রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যবসায় প্রশাসন এখন শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় অন্যতম

সানজিদা হক প্রমা
  • আপডেট টাইম : শনিবার ২৭ মার্চ, ২০২১
  • ১৪৫৩ বার পঠিত

উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যবসায় প্রশাসন এখন শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় অন্যতম। সময়ের সঙ্গে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মপরিধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ব্যবসায় প্রশাসনে একজন স্নাতক (বিবিএ) তাঁর কর্মজীবনে আকর্ষণীয় বেতন, উন্নত সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটিয়ে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদগুলোতে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। কাজ করছেন বিশ্বব্যাংক থেকে শুরু করে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায়। দেশের দারিদ্র বিমোচনে রাখছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শিক্ষার্থীরা দুই ধরনের কাজ করতে পারেন। উদ্যোক্তা হয়ে নিজের মতো কাজ করা, নয়তো অন্যের অধীনে চাকরি করা। উদ্যোক্তা হতে আর্থিক মূলধন দরকার হওয়াতে পড়াশুনা শেষে বিশেষায়িত কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করাই থাকে এই বিষয়ের শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য। সফল ব্যাংকার হওয়ার জন্যও অনেকে বিবিএতে পড়েন।

বিভাগ সংস্লিষ্টরা বলছেন, চাকরির ক্ষেত্রে ব্যবসায় প্রশাসনের একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা স্তর তাঁর অন্যান্য যোগ্যতা উপর নির্ভর করে। দেখা যায়, একজন ব্যাক্তির স্নাতক বা মাস্টার ডিগ্রী আছে। কিন্তু অন্যজনের স্নাতকের পাশাপাশি কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। সে কর্মদক্ষতা প্রমাণ করেছে। তখন নির্দিষ্ট চাকরির জন্য যোগ্যতার বিচারে সে এগিয়ে যাবে। আমাদের সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকে না। হাতেকলমে অভিজ্ঞতার অভাবে পিছিয়ে পড়েন। এসব বিষয় চিন্তা করে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তাও ভবিষ্যত বাংলাদেশের উপযোগী দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে আইএসইউ উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল আউয়াল খান বলেন, ‘ভবিষ্যতের ভালোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাবজেক্টই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ক্ষেত্রে বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন সামনের সারির। অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে বিবিএতে ক্যারিয়ার গড়া সহজ ও সুযোগ বেশি। এই বিষয়ে অনেক স্নাতক বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। যে সুযোগ করে দিচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। বিবিএতে তাত্ত্বিক বিষয়ের চেয়ে ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক বিষয় বেশি প্রয়োজনীয়। তাই আমরা এধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি।’

এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারর্পাসন অলি আহাদ ঠাকুর বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের উপযোগী দক্ষ ও যোগ্য মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টকে সাজানো হয়েছে। প্রচলিত ধারণার বাইরে এবং আন্তর্জাতিক মানকে সামনে রেখে আমাদের বিভাগের পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দের গবেষণা কার্যক্রমকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেশি ও বিদেশী বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বিশবিদ্যালয়ের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখেছে। এছাড়াও ‘স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের’ বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপ ও যোগ্যতাসম্পন্ন গ্রাজুয়েটদের চাকরি দিতে প্রস্তুত।’

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি অনুষদের অধীনে মোট ৪টি বিভাগ চালু রয়েছে। এরমধ্যে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অন্যতম। এ অনুষদের অধীনে রয়েছে, ব্যাচেলর অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) ও মাস্টার্স অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ)। এছাড়াও ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। আর ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ এন্ড সোস্যাল সাইন্সেস এর অধীনে বিএ (অনার্স) ইন ইংলিশ, এম এ ইন ইংলিশ এন্ড কালচারাল স্টাডিজ। একই অনুষদের অধীনে কোর্স অন প্রি-ইউনিভার্সিটি ইংলিশ পরিচালিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটিতে আকর্ষণীয় স্কলারশীপ, বৃত্তি এবং ওয়েভার প্রদান করা হয়। যারমধ্যে পূর্ণ অনুদান (১০০%) থেকে শুরু করে আংশিক মওকুফসহ শিক্ষার্থীদের মোট ১৪টি ক্যাটেগরিতে স্কলারশীপ, বৃত্তি এবং ওয়েভার প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। রয়েছে হাতেকলমে শিক্ষাদানের জন্য আধুনিক দুটি ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রি ল্যাব। এছাড়াও কম্পিউটার ল্যাব, টেক্সটাইল ল্যাব ও ল্যাংগুয়েজ ল্যাবও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মদক্ষতার কথা চিন্তা করে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইকিউএসি (ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল) গঠন করে। ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পৃতি আইএসইউ সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড পাবলিকেশন নামে একটি গবেষনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে যার অধিনে দুটি আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। জানুয়ারী-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর বছরে দুটি সেমিস্টারের মাধ্যমে আইএসইউ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আরো তথ্যের জন্য আইএসইউ এর ওয়েবসাইট  www.isu.ac.bd ভিজিট করুন বা ০১৩১৩০৩৭০৭০, ০১৩১৩০৩৭০৭১, ০১৩১৩০৩৭০৭৮ নম্বর এ যোগাযোগ করতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..