রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

চোরাইপথে ভারতীয় গরু আসার শঙ্কায় খামারিরা

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার ২৫ জুন, ২০২১
  • ৬৪ বার পঠিত

ঈদ সামনে রেখে লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার স্বপ্ন দেখছেন খামারিরা। তবে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা। ‘আমি গত বছর তিনটা গরু বেশি দামের আশায় ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলাম। একটা গরু বেচতে পারলেও কম দাম বুলায় বাকি দুটো গরু নি বাড়ি চইলি আসি। আমার খামারে এখন দশটা গরু। গতবারের ফেরত আসা গরু দুটোর এবার দাম ধরেছি আট লাখ টাকা। গ্রামের গরু ব‍্যাপারী আমাকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা দিতে চাহিছে তা-ও আমি গরু দিনি। যা আছে কপালে আবার ঢাকায় নি যাব।’ এভাবেই কোরবানি ঈদ নিয়ে নিজের প্রস্তুতির কথা জানালেন খামারমালিক এ‍্যামেলি।

ঈদ সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন মেহেরপুরের ছোট-বড় গরু খামারিরা। খামারগুলো এখন ব্যাপক ব‍্যস্ততা। ঈদের আগে ভারত সীমান্ত দিয়ে গরু না এলে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন খামারিরা।

শেষ মুহূর্তে খামারে পশু চিকিৎসক এনে সেরে নিচ্ছেন গবাদিপশুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা। এখন শুধু বিক্রির অপেক্ষা। এরই মধ্যে অনেক খামারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে গরুর ওজন, দাম ও সৌন্দর্য উল্লেখ করে বিক্রির জন‍্য প্রচার শুরু করেছেন। কেউ আবার খামারে গিয়ে নিজেই দাম যাচাই করছেন।

তবে শেষ সময়ে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক খামারি। তারা বলছেন, পুঁজি টিকিয়ে রাখতে হলে অবৈধ পথে গরু আনা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে দেশের খামারিরা পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন না। এছাড়া অনেক খামারি এখনও গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেননি।

গরুর ব‍্যাপারী জামরুল গত কোরবানির ঈদে ১৫টি গরু গ্রামের পালনকারীদের কাছ থেকে দাম চুক্তি করে লাভের আশায় ঢাকায় নিয়ে আসেন। শেষমেশ তাকে তিন লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়। এখনও গত বছরের ঋণ শোধ করতে পারেননি তিনি। লাভের ওপর টাকা নিয়ে এ বছর গরু কিনেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি পনেরো পিস গরু দাম ঠিক কইরি কিনি নি। কিছু টেকা বাইনা করি গরু নি ঢাকায় গিছুনি। কিন্তু তিন লাখ টেকার মতো লছ হইছে। এখনও গতবারেরই কিছু টেকা বাকি আছে। তারপরে ও লাভের উপর টেকা নি দশটা গরু কিনিছি।’

কখন গরুর ব‍্যাপারীর লোকসান হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে জামরুল বলেন, ‘যদি গরুর বাজারে গরুর চাহিদা না থাকে কিংবা ভারতীয় গরু দেশে ঢোকে তাহলে আমরা গরুর ব‍্যাপারীরা শেষ। লাভ তো দূরের কথা টেকা দেয়ার ভয়ে পালি বেড়াতে হয়।’

মা অ্যাগ্রো ফার্মের আবু বক্কর জানান, তাদের ফার্মটিতে গত বছর ১০০টির ওপরে গরু ছিল। তবে গত বছর আশানুরূপ লাভ না পাওয়ায় এ বছর গরুর সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। বর্তমানে ফার্মে ৭০টির মতো গরু আছে।

তিনি বলেন, ‘সারা বছর দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালনপালন করি কোরবানির ঈদে লাভের মুখ দেখার আশায়। অথচ ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে। এতে কষ্ট করে লালনপালন করা গরুর বাজার পড়ে যায়। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়।’

‌জেলা প্রাণ‌িসম্পদ কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের দেয়া তথ‍্য অনুযায়ী, মেহেরপুর জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে খামারির সংখ্যা ২৮ হাজার ৮১০ জন।

গবাদিপশু মহিষের সংখ্যা ৫৭৬টি, গরু ৪৭ হাজার ১৫৫টি, খাসি ও ভেড়ার সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ৭০৬।

জেলায় এবার কোরবানির পশুর লক্ষ‍্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৮ হাজার ৮০০টি। এসব পশু জেলার বাইরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে চলে যাবে।

খামারিদের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি গবাদিপশুকে স্টেরয়েডমুক্ত খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

দেশের খামারিরা যাতে পশু বিক্রির ন্যায্য দাম পান সে জন্য সীমান্তে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মুনসুর আলম বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যেন ভারতীয় গরু ঢুকতে না পারে সে জন‍্য বিজিবির সঙ্গে কথা হয়েছে। জেলায় পর্যাপ্ত কোরবানির পশু আছে, যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..