শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার নীল-নকশা করেছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার নীল-নকশা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তার দল এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে ভালো লাগে না জানিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে শেষ যুদ্ধের দাবি করেন তিনি।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধির ওপর আনীত সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ওই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, ‘এই মহান সংসদের অভিমত এই যে, যে ঘৃণ্য খুনিচক্র ও চক্রান্তকারী গোষ্ঠী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের শহীদদেরকে নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা জানাচ্ছি। কিন্তু চক্রান্তকারীদের প্রেতাত্মারা এখনো ক্ষ্যন্ত হয়নি। আজও তারা ঘৃণ্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে এসে ইতিহাসের চাকাকে ঘুরিয়ে দিতে। তাদের এই ঘৃণ্য চক্রান্তকে সফল হতে দেওয়া যায় না। ইতিহাসের পাদদেশে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব শহীদকে বিনম্রচিত্তে ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেওয়ার শপথগ্রহণ করছি। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে একাদশ জাতীয় সংসদের উনবিংশতম অধিবেশনে এই হোক প্রত্যয় দৃঢ ঘোষণা।’

ওই প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এবি তাজুল ইসলাম বলেন, এখনো পাকিস্তানি প্রেতাত্মা ও জিয়াউর রহমানের দল স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নেবার, দাবি করে ‘একসময় সেনাবাহিনীর সাহায্যে এই বাংলাদেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে ক্ষমতা নিয়েছিলেন। সেই দিন শেষ, আর কোনোদিন সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না।
বিএনপিকে শেখ হাসিনার কাছ থেকে বুদ্ধি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওই সংসদ সদস্য বলেন, আপনারা বিদেশিদের কাছে যান, ধরনা দেন, বিদেশিরা আপনাদের ক্ষমতায় বসাবেন। আপনারা বাংলার জনগণের কাছে যান। আর যদি না পারেন, দলবল নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আসেন। নেত্রীকে বলেন, দলের তো এই অবস্থা, কী করলে ভালো হবে দেশের। নেত্রী ঠিকই আপনাদের সুবুদ্ধি দেবেন, ভালো বুদ্ধি দেবেন। আপনারা সেই মতো চলেন, দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।

দলীয় সভাপতির কাছে আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, আপনারা (বিএনপি) যা শুরু করেছেন। আমার মনে হয়, আমাদের নেত্রীর নির্দেশ দেওয়া উচিত, প্রত্যেক দিন যুদ্ধ করতে আর ভালো লাগে না। একটা শেষ যুদ্ধের খবর দেন, এই যুদ্ধে হয় তারা থাকবে, না হয় আমরা থাকবো এই দেশে। আর কোন বিকল্প নেই। প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে আর ভালো লাগে না। তাদের বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া যায় না, আমার মনে হয়—নতুন প্রজন্মসহ সবাই মিলে এই কাজটা এখনই করা উচিত।

পাকিস্তান আমলে জিয়াউর রহমান দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ে কর্মরত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে তার দহরম-মহরম ছিল। সেই সুবাদে, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্ত মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নীলনকশা করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকালের সেনানিবাসের ঘটনাবলি উল্লেখ করে সরকার দলীয় বলেন, সাধারণত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্যারেড-পিটি করে না। তারা সাধারণত আট-নয়টায় দিকে অফিসে যায়। কিন্তু সেদিন জিয়াউর রহমান এত ভোরে কেন প্রস্তুত হচ্ছিলেন। কারণ, তিনি সজাগ ছিলেন, সারা রাত জেগে অপারেশনটা মনিটর করেছিলেন। অপারেশন সফল হওয়ায় সেভ করে রাজার হালে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জিয়াউর রহমান সবসময় ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, তিনি খালেদা জিয়াকে স্ত্রী হিসেবে রাখতে চান নাই। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে খালেদা জিয়াকে স্ত্রী হিসেবে রাখার কারণে এবং তৎকালীন অনেক ছাত্রনেতার কারণে বঙ্গবন্ধু একটি অতিরিক্ত পদ বানিয়ে সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ করেছিলেন তাকে। আর সেই জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার নীলনকশা করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উৎঘাটনে জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী বার বার তদন্ত কমিশনের কথা বলেছেন। তবে আমরা এটা বাস্তবে দেখতে চাই। চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। এই চক্রান্ত উদঘাটন করতে না পারলে এটা প্রতিহত করা যাবে না। এই হত্যাকান্ডের সাথে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিলো যে কার্যকরণের সম্পর্কগুলো কাজ করেছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আসার প্রয়োজন।

একাধিক বই ও প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে রাশেদ খান মেনন বলেন, কেবল হত্যাকান্ডের দিন নয়, বাহাত্তর সাল থেকেই চক্রান্ত শুরু হয়েছে। ফারুক এবং রশীদ মার্কিন দূতাবাসে গেছেন অস্ত্রের সন্ধানে। সেই সময়কার মার্কিন দূত পরবর্তীতে সেটা স্বীকারও করেছেন। অবশ্য সিইআইএ’র সাথে জড়িত কী না সেটা তিনি (মার্কিন দূত) বলতে পারেননি। এই হত্যাকারীকে আজকে যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আনতে চাই।

রাশেদ খান মেনন বলেন, কেবল সেনাবাহিনীর কিছু বিপদগামী সদস্য এই হত্যাকান্ডে জড়িত মনে করলে আমরা ভুল করবো। আত্মস্বীকৃত খুনিদের বক্তব্যগুলো খতিয়ে দেখলেই এই বিষয়টি আমরা জানতে পারবো। খুনি কর্ণেল ফারুক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র করতে চেয়েছিলেন বলেই তাকে আমরা হত্যা করেছি। আমরা পরবর্তীতে দেখেছি কীভাবে আমাদের সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা বাদ পড়েছে। কীভাবে সমাজতন্ত্রের সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়েছে। কীভাবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: