শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

টালমাটাল ভোজ্য তেলের বাজার

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার ৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৬ বার পঠিত

গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরেও বিশ্ববাজারে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। এর ফলে টানা সপ্তম মাস ঊর্ধ্বমুখী আন্তর্জাতিক এই বাজার। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানায়, গত দুই মাসে ব্যাপকভাবে বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম, ফলে সার্বিকভাবে খাদ্যপণ্যের এই বাজার ঊর্ধ্বমুখী।

ডিসেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম আগের মাসের চেয়ে বেড়েছে ২.২ শতাংশ। ২০২০ সালের পুরো বছরে বেড়েছে ৩.১ শতাংশ, যা তিন বছরে সর্বোচ্চ। যদিও এই দাম ২০১১ সালের সর্বোচ্চ দামের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম। ডিসেম্বরে ভোজ্য তেলের দাম আগের মাসের চেয়ে বেড়েছে ৪.৭ শতাংশ, যা ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরের চেয়ে সর্বোচ্চ। এর আগের মাস নভেম্বরে বেড়েছে ১৪.০ শতাংশ। পুরো ২০২০ সালে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ১৯.১ শতাংশ।

এফএও’র সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তিন কারণে বিশ্ববাজারে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। সরবরাহ ঘাটতি, রপ্তানি কর বৃদ্ধি ও চীনের বিপুল ক্রয়ের কারণে বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়ছে। সয়াবিনের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ আর্জেন্টিনায় সরকারের সঙ্গে কৃষকদের দ্বন্দ্বে ধর্মঘট চলছে। এতে বন্দরের লজিস্টিকস সেবা বন্ধ হয়ে পড়ায় সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ রয়েছে। এমনকি এই ধর্মঘট ফেব্রুয়ারি পর্যন্তও চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সয়াবিন রপ্তানিতে কর বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশ করেছে আর্জেন্টিনা। এতে গত মঙ্গলবারও বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে হয় প্রতি বুশেল ১৩.৫৭ ডলার। এমনকি ওই দিন সর্বোচ্চ দাম ১৩.৭৩ ডলার পর্যন্তও ওঠে, যা ২০১৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দাম।

এদিকে বিশ্ববাজার থেকে চীন বিপুল পরিমাণ সয়াবিন ক্রয় করলেও ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশে খরায় উৎপাদন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় অভ্যন্তরীণ বাজার ঠিক রাখতে ব্রাজিল ও আমেরিকা বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমিয়েছে। সয়াবিনের নতুন মৌসুম শুরু হবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে। রপ্তানিকারক দেশগুলো নতুন ফসল পাওয়ার আগ পর্যন্ত সরবরাহ বাড়াবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইডিঅ্যান্ডএফ ম্যান এর চার্লি সারনেটিসজার বলেন, ‘এই মুহৃর্তে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দেশগুলোতে কৃষকের হাতে খুব বেশি সয়াবিন নেই। ফলে নিজেদের সংকটের শঙ্কায় তাঁরা বিশ্ববাজারে সরবরাহ করছেন কম। সবাই নতুন ফসলের অপেক্ষায় আছেন।’

এফএও আরো জানায়, পাম তেলের বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে সরবরাহ কমেছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া বিপুল রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। ইন্দোনেশিয়া পাম তেল রপ্তানিতে শুল্ক প্রতি টন ৫৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে মান ভেদে ২৫৫ ডলার পর্যন্ত করেছে।

অন্যদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া ও শ্রম সংকটের কারণে পাম তেল উৎপাদন কমিয়েছে মালয়েশিয়া। এমনকি ইন্দোনেশিয়ার পথ ধরে এই দেশটি এ বছর পাম তেল রপ্তানিতে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানায় মালয়েশিয়ার পাম অয়েল বোর্ড। দেশটির পাম তেল রপ্তানি কর ৬.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ হবে। এতে প্রতি টন রপ্তানিতে শুল্ক পড়বে ৬৮ ডলার। ফলে বিশ্ববাজারে আরো বাড়তে পারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম।

সূত্র : রয়টার্স, এগ্রিসেন্সাস, এফএও প্রতিবেদন।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..