শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০২:২৪ অপরাহ্ন

চকরিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রকম্পিত ৫০০ একরের মৎস্য ঘের

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার ১ মে, ২০২১
  • ৪৯ বার পঠিত

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোনের রামপুর মৌজার ডেবডেবী এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়ে ৫০০ একরের একটি মৎস্য প্রকল্প জবরদখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লিজপ্রাপ্ত বৈধ মালিকের লোকজনকে মারধরের পর তাদের তাড়িয়ে দিয়ে ওই প্রকল্পটি জবরদখলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ছোড়া উপর্যপুরী গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। হামলা ও মারধরে আহত হয়েছেন ঘেরের অন্তত ৬ জন কর্মচারী। এ সময় ঘেরের খামারবাড়ি থেকে লুট করা হয় প্রায় ১০ লাখ টাকার চিংড়িসহ উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং নগদ কিছু টাকা।

খবর পেয়ে রাতেই চকরিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সরওয়ার জাহান মেহেদীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে গুলি ছোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রায় ৯০ জনের মালিকানাধীন প্রায় ৫০০ একর চিংড়ি চাষের জমি রয়েছে ডেবডেবী এলাকায়। এসব জমি মূল মালিকদের কাছ থেকে পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেন পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, ব্যবসায়ী মনোয়ারুল হক, এহেছানুল কাদের চৌধুরী, নূর এলাহী বাবর, ইফতেখার জুয়েল, সাদেকুল ইসলামসহ আরো বেশ কয়েকজন।

পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেওয়া মালিকরা জানান, চলতি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত তারা মূল মালিকের কাছ থেকে চিংড়ি চাষের জন্য জমির লিজ নিয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে মূল মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু ২০২০ সাল পর্যন্ত যারা একই জায়গা পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়েছিলেন তাদের সেই লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈধভাবে বর্তমানে লিজপ্রাপ্তরা দাবি করেছেন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার ইন্ধনে এবং চকরিয়ার একজন জনপ্রতিনিধি সেই চিংড়ি জমি অবৈধভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রায় ৪০ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দল ভারী অস্ত্রসহ চিংড়ি প্রকল্পে হানা দিয়ে ব্যাপক গুলি ছোড়ার মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এ সময় অন্তত অর্ধশত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

লিজপ্রাপ্ত ভুক্তভোগী চিংড়িপ্রকল্প মালিকরা আরো দাবি করেছেন, চকরিয়ার একজন জনপ্রতিনিধির লালিত ক্যাডার চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার জনৈক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের চিংড়ি প্রকল্পটি জবরদখল করে নেওয়া হয়। এ সময় তারা মৎস্যপ্রকল্প এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের পিটুনিতে আহত হন ঘেরের অন্তত ৬ জন কর্মচারী।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, এই চিংড়ি প্রকল্পের মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে মৎস্য প্রকল্পে বৃহস্পতিবার রাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ প্রেরণ করা হয়। ঘটনার সময় কেউ গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..