রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৯:০৭ অপরাহ্ন

কঠোর বিধিনিষেধে শুরু হলো হজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার ১৮ জুলাই, ২০২১
  • ৩৭ বার পঠিত

করোনার সংক্রমণ এড়াতে মুসল্লিরা ২০ জনের ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আলাদাভাবে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন। দিনভর কাবা প্রাঙ্গণে স্যানিটাইজার ছিটানোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছে রোবট। মুসল্লি ও তাদের সেবাদানে নিয়োজিত কর্মীদের পবিত্র জমজমের পানিও দেয়া হবে রোবটের মাধ্যমে।

আজ শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এ বছরও রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে হচ্ছে মুসল্লিদের।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পবিত্র নগরী মক্কায় শনিবার সকাল থেকেই পৌঁছাতে শুরু করেন মুসল্লিরা। সন্ধ্যায় কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন তারা।

মুসলিমদের সর্ববৃহৎ বার্ষিক এ মিলনমেলায় করোনা পূর্ববর্তী স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছর গড়ে অংশ নিতেন সারা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মানুষ। ২০১৯ সালে রেকর্ড ২৫ লাখ মানুষ হজ করেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সীমিত পরিসরে হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নাগরিক, অভিবাসীসহ শুধু সৌদি আরবে বসবাসরত ৬০ হাজার মানুষ এ বছর হজে অংশ নিচ্ছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ হাজার।

হজ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দুই ডোজ টিকা গ্রহণের শর্তে হজের অনুমতি পেয়েছেন হজযাত্রীরা। বয়স সীমিত করে দেয়া হয়েছে ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে, থাকতে পারবে না কোনো গুরুতর অসুস্থতা বা রোগের ইতিহাস। মাস্ক পরাসহ নানা রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হবে তাদের।

মক্কায় পৌঁছে শনিবার হজের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন তারা। আল-জাইদি স্টেশন থেকে ১ হাজার ৭৭০টি বাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় মসজিদ আল-হারামে। সেখানে তাদের হজের অনুমতিপত্র দেখে প্রশাসন; প্রত্যেকের স্মার্টফোনে অ্যাপ থেকে শাইর স্মার্টকার্ড ডাউনলোড করতে বলা হয়।

অ্যাপটিতে মুসল্লিদের ব্যক্তিগত ও বাসস্থানবিষয়ক বিস্তারিত তথ্য, হজের আবেদনপত্র ইত্যাদি দেখা যাবে। আর শাইর স্মার্টকার্ডে স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য দেখা যাবে।

একই সঙ্গে এই অ্যাপ ও স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে মুসল্লিরা হজসংশ্লিষ্ট সেবার বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ, মক্কা থেকে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতে পরিবহন ব্যবস্থাসহ নানা সুবিধা পাবেন।

গত বছর মহামারির সময় আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে সীমিত পরিসরে হজ হয়েছে সৌদি আরবে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিকতায় হাজিদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ঘটেনি সেবার। এ বছরও সে সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়ে আশাবাদী সৌদি প্রশাসন।

করোনার সংক্রমণ এড়াতে মুসল্লিরা এবার ২০ জনের ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আলাদাভাবে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন। করোনায় কেউ আক্রান্ত হলেও তার সংস্পর্শ আসা ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নেয়া হয়েছে এমন ব্যবস্থা।

দিনভর কাবা প্রাঙ্গণে স্যানিটাইজার ছিটানোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছে রোবট।

মুসল্লি ও তাদের সেবাদানে নিয়োজিত কর্মীদের পবিত্র জমজমের পানিও দেয়া হবে রোবটের মাধ্যমে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..