রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

ঘরে থেকে যোগ দিবস উদযাপনের আহ্বান

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার ২০ জুন, ২০২১
  • ৮৮ বার পঠিত

করোনাভাইরাস নামক এক ভয়ানক ব্যাধিতে আজ গোটা পৃথিবী ধুঁকছে। সারাবিশ্বে প্রচুর লোক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

দুখের বিষয় হলেও সত্য যে, প্রতিদিন এই ভাইরাসের কারণে মৃত্যুবরণকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যদিও গত বছরের শেষের দিকে এসে এই ব্যাধির প্রকোপ কিছুটা কমেছে, কিন্তু এ বছরে এসে এই রোগ আবার নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশার কথা হলো, ইতিমধ্যে এই রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়েছে।

করোনার সাথে আমাদের জীবনে আরও কিছু নতুন শব্দ যুক্ত হয়েছে। যেমন: হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, লকডাউন। লকডাউন নামক ছুটিতে যেমন জীবন-জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি ঠিক তেমনি এটা কোনো স্থায়ী সমাধানও নয়। সকল প্রতিকূলতার মাঝেও জীবন ও জীবিকার তাগিদে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তাই এ সময়টা কাজে লাগানোর জন্য যোগব্যায়াম বা ইয়োগা একটি ভালো মাধ্যম হতে পারে।

সীমাবদ্ধ ভ্রমণ, সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্ক এবং প্রতিদিনের উপাদান ও অভাবের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। আমাদের ঘরে সীমাবদ্ধ থাকা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সংযুক্ত থাকার পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখা দরকার। আরও একটি বিষয় রয়েছে যা যোগ ব্যায়ামকে উদ্বেগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি যুগে যুগে যুবা উপকারী হিসেবে পরিচিত কেবল ওজন হ্রাস করার জন্য নয়, মনকে শান্ত রাখার জন্যও।

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ফলাফলগুলো নিয়ে, নেতিবাচক চিন্তাভাবনা নিয়ে একটি মন চলমান। প্রায়শই নিদ্রাহীন রাত হয় যা দিনের বেলা ক্লান্তির কারণ হয়। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দেখার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। উদ্বেগ বা স্ট্রেস সাধারণত সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্রকে ট্রিগার করে যা রক্তচাপ বৃদ্ধি, টানযুক্ত পেশী, ঘনত্বের অভাব, দ্রুত শ্বাসকষ্ট এবং যোগ ব্যায়ামকে শান্ত করতে সহায়তা করে। যোগব্যায়াম একটি মূল্যবান সরঞ্জাম, কারণ প্রসারিত পেশী এবং জয়েন্টগুলোতে টান কমাতে সহায়তা করে। ফলস্বরূপ সহানুভূতিশীল ব্যবস্থাকে শিথিল করতে সহায়তা করতে পারে। অনেক যোগ রয়েছে, যা রক্তচাপ পরিচালনার জন্য খুবই উপকারী। এর ফলে উদ্বেগের লক্ষণগুলো হ্রাস হয়।

মহামারি এবং পরবর্তী লকডাউন ও বিধিনিষেধের কারণে মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা রপ্ত করতে লড়াই করছে। এছাড়াও সংক্রামক রোগের ক্রমাগত ভয়, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা, আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা, চাকরি হারানো, কাজের অভ্যাস পরিবর্তন, সামাজিক দূরত্ব- এ সমস্ত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার ফলে আমাদের মন এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর ফলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং হতাশার মতো মানসিক সমস্যা হতে পারে এবং সেইসাথে শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

দ্য ল্যানসেট সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ জীবিতরা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (পিটিএসডি) মতো মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় ভুগতে পারে। এদিকে যোগ বিশেষজ্ঞরা এই মহামারি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্দান্ত বিকল্প হিসাবে নিরাময় এবং বিকল্প থেরাপির পক্ষে কথা বলছেন। তাদের অনেকেই দাবি করেন যে, ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উন্নতির সময় যোগব্যায়াম অভিনব করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।

২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ অনুশীলনের উপকারিতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতি বছর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটিতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস ২০১৯ সফলভাবে আয়োজন করা হয়। কোভিড সতর্কতায় ২০২০ সালে সামান্য পরিসরে হলেও চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়। এবছরও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের জন্যে ঘরে থেকেই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২১ উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

যোগ ব্যায়াম একটি প্রাচীন জীবনাচরণ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব। যোগের মাধ্যমে শরীর ও মনে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে। এটি সম্পূর্ণভাবে মানবিক, প্রক্রিয়ামূলক এবং বিজ্ঞানসম্মত একটি বিষয়। এখন আমাদের হাতে রয়েছে অফুরন্ত সময়। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে একবার যোগ ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুললে এখন যেমন শরীর ও মন স্থির রাখতে সহায়তা করবে ঠিক তেমনি ভবিষ্যতেও কাজের একাগ্রতা, শারীরিক স্বস্তি, মানসিক প্রশান্তি, সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে সহায়তা করবে। তাই এ সময়ে যোগব্যায়াম করুন, নিজেকে সুস্থ ও সুন্দর রাখুন দীর্ঘদিন।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..