শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

ইতিহাসের পাতায় ১৭ই রমজান

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০২২

রমাদান মাসের ১৭তম দিন, আজ একটি বিশেষ দিন, আজকের দিনে বদরের যু-দ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ, হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের ১৭ রমাদ্বান ৩১৩ জন সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে মহানবী ﷺ মদিনা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ৮০ মাইল দূরে বদর নামক স্থানে অমুসলিমদের সঙ্গে এক যু-দ্ধে অবতীর্ণ হন।

ঐতিহাসিক এদিনে, এসময়ে সেনাপতি ছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ। রাসূলুল্লাহ ﷺ যু-দ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আগে উভয় হাত তুলে ক্বিবলামুখী হয়ে প্রার্থনা করতে থাকলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি যদি এই জামা‘আতকে আজ ধ্বং-স করে দাও, তাহ’লে এই যমীনে তোমাকে ডাকার মত আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না‘। (সহীহ্ মুসলিম : ১৭৬৩)

রাসুল ﷺ -এর এই দোয়া থেকেই স্পষ্ট হয়, বদর যু-দ্ধের প্রেক্ষাপট কী ভয়াবহ ছিল! মহান আল্লাহ জমিনের বুকে সেদিন ফেরেশতা প্রেরণ করে মুসলিমদের সাহায্য করেছিলেন। জীব্রাঈল আঃ, মিকাঈল আঃ, ঈসরাফীল আঃ বদর যু-দ্ধে মুসলিমদের পক্ষে লড়াই করেছিলেন। [মুসনাদে আহমদ ১/১৪৭; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস : ৩২৬১৭]

যদিও এটি ক্ষুদ্র একটি যু-দ্ধ ছিল, কিন্তু এর প্রভাবে বিশ্বের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বাতাসের গতি পরিবর্তন হয়ে যায়।
মহানবী ﷺ -এর সঙ্গে জনবল ছিল মাত্র ৩১৩ জন। এর মধ্যে ৭০ জন মুহাজির ও বাকিরা আনসার। অন্যদিকে কা-ফের কুরাইশ বাহিনীর সংখ্যা ছিল এক হাজার। তন্মধ্যে ১০০ জন অশ্বারোহী, ৭০০ জন উষ্ট্রারোহী ও বাকিরা পদব্রজী ছিল। সত্যপথের অনুসারী অল্পসংখ্যক রোজাদার মুসলমান বিশাল অ-স্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত মিথ্যার অনুসারী অমু-সলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে যু-দ্ধে জয়লাভ করায় সত্য-মিথ্যার চিরপার্থক্য সূচিত হয়ে যায়। তাই এ দিনকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের দিন বলা হয়।

কেউ আল্লাহর হলে আল্লাহও তার হয়ে যান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কুরাইশ পুরাপুরি পরাজিত হল। তাদের বড় বড় নেতা মারা গেল। আবু জাহল— (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শত্রুতায় যার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি) — নিহত হল। তাদের ৭০জন মুসলমানদের হাতে গ্রেফতার হল। তারা সবাই ছিল রাসূলের বড় শত্রু। মক্কায় তারা নবীজীকে অনেক কষ্ট দিয়েছিল এবং মুসলমানদের প্রতি অনেক জুলুম করেছিল। অন্য কেউ হলে চরম প্রতিশোধ নিত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অতি দয়ালু। তিনি তাদেরকে সামান্য কষ্টও দেননি। এমনকি মুসলমানদেরকে সতর্ক করে দিলেন যেন তাদের কোনো কষ্ট না হয়। যাদের কাছে পরিধানের কাপড় ছিল না তাদেরকে কাপড় দিয়েছেন। সাহাবীগণ নিজেরা খেজুর খেয়ে দিন পার করলেও বন্দিদেরকে রুটি খাওয়াতেন। এভাবে কিছুদিন আরাম ও নিরাপদে রাখার পর মুক্তিপণ নিয়ে সবাইকে মুক্ত করে দেওয়া হল।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী ﷺ এবং তার সেসকল বদরী সাহাবীদের উপর, যারা আত্মত্যাগের মাধ্যমে ইসলামকে করেছেন সমুন্নত।
اللهم صل علی سیدنا محمد وعلی اله اصحابه وبارک وسلم

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: