রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন

ইসলামের আলোকে নবজাতকের পরিচর্যা

মুফতী মাহমুদ হাসান
  • আপডেট টাইম : শনিবার ১১ জুলাই, ২০২০
  • ৭০৪

আমরা মুসলমান, ইসলাম আমাদের ধর্ম। আর ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। এতে আছে মানুষের জন্মলগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তের দিকনির্দেশনা । প্রতিটি কাজেরই রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু আদব ও সুন্নাত। একটু খেয়াল করলে আমাদের দৈনন্দিন করা ছোট ছোট কাজ নেক আমলে পরিণত হতে পারে। বৈবাহিক জীবনে সবচেয়ে বড় নেয়ামত সন্তান। সন্তান ভূমিষ্ঠের সময়ও কিছু নির্দিষ্ট সুন্নাত ও আদব রয়েছে

আমরা কজন আছি যারা এই সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের সূচনালগ্নে ইসলামী আদর্শের অনুশীলন করি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাতলানো সব সুন্নত পালন করি? পরিতাপের বিষয় আমরা অনেকেই তা করি না। এর কারণ সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে আমাদের উদাসীনতা। তবে এটাও ঠিক যে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে না জানার কারণে তা করতে সক্ষম হয় না।

আবার কেউ কেউ এক্ষেত্রে ইসলামী আদর্শকে ত্যাগ করে বিধর্মী অমুসলিমদের অনুসরণ করে, অথচ তারা মুসলিম। যেমন জন্মদিন পালন, কেক কাটা ইত্যাদি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর সাথে নেই কোন ইসলামের সম্পর্ক। বরং এটা মুসলিম জাতির অধঃপতনের আলামত এবং নিজ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

আমি এই প্রবন্ধে কোরআন হাদিসের আলোকে সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে আলোচনার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ। হয়তো কোন মুসলিম ভাই বিধর্মী এবং কাফেরদের অনুসরণ ত্যাগ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করবে।  নিজ সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলবে।

১. সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে আল্লাহর প্রশংসা করা

সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে আল্লাহর প্রসংশা করা ও তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা এবং সন্তানের জন্য কল্যাণের দোয়া করা। যেভাবে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম দোয়া করেছিলেন-        الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ📖 ۚ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ – رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ – رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ‘

সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বৃদ্ধ বয়সে আমাকে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয় আমার রব দোয়া শ্রবণকারী। হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও, হে আমাদের রব! আমার দোয়া কবুল করুন। হে আল্লাহ! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (📖সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩৯-৪১)

২. নবজাতকের কানে আযান দেওয়া

ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্রই প্রথমে নবজাতককে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ডান কানে আজান ও বাঁ কানে ইকামত দেওয়া।

ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্যই আজান দেবার বিধান সমান। প্রসূত বাচ্চার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেয়া সুন্নত।

📖عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” مَنْ وُلِدَ لَهُ مَوْلُودٌ فَأَذَّنَ فِي أُذُنِهِ الْيُمْنَى، وَأَقَامَ فِي أُذُنِهِ الْيُسْرَى رُفِعَتْ عَنْهُ أُمُّ الصَّبِيَّاتِ

হযরত হাসান বিন আলী রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যার সন্তান হয়, তারপর লোকটি সন্তানের ডান  কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেয়, তাহলে তাকে উম্মুস সিবয়ান ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারবে না। [📖শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮২৫৪, আলআযকার লিননাবাবী, হাদীস নং-৮৩৮]

📖عن حسين قال : قال رسول الله – صلى الله عليه و سلم – : من ولد له فأذن في أذنه اليمنى وأقام في أذنه اليسرى

হযরত হুসাইন রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে,যার সন্তান হয়,সে যেন তার ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামত দেয়। {📖শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮৬১৯, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৬৭৮০, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,হাদীস নং-৭৯৮৫

📖عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَذَّنَ فِي أُذُنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلَاةِ

হযরত উবায়দুল্লাহ বিন আবী রাফে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ফাতিম রাঃ যখন হাসান বিন আলী রাঃ কে প্রসব করলেন, তখন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হযরত হাসান বিন আলীর কানে সালাতের আজানের মত আজান দিতে দেখেছি। [📖সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫১০৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৫১৪]

যদি কোন পুরুষ না থাকে, তাহলে মহিলারাও আজান দিতে পারবে।মা যদি নেফাসগ্রস্থ না হয়, তাহলে তিনিও আজান দিতে পারবেন। [📖ফাতাওয়া মাহমূদিয়া-৯/১৬০]}

৩. তাহনীক করা

তাহনীক করা সুন্নত।তাহনীক বলা হয় নেককার ব্যক্তি কর্তৃক মধু, খেজুর ইত্যাদি চিবিয়ে বাচ্চার মুখে দেয়া। তাহনীক বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর আগে করা ভালো যেন প্রথম খাবারটা কোন বুযুর্গ ব্যক্তির বরকতি মুখের হয়ে যায়। যেমন হাদিসে এসেছে

📖عن أبي موسى رضي الله عنه قال : ( ولد لي غلام فأتيت به النبي صلى الله عليه وسلم فسماه إبراهيم فحنكه بتمرة ودعا له بالبركة )

আবু মুসা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- “আমার ছেলে সন্তান হলে আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসি, তিনি তার নাম রাখেন ইব্রাহীম এবং খেজুর দ্বারা তাহনীক করেন এবং তার জন্য বরকতের করেন, তার পর সন্তানকেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন।” (📖বুখারী-হাদীস নং৫৪৬৭, মুসলিম- হাদিস নং ২১৪৫)

৪. নবজাতকের সুন্দর অর্থবোদক নাম নির্ধারণ করা

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নবজাতকের সুন্দর অর্থবোদক নাম নির্ধারণ করা। হাদীসে এর অনেক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

📖 عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَ وَسَلَّم : ( إِنَّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ فَأَحْسِنُوا , سنن أبي داود [4948] بإسناد جيد

হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন নিশ্চয়ই কেয়ামতের দিন তোমাদের এবং তোমাদের পিতার নামে তোমাদেরকে ডাকা হবে সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখ।(📖আবু দাউদ শরীফ ৪৯৪৮)

৫. সপ্তম দিনে আকীকা করা

১_আকীকা করা মুস্তাহাব।সপ্তম দিনে আকীকা করা সুন্নত।

📖عن النبي ﷺ أنه قال: كل غلام مرتهن بعقيقته تذبح عنه يوم سابعه ويحلق ويسمى، فالسنة حلق رأسه يوم السابع هذه السنة، والتسمية كذلك والعقيقة، وهي شاتان في حق الذكر، وشاة واحدة في حق الأنثى، هذا هو السنة فينبغي العمل بها وتنفيذها.

২_আকীকার মধ্যে ছেলে সন্তানের জন্য দু’টি বকরি আর মেয়ে সন্তানের জন্য একটি বকরি জবাই করা যেমন হাদিসে এসেছে।

📖1371- وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَمَرَهُمْ أَنْ يُعَقَّ عَنِ الْغُلَامِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ، وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ.

আকীকার মাসয়ালা

১_ছেলের জন্য দু’টি বকরি সম্ভব না হলে একটিই যথেষ্ট। 📖রদ্দুল মুহতার ৫/২১৩

২_সপ্তম দিনে আকীকা করা সম্ভব না হলে চৌদ্দতমদিন,বা একুশতম দিনে করবে।এর পরেও করা যায়। তবে সপ্তম দিনে আকীকা করা সুন্নত।যত তাড়াতাড়ি করা সম্ভব করেনিবে। 📖বজলুল মাজহুদ৪/৮২

৩_আকীকা করার দ্বারা বালা মুসিবত বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাওয়া।📖 বুখারী শরীফ ২/৮২২

৪_তাই যে ব্যক্তি আকীকা করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন অবশ্যই আকীকা করে। আর যার সামর্থ্য নেই তার উপর আকীকা জরুরী নয়।

আকীকা করা মুস্তাহাব। কেউ যদি আকীকা না করে তাহলে সে গুনাহগার হবে না।📖ফাতাওয়া রহীমিয়া ২/৯১

৫_আকীকার গোস্ত কাঁচা বণ্টন করা বা রান্না করে বণ্টন করা অথবা দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো কিংবা কাউকে না খাওয়ানো সবই জায়িয আছে।আর আকীকার গোস্ত ধনী-গরিব সবাই খেতে পারবে। 📖রদ্দুল মুহতার ৫/২১৩

৬_উল্লেখ্য যে আকীকার গোস্ত বাচ্চার মা বাবা পরিবারের সকল সদস্য খেতে পারবে।

৭_আকীকার চামড়ার মূল্য কুরবানীর চামড়ার ন্যায় সদকা করে দিতে হবে।

৬. নবজাতকের মাথা মুণ্ডন এবং চুলের ওজন বরাবর রৌপ্য দান করা

জন্মগ্রহণের সপ্তম দিনে নবজাতক সন্তানের চুলগু মুণ্ডন করা ও চুলের ওজন বরাবর রৌপ্য বা ততমূল্য সদকা করা সুন্নত।

