বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০২:০১ পূর্বাহ্ন

জমি নিয়ে বিরোধ ভাইদের সাথে : কুষ্টিয়া প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ৫ বোন

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : ১৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৩ বার পঠিত

কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার ১১ নং আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের, ধর্মদহ গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন বিশ্বাসের ১১ জন সন্তানের মধ্যে পুত্র সন্তান ৬ জন ৫ কন্যা সন্তান। ২০ বছর পূর্বে ফয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস মারা যায়। তার মৃত্যুর আগে ২৮ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে ৬ পুত্র সন্তানের মাঝে ১৫ বিগা জমি লিখে দিয়ে যান। সে সময় তার ৫ কন্যা কোনো সম্পত্তি পাননি।

মৃত্যু কালে ফয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস অবশিষ্ট ১৩ বিঘা সম্পত্তি রেখে মারা যান। তখনও মুসলিম উত্তরাধিকার সূত্রে আইন মোতাবেক ফয়েজ উদ্দিনের পুত্র এবং কন্যাগণ (২:১ অনুপাতে ) সকলেই সেই জমির অংশ পাওয়ার কথা থাকলেও কন্যাদের কোন সম্পত্তি দেওয়া হয়নি । আর,এস, খতিয়ান নং ১০৪৬ মালিক ফয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস । পরবর্তীতে ফয়েজ উদ্দিন এর স্ত্রী ও মারা গেছেন মৃত্যুকালে তারও সম্পত্তি ছিল, সেই সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ থেকেও বঞ্চিত করছে তাদের আপন ভাইগণ। আর.এস. খতিয়ান নং ৮৭৭ জমির মালিক দেলেজান। ফয়েজ উদ্দিনের কন্যাগণ এবং সম্পত্তি বন্টনের বাংলাদেশের প্রচলিত আইন মতে বাবা ও মা উভয়ের সম্পত্তিরই ওয়ারিশ হবে ১১ ভাই-বোন তারা হলেন, ১.মৃত ইউনূস আলী, ২.আব্দুল লতিব, ৩. মোকাব্বর আলী, ৪ সিদ্দিকুর রহমান, ৫. আব্দুল মজিদ, ৬. মঈন উদ্দিন, ৭.সামসুন্নাহার বেগম, ৮. ছানুয়ারা খাতুন,‌ ৯. মিনুয়ারা খাতুন, ১০.আরিফা খাতুন, ১১.বুলবুলি খাতুন এই ১১ জন ভাই-বোনদের মাঝে পিতার ১৩ বিঘা ও মায়ের মৃত্যু কালে রেখে যাওয়া কিছু জমি মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী যে যত টুকু জমি পাবে তা পাওয়ার জন্য ৫ বোন ভাইদের সাথে যোগাযোগ করতে থাকে।

তারই জের ধরে ভাইগন বোনেদের প্রতিনিয়তই হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। উক্ত ৫ বোন বাবা মায়ের সম্পত্তি থেকে এখনও কোন প্রকার ভাগ পান নাই বলে জানা গেছে। উক্ত সম্পত্তি তাদের ৬ ভাই সব জমি দখল করে ভোগ করছে।

এ বিষয়টি নিয়ে তাদের ভাইদের সাথে কথা বললে তারা জানান যে, বোনেরা আমাদের কাছে সম্পত্তি সব বিক্রি করে দিয়ে গেছে আমাদের কাছে তার দলিল রয়েছে। অন্যদিকে বোনদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা কোন জমি বিক্রি করিনাই এগুলো সব মিথ্যা কথা বলছে। আমাদের ভাইগণ কখনোই দলিল গুলো দেখাতে রাজি হয় না।

বোনদের অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিনে উক্ত ৬ জনের কাছে দলিল দেখার প্রস্তাব করলেও তারা দেখাতে অনিচ্ছা পোষণ করেন । বোনদের কথা হল আমরা বাবার সম্পত্তি ও মায়ের সম্পত্তি ওয়ারিশ সূত্রে যে যতটুকু পাব তা আমাদের মাঝে বুঝিয়ে দেওয়া হোক এই ব্যাপারে আমরা স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে জানালেও কোন সুরাহা করেন নাই। সকল বোনদের দাবী প্রতারক ভাইদেরকে আইনের আওতায় এনে তার সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচারের আওতায় এনে জায়গা-জমি সুষ্ঠু বন্টন এর মাধ্যমে তাদেরকে ফিরিয়ে দেন। তাদের দাবি আর কোন বোন যেন এমন প্রতারনার শিকার না হয় ভাইদের কাছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত ক্ষতিয়ে দেখে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..