শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

জান্নাতে উঁচু স্থানে থাকবে যারা

মুহাম্মাদ আবু আখতার
  • আপডেট টাইম : রবিবার ১০ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩০

দুনিয়ার জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকা মানুষরা জান্নাতে প্রবেশ না করতে পেরে আফসোস করবে। কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকবে না। তখন জান্নাতের সবচেয়ে উঁচু স্থানে থাকবে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা। হাদিসে আছে- ইসলামে উত্তম চরিত্রের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত আছে। মুমিনদের জন্য বিভিন্ন গুণ অর্জনের মাধ্যমে চরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা ঈমানের দাবি। কেননা উত্তম চরিত্র ছাড়া একজন মুমিনের ঈমান পরিপূর্ণ হতে পারে না। ঈমানের পরিপূর্ণতার জন্য উত্তম চরিত্র অর্জন করা অপরিহার্য। এ সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ওই মুমিন ঈমানে পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সর্বোত্তম।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৮২)

হাদিসের ভাষায় সর্বোত্তম ব্যক্তি : আমাদের সমাজে মানুষের সর্বোত্তম হওয়ার বিভিন্ন মাপকাঠি আছে। বিভিন্নজনের কাছে ভিন্ন মাপকাঠিতে ভিন্ন ধরনের মানুষ সর্বোত্তম। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বোত্তম হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হচ্ছে উত্তম চরিত্র। এ ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) অশ্লীলভাষী ও অসদাচরণের অধিকারী ছিলেন না। তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যার চরিত্র সর্বোত্তম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫৯)

উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম নমুনা : রাসুল (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি কখনো কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি। চরিত্রবান মানুষকে তিনি ভালোবাসতেন। তাই রাসুল (সা.)-এর প্রিয় মানুষদের কাতারে শামিল হতে চাইলে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া আবশ্যক। উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম নমুনা ছিলেন রাসুল (সা.)। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) জন্মগতভাবে বা ইচ্ছাপূর্বক অশ্লীলভাষী ছিলেন না। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৭৫৯)

জান্নাতে সবচেয়ে উঁচু স্থান লাভ : জান্নাতে মানুষের আমল অনুযায়ী সম্মানজনক জায়গায় অধিষ্ঠিত করা হবে। যার আমল যত ভালো হবে, সে তত বেশি সম্মানিত হবে। রাসুল (সা.) নিজে উত্তম চরিত্রবানদের জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে ঘর বরাদ্দের জিম্মাদারি নিয়েছেন। এ বিষয়ে আবু উমামা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ন্যায়সংগত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার। আর যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার। এবং যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে, আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮০০)

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..