বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

ছাত্র আন্দোলনে উস্কানি, হয়রানির শিকার চার শিক্ষক

খাদিজাতুল কুবরা, খুবি প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : ১৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ২১১ বার পঠিত

ছাত্র আন্দোলনে সহযোগীতা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা তলব করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। গত মঙ্গবার (১৩/১০/২০) তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যাখ্যা তলব করা হয়। এই তলবের তালিকাভুক্ত শিক্ষক যথাক্রমে বাংলা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল ফজল ও শাকিলা আলম, ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী ও ইংরেজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক আয়েশা রহমান আশা।

ব্যাখ্যা তলব পত্রটিতে বলা হয়েছে যে,, গত ২ জানুয়ারি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে উপাচার্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ভীতিকর পরিস্থতি তৈরি করে। যা বে-আইনি, অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্খিত। উক্ত বিষয়ের সঙ্গে আপনাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

তথ্যসূত্রে জানা যায় , গত বছরের ১৩ নভেম্বর উন্নত মানসম্পন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থা ও আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রশাসন গড়িমসি করতে থাকলে ছাত্ররা জানুয়ারির ১ তারিখে আন্দোলনে নামে। উক্ত আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটি চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারী রিপোর্ট পেশ করে। কিন্তু তারপরে ১ মাস বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও প্রশাসন উপযুক্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বলে জানা যায়।

ব্যাখ্যাতলব বা শোকজ প্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, “কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়া এবং শিক্ষকদের বক্তব্য না নিয়েই রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পত্রে সকলের ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে, এ বিষয়ের সাথে আপনার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়া সরাসরি এ ধরনের সিদ্ধান্তে আসা, প্রশাসনের দূরভিসন্ধিরই অংশ।”

উক্ত বিষয়ে ব্যাখ্যাতলব প্রাপ্ত মো. নুরুজ্জামান ও শিক্ষক ইমরান কামাল বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গিয়েছি, সহমত পোষণ করেছি, এর পর চলে এসেছি। শিক্ষার্থীদের দাবি সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের ছিল। তাই আমরা সেখানে সমর্থন প্রদান করেছি। এজন্য, আমাদের মধ্য থেকে মাত্র চারজন শিক্ষককে শোকজ করাটাকে আমাদের

উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও দূরভিসন্ধিমূলক বলে মনে হচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অচিরেই এ পদক্ষেপ থেকে সরে আসবে, আমাদের চারজন সহকর্মীর কাছ থেকে হয়রানিমূলক এ পত্র অবিলম্বে প্রত্যাহার করবে।” তবে ঘটনাটি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির ও অন্যান্য বিভিন্ন দূর্নীতির থেকে মনযোগ সরানোর জন্য স্রেফ একটা অজুহাতমাত্র মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..