সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

কারও ক্ষমতা থাকলে মসজিদ-মাদরাসায় হাত দিয়ে দেখাক: শামীম

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার ২১ মার্চ, ২০২১
  • ১২২ বার পঠিত

আমি একা আছি, কারও ক্ষমতা থাকলে মসজিদ ও মাদরাসায় হাত দিয়ে দেখাক বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।
শনিবার (২০ মার্চ) রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে ওলামা পরিষদ উদ্যোগে আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, আমি চুপ করে থাকলে আমার মৃত্যুর পর আল্লাহ আমাকে ধরবেন যে ‘আমি তোকে বানাইসি তুই কী করসোস’।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ সম্মান প্রদানকারী এবং আল্লাহই সম্মান কেড়ে নিতে পারেন। সেই আল্লাহর ঘরে যদি আঘাত আসে আর আমি চুপ করে বসে থাকি তাহলে মৃত্যুর পর আমাকে তার জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে আমার বাসার সামনেই বাগে জান্নাত মসজিদটি। আমি ছোট বেলায় সেখানে খেলেছি। সেখানে একটি কবরস্থান ছিলো। যেখানে অনেক কামেল লোকের কবরও ছিল। সেখানে মসজিদ ও মাদরাসা হয়েছে। পর্চায় লেখা আছে, এখানে কবরস্থান ছিলো এবং এই জায়গা শুধু ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় কাজে ব্যবহার হবে। তাই হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে এক মহিলা আছেন, তিনি গিয়ে বললেন মসজিদ ও মাদরাসা ভাঙতে হবে। মসজিদটি ভেঙে পেছনে নেওয়া হবে আর মাদরাসা উঠিয়ে দেওয়া হবে। মাদরাসা উঠিয়ে সেখানে পার্ক করবেন, মসজিদের নিচে দোকান করবেন। ধর্মে আছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা বাজার আর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট জায়গা মসজিদ।

প্রধানমন্ত্রী সারা বাংলাদেশে একসঙ্গে ৫৬০টি মডেল মসজিদ করছেন। নারায়ণগঞ্জের মণ্ডলপাড়ায় ৮৩ শতাংশ জায়গা আছে ওয়াকফার। সেখানে ৫৪৮ বছর পুরানো একটা মসজিদ আছে। ওয়াকফার নেতাদের ডেকে জায়গার জন্য জেলা প্রশাসক অনুরোধ করলেন। তারা ওই মসজিদটি রেখে জায়গার অনুমতিও দিলেন। ওই মহিলা তখন ফোন করে জায়গাটা চাইলেন। তারা তখন বললেন এখানে হাত দিও না এটা আল্লাহর সম্পত্তি। যেই ওই লোক বিদেশে গেলেন, তারা সেখানে জোর করে ঢুকে গেলেন। তারা আমার কাছে এসে কাগজ দেখালেন। কোর্টও তাদের পক্ষে গেল। পরে তিনি বললেন সামনে তিনি পার্কিং স্পেস বানাবেন। আসলে তার লক্ষ্য দোকান বানানো কারণ দোকান হলেই বিক্রি করা যায়। নারায়ণগঞ্জের আলেমদের আওয়াজ নেই কেন? মোদির দেশে কী হইসে তা নিয়া হাত পা কাইটা ফালাইতে চান।

নারায়ণগঞ্জে একটা নিষিদ্ধ পল্লি ছিলো। আল্লাহ আমাকে দিয়ে সে পাপ মোচন করিয়েছেন। তখন থেকেই বিভিন্ন ইমাম আলেমদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। তাই তাদের ওপর এত আঘাত। কেন? ওইখানে কী আত্মীয় স্বজন বেশি ছিল? আউয়াল সাহেবকে (হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর) ‘ট্রাপ’ করা হল। রেকর্ডেই তাকে কত কথা বলল আপনারা শুনেছেন। সেখানে তিনি বললেন মাদরাসা একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আমিতো জানি মাদরাসায় আল্লাহর কোরআন শিক্ষা হয়। মাদরাসায় মানুষের সদকায়ে জরিয়া হয়। সেখানে কোন কথা নাই কোন রাশিয়ায় কী হয় তা নিয়ে তুলকালাম হয়ে গেল। নারায়ণগঞ্জের এতো আলেম গেল কই? ভেবেছিলাম কথাগুলো পরে বলবো। আজকে বললাম কারণ কালকে নাও থাকতে পারি।

যারা সংখ্যালঘু তাদের রক্ষার দায়িত্ব মুসলমানদের। ওয়াকফার সম্পত্তি যেমন রেজিস্ট্রার হয় না তেমনি দেবোত্তর সম্পত্তিও রেজিস্ট্রার হয় না। একাত্তরে কয়েক ধরনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কেউ দেশ বাঁচাতে যুদ্ধ করেছেন, কেউ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, কেউ লুটেরা মুক্তিযোদ্ধা। আমি সব দেখেছি, মনে আছে। এত ভুয়া সম্পদ কোথা থেকে আসে।

তিনি বলেন, দেশকে নিয়ে খুব ষড়যন্ত্র হচ্ছে। খুব ভয়ংকর খেলা হচ্ছে। আপনারা সবাই এই দেশের জন্য কাজ করার চেষ্টা করবেন। এ সময় নিজের মৃত ভাই, বাবা ও মা এবং তার পরিবারের সুস্থতা কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগ নেতা শাহ নিজাম, জাহাঙ্গীর, ওলামা পরিষদ নেতা মাওলানা ফৌরদাসুর রহমানসহ প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..