📖رواهالترمذي عن علي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن بشاة وقال: “يا فاطمة احلقي رأسه وتصدقي بزنة شعره فضة” وهذه الصدقة على الفقراء

আলী রা. বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসানের পক্ষ হতে ছাগল আকীকা করেন এবং ফাতেমা রাযি. কে বলেন- তার মাথা মুণ্ডন করো এবং চুলের ওজন বরাবর রৌপ্য সদকা করো”। (📖তিরমিযী, অধ্যায়, আযাহী, হাদীস নং ১৫১৯)

৭. খতনা করা

খতনা করা সুন্নত। এটা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়ার বা নিদর্শন।

📖عن ابي هريرة رضي الله عنه قال سمعت النبي صلي الله عليه و سلم يقول الفكرة خمس الختان و الاستحداد و قص الشارب و تقليم الاظفارونتف الاباط📖  البخاري 5891 مسلم 257

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “পাঁচটি বিষয় স্বভাবগত, খতনা করা, নাভির নিচের চুল পরিষ্কার করা, মোচ কর্তন করা, নখ কর্তন করা এবং বগলের লোম ছিঁড়ে ফেলা”। (📖বুখারী, হাদিস নং ৫৮৯১, মুসলিম, অধ্যায়, ত্বাহারাহ )

খতনা করার নির্দিষ্ট কোন সময় সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়, তবে উলামায়ে কেরামের মতে সাবালক হওয়ার পূর্বে তা করে নেয়া উচিত। তবে সাত বছরের আগে করানো উত্তম ও মুস্তাহাব। 📖ফাতাওয়া আলেম গীরী ৫/৪৩৬

যদি বালেগ হওয়ার পূর্বে কারো খতনা না হয়ে থাকে বা কোনো অমুসলিম বালেগ হওয়ার পর মুসলমান হয়, তাহলে বালেগ হওয়ার পর খতনা করার হুকুম বাকী থাকবে এবং তাকে খতনা করানো হবে যদি তার মধ্যে খতনার কষ্ট সহ্য করার মতো ক্ষমতা থাকে।📖 ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২৩৮

৮. নবজাতকের সাথে যে কাজটি কখনো করবেন না

বদ নজর থেকে বাঁচতে ছোট বাচ্চাদের কপালের একপাশে আঙ্গুল দিয়ে কালো টিপ বা ফোটা এঁকে দেয়া হয়।বিশেষ করে নবজাতককে যখন ঘরের বাইরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয় তখন প্রত্যেক মা এ কাজটিকরেন।

সাবধান একাজটি কখনও করবেন না। ইসলাম কোনোভাবেই এটিকে সমর্থন করে না।

কালো ফোটা কিংবা টিপ বদ নজর থেকে নবজাতককে রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে না।

৯. বদ নজর বলতে কি কিছু আছে? 

বদনজরের বাস্তবতা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত
১। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেনঃ
📖عن ابى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم العين حق
বদ নজর সত্য। (📖বুখারীঃ ১০/২১৩)
অর্থাৎ এর বাস্তবতা রয়েছে, এর কুপ্রভাব লেগে থাকে।

২। আয়েশা সিদীকা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
استعيذوا بالله من العين فإن العين حق📖
তোমরা বদ নজরের ক্রিয়া (খারাপ প্রভাব) থেকে রক্ষার জন্যে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য প্রার্থনা কর। কেননা তা সত্য। (📖ইবনে মাযাহঃ ৩৫০৮)

📚👉বদ নজর থেকে বাচার উপায় কি
1️⃣_হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমার জন্য বদনজর থেকে বাঁচার জন্য দোয়া পড়েছেন

أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَّمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

অর্থ : সব শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদনজর থেকে তোমাদেরকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি।📖বুখারীঃ ৩৩৭১

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَيَعْلَى، 📖عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ يَقُولُ ‏”‏ أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ ‏”‏ ‏.‏ وَيَقُولُ ‏”‏ هَكَذَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يُعَوِّذُ إِسْحَاقَ وَإِسْمَاعِيلَ عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ ‏”‏ ‏.‏ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

2️⃣_শিশুকে বদ নজর ইত্যাদি থেকে রক্ষা করার জন্য এই দোয়াটি পড়েও ফু দেয়া যেতে পারে। হাদীসে এসেছে, জিবরীল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে এই দোয়ার মাধ্যমে ঝাড়তেন।
بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
“আমি আপনাকে আল্লাহর নামে ঝাড়-ফুঁক করছি প্রতিটি এমন জিনিষ হতে, যা আপনাকে কষ্ট দেয় এবং প্রত্যেক জীবের অমঙ্গল হতে ও হিংসুকের বদ নজর হতে আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। আমি আপনাকে আল্লাহর নামে ঝাড়-ফুঁক করছি।” (মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সালাম)

