সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

ওমরাহযাত্রীর শিশুর এক বছরের দায়িত্বভার নিয়েছে মক্কার হাসপাতাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫৬ বার পঠিত

ওমরাহযাত্রীর সদ্যোজাত শিশুর এক বছর চিকিৎসার পর আরো এক বছরের দায়িত্ব ভার নিয়েছে মক্কার মা ও শিশু হাসপাতাল। এক বছর চিকিৎসা শেষে গত শুক্রবার আবদুল্লাহ নামের শিশুটি পাকিস্তানের কুয়েতায় বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যায়।

ওমরাহ পালন করতে এসে গত বছরের ৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের বিবি হাজরার অকালপক্ক শিশু জন্মগ্রহণ করে। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে হাসপাতালের বিশেষ তত্ত্বাবধানে শিশুটি চিকিৎসাধীন ছিল।

গত বছর করোনা মহামারি প্রাদুর্ভাবের আগে ওমরায় এসে হাজরা সদ্যোজাত শিশুকে নার্সারিতে রেখেই দেশে ফিরতে বাধ্য হন। করোনা মহামারিতে সংক্রমিত হওয়ার আশংকায় শিশুর মা আর সৌদি যেতে পারেননি।

গত ১৪ জানুয়ারি পাকিস্তান কনস্যূলেটের পক্ষ থেকে সাকিব আলি খানের কাছে হাসপাতালের নির্বাহি পরিচালক ডা. হিলাল আল মালিকি শিশুকে হস্তান্তর করেন।

আরব নিউজকে হাজরা বলেন, ‘হাসপাতালে শিশুকে রেখে আমাদেরকে পাকিস্তানে ফিরে আসতে হয়েছিল। কারণ আমাদের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছিল। এরপর করোনার কারণে আর যেতে পারিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই শিশুর বিষয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব সময় আমাদের সঙ্গে ছিল। তারা আমাকে ভিডিওর মাধ্যমে আবদুল্লাহকে দেখাত এবং তার ছবি পাঠাত। সৌদি সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স ও পাকিস্তান কনস্যূলেটের সহযোগিতায় আমরা খুবই কৃতজ্ঞ।’

শিশুর বাবা গোলাম হায়দার বলেন, ‘আমার শিশু সন্তান গত এক বছর যাবত চিকিৎসাধীন ছিল। কিন্তু আমাদেরকে সামান্য পয়সাও ব্যয় করতে হয়নি। সব খরচ সৌদি সরকার বহন করেছে।’

শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও যত্ন নেওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কতৃজ্ঞতা জানায় পাকিস্তান কনস্যূল। তাছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্যাবলি নিয়মিত পরিবারকে নিশ্চিন্তে রেখেছে।

ডা. আল মালিকি জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই সিজারের মাধ্যমে পাকিস্তানি ওমরাহযাত্রী শিশুটির জন্ম দেন। ডেলিভারি সময় শিশুর ওজন ছিল মাত্র এক কেজি। ভ্যান্টিলেটরে রেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল শিশুর চিকিৎসা অব্যাহত রাখেন। ৪৬ দিন পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা প্রদানের পর শিশুর স্বাস্থ্যজনিত অবস্থার উন্নতি হয়। এখন তাকে দেশে ফেরানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র : সৌদি গেজেট

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..