ভাগই ইলিশের নাম করে সার্ডিনসহ অন্য মাছ বিক্রি করা হয়। তাই মাওয়ায় ইলিশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ঢাকার কারওয়ানবাজার, যাত্রাবাড়িসহ বেশ কিছু জায়গায় ইলিশের পাইকারি বাজার। এসব জায়গা থেকে কম দামে ভালো ইলিশ কেনা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x