3️⃣_পাশাপাশি আয়াতুল কুরসী, তিন কুল ও হাদীসের অন্যান্য  দোয়াও এক্ষেত্র প্রয়োগ করা যেতে পারে ।

১০. বদ নজরে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা

প্রথমত: কোন ব্যক্তির নযর লেগেছে তা যদি জানা যায়, তবে তাকে ওযু করতে বলতে হবে। অতঃপর উক্ত অযুর পানি দ্বারা বদনযরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে গোসল করাতে হবে। (📖সহিহ মুসলিম ৫/৩২)

দ্বিতীয়ত: যদি তাকে জানা না যায়, তবে নিম্নলিখিত আয়াত ও দুআ সমূহ পড়ে বদনযরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঝাড়-ফুঁক করা।

☑️ক) সূরা ফাতিহা,☑️খ) আয়াতুল কুরসী (সূরা বাক্বারার ২৫৫নং আয়াত)☑️গ) সূরা বাক্বারার শেষের দুটি আয়াত (২৮৫ ও ২৮৬ নং আয়াত),☑️ঘ) সূরা ইখলাস☑️ঙ) সূরা ফালাক,☑️চ) সূরা নাস

চিকিৎসার দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ

রোগীর মাথায় হাত রেখে নিম্নের দু’আ পড়ুনঃ
بسم الله أرقيك ولله يشفيك من كل داء يؤذيك ومن كل نفس أو عين حاسد الله يشفيك بسم الله أرقيك
অর্থঃ আল্লাহর নামে তোমায় ঝাড়-ফুক করছি। আর আল্লাহই তোমাকে কষ্টদায়ক রোগ থেকে মুক্তি দিবেন। আর সকলের অনিষ্ট ও হিংসুক বদ নজরকারীর অনিষ্ট থেকে তোমাকে আরোগ্য দিবেন। আল্লাহর নামে তোমাকে ঝাড়ছি। (📖মুসলিমঃ ২১৮৬)

তৃতীয় পদ্ধতিঃ

রোগীর মাথায় হাত রেখে এই দু’আ পড়ুনঃ
بسم الله يبريك من كل داء يشفيك ومن شر حاسد اذا حسد ومن شر كل ذى عين
অর্থঃ আল্লাহর নামে ঝাড়ছি, তিনি তোমাকে মুক্ত করবেন এবং তিনিই প্রত্যেক রোগ থেকে তোমাকে আরোগ্য দিবেন এবং হিংসাকারীর হিংসার অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে এবং সকল বদ নজরের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তোমায় রক্ষা করুক। (📖মুসলিমঃ ২১৮৬)

চতুর্থ পদ্ধতিঃ

রোগীর মাথায় হাত রেখে এই দু’আ পড়ুনঃ
اللهم رب الناس أذهب البأس واشف أنت الشافي لا شفاء إلا شفاؤك شفاء لا يغادر سقما
অর্থঃ হে আল্লাহ! মানবজাতির প্রভু তার কষ্ট দূর করে দাও এবং সুস্থ করে দাও। কেবল তুমিই রোগমুক্তির মালিক তোমার চিকিৎসা ব্যতীত আর কোন চিকিৎসা নেই তুমি এমন সুস্থ করে দাও যেন কোন রোগ না থাকে। (📖বুখারী কিতাবুত ত্বিব)
وعنها أن النبي صلى الله عليه وسلم الله عليه وسلم 📖الله عليه وسلم كان يعود بعض أهله يمسح بيده اليمني ويقول‏:‏ ‏”‏اللهم رب الناس، أذهب البأس، واشف، أنت الشافي لا شفاء إلا شفاؤك، شفاءً لا يغادر سقماً” ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

পঞ্চম পদ্ধতিঃ

বদনজরের রোগীর ব্যথার স্থানে হাত রেখে নিম্নের সূরা গুলো পড়ে ঝাড়বেঃ সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাসঃ
(قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ)
(قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَٰهِ النَّاسِ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নবজাতকের লালন-পালনের ক্ষেত্রে সমস্ত সুন্নত এবং ইসলামী নির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুক এবং শিশুকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন আমিন।

মুফতী মাহমুদ হাসান
*দারুল হাদীস (এম.এ,ইসলামিক স্টাডিস)
জামিয়াতুল আবরার বসুন্ধরা ঢাকা।
*দারুল ইফতা (ইসলামিক আইন ও গবেষণা বিভাগ) ঢাকা।
*আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ(অনার্স) ঢাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..