রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন

জেলহত্যা দেশের ইতিহাসের কলঙ্ক

সাক্ষাতকার
  • আপডেট টাইম : বুধবার ৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৩

শাওন মাহমুদ

কিছু মানুষ ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। কিছু মানুষ সেই ইতিহাসকেই কলঙ্কিত করে ফেলে। শেষ করে দেয় সব অর্জন। ইতিহাসে কিছু কিছু দিন কালিমায় ঢেকে থাকে। ঝাপসা আর অস্পষ্ট সেইসব দিনগুলো পার করে তারপরও এগিয়ে যেতে হয়, আগামীর পথে। শেষটায় কী হলো জানতে গিয়ে মন ব্যথায় ভার হয়, তারপরও ইতিহাসের শুরুটাকে মনে রেখে শক্তি অর্জন করতে থাকে দেশ।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে জাতির পিতার পর সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতাদের ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারের ভেতর জাতীয় চার নেতা তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে পরিকল্পিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়।

জাতীয় চার নেতা ছিলেন দেশের নীতি নির্ধারক, রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবী এবং আগামীর পথপ্রদর্শক। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার ধারাবাহিকতার আড়াই মাসের মাথায় তাদের হত্যা করা হয়। এমন একটি ঘটনার কথা হয়তো কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।

তৎকালীন চারজন বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাসহ অনেকেই তখন কারাগারে ছিলেন। অনেকে আবার আত্মগোপনে ছিলেন। অন্যান্যরা প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সাথে সমঝোতা করে নিজেদের গুছিয়ে নেন। সেই সময় বহু রাজনীতিবিদ রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

ক্ষমতাসীন মোশতাক বা তার সমর্থকরা চায়নি তাদের বিরোধী আরেকটি শক্তি, শাসন ক্ষমতায় পুনর্বহাল হোক। তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সরকার কখনো যদি তৈরি হয়, তাহলে জেলে থাকা চার নেতাই ছিলেন সম্ভাব্য আগামীর নেতৃত্ব। নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পাকাপোক্ত করার ভাবনা থেকেই তাই চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তাদের পরিকল্পনাতেই এমন ঘটনা ঘটে।

ক্ষমতায় থাকার নোংরা এবং কুৎসিত পরিকল্পনা থেকেই মোশতাকের দল পরবর্তীতে চার নেতাকে হত্যা করার নীল নকশা তৈরি করে। রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের নেতৃত্বে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার জন্য ৫ জনের একটি ঘাতক দল গঠন করে খুনিরা। এই খুনিরা এতো চতুর ছিলো যে কারাগারে নিশ্ছিদ্র প্রহরায় থাকা চার নেতাকে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কারাগারের ভেতরে তাদের কক্ষে ঢুকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় থাকা কারাগারের ভেতর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ বিরল।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। তৎকালীন শাসকরা কোনো না কোনো ভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

হত্যাকাণ্ডের ২৩ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মামলাটি সচল করে এবং ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলার রায়ে তিনজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেওয়া তিন জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে।

 

শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..