শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

ডায়বেটিসে ড্রাগ ব্যবহার না

আব্বাস আলী
  • আপডেট টাইম : ৩১ আগস্ট, ২০২০
  • ৩৮ বার পঠিত

মোঃ আব্বাস আলী (সাংবাদিক ও গবেষক ই,বি)
সহকারী অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা বিভাগ)
জি,টি ডিগ্রী কলেজ, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ

ডায়বেটিসের ডেফিনিশন খুবই সরল। দেহ রক্তে গ্লুকোজ এর বেশী পরিমান উপস্থিতিকে ডায়বেটিস বলে। গ্লুকোজ হচ্ছে দেহ কোষের খাবার সুতরাং গ্লুকোজ রক্তেই থাকবে এটিই স্বাভাবিক। এ গ্লুকোজ থেকেই দেহ কোষ শক্তি উৎপাদন করে। এ জন্য গ্লুকোজকে বলে দেহ কোষের জ্বালানী। সৃষ্টিকর্ত্তা তাই প্রকৃতির সকল খাবারে গ্লুকোজ রেখে দিয়েছেন। অামরা যে খাবার খাই সে খাবার ভেঙ্গে দেহে গ্লুকোজ তৈরি হয়। এ গ্লুকোজ পাকস্থলী থেকে লিভারে যায়, লিভার থেকে হার্টে অাসে। হার্ট পাম্প করে সেটি সারা দেহ রক্তে ছড়িয়ে দেয়। দেহ রক্ত থেকে এটি কোষের ভিতর প্রবেশ করে। কোষ এটি থেকে শক্তি তৈরি করে। অামাদের এ শক্তি ব্যবহার করেই দেহ অঙ্গ পরিচালিত হয়। দেহের লক্ষ লক্ষ প্রান রাসায়ন ক্রিয়া সম্পন্ন হয় এ শক্তি থেকেই।

গ্লুকোজ পুড়ে গিয়ে দেহ কোষে তিনটি পদার্থ তৈরি হয়ে দেহ থেকে বেড়িয়ে যায়। এ পদার্থগুলো হচ্ছে পানি,কার্বনডাইঅক্সাইড ও শক্তি (এটিপি)। অতিরিক্ত পানি মুত্র দিয়ে বের হয়, কার্বনডাই অক্সাইড শ্বাস ফেলার মাধ্যমে এবং শক্তি দেহে ব্যবহৃত হয়। এ ভাবে খাদ্য থেকে অাসা গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করে,রক্ত থেকে কোষে এবং সে গ্লুকোজ পানি, কার্বনডাইঅক্সাইড ও শক্তি তৈরির মাধ্যমে দেহ থেকে নিঃশেষ হয়। এ প্রক্রিয়াটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন হলে দেহ রক্তে অতিরিক্ত কোন গ্লুকোজ থাকার কথা নয়। দেহ রক্তে গ্লুকোজ অাসবেই কারন এটি কোষের খাবার। এটিকে কোন ভাবেই অাটকানো যাবেনা।

তাহলে রক্তে পরিমানের বেশী গ্লুকোজ তখনেই থাকবে যখন রক্তের গ্লুকোজ কোষের ভিতর ঢুকতে পারেনা। রক্তে পরিমানের বেশী গ্লুকোজ থাকা উচিত নয়। এতে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়। দেহে রক্ত পরিবহন রক্তনালীর দৈর্ঘ প্রায় দেড়লাখ কিলোমিটার। হার্ট থেকে উত্থিত এ নালী দেহের শেষ প্রান্তে পৌঁছে সেখান থেকে অন্যনালী পথে অাবার হার্টে ফিরে অাসে। দেহের শেষ প্রান্তের রক্তনালী খুবই চিকন কয়েক মাইক্রোন (১ মাইক্রোন ১ মিটারের ১০ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ)। এ চিকন রক্তনালী দিয়ে ঘন রক্ত প্রবেশ সহজ হয়না ফলে অঙ্গগুলোর শেষ প্রান্তে কোষের অক্সিজেন ও পুষ্টি( কোষের ৬টি পুষ্টি ১) এমাইনোএসিড ২) ফ্যাটিএসিড ৩) গ্লুকোজ ৪) ভিটামিনস ৫) মিনারেলস ৬) পানি) পৌছাতে পারেনা। এ অক্সিজেন ও পুষ্টি ছাড়া কোষ বাঁচেনা এর সল্পতায় দেহে অসংখ্য রোগ হবে এটিইতো স্বাভাবিক ঘটনা।

দেহের এ সমস্যা সমাধানের জন্য রোগীরা যাচ্ছে অাধুনিক ডায়বেটিস রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। ডাক্তার ড্রাগ পরামর্শ দিচ্ছেন ড্রাগগুলো ডায়বেটিস (গ্লুকোজ) নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে কি ভয়ংকর ভাবে দেহটাকে অারও বিপদাপন্ন করে তুলছে। ড্রাগগুলোর নানামুখী তৎপরতায় রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমান নিয়ন্ত্রন রাখে। প্রশ্ন হচ্ছে কোষের জ্বালানি গ্লুকোজকে নিয়ন্ত্রন করে ডায়বেটিস এর চিকিৎসায় এ ড্রাগগুলো অসুস্থ্য দেহ কোষকে কিভাবে সুস্থ্য করে? একটু মনযোগ দিয়ে দেখলে বুঝবেন প্রতিটি ড্রাগ ধীরেধীরে অসুস্থ্য দেহ কোষকে অারও অসুস্থ্য করে তুলে। কারন রোগটি ছিল দুর্বল দেহ কোষের যা গ্লুকোজকে ঠিকমত কাজে লাগাতে পারছিলনা।

দেহে ইন্সুলিন ইনজেকশান এর কার্যকারীতা নিয়ে। ডায়বেটিস রোগীদের মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ডায়বেটিস চিকিৎসায় এখন ইন্সুলিন ইনজেকশান খুবই নিরাপদ ও কার্যকরী চিকিৎসা। বিষয়টি যে কত ভুল তা একটু মনযোগ নিয়ে বুঝার চেষ্টা করুন।

প্রথম কথা হচ্ছে দেহের প্রয়োজনেই দেহের বিটাসেল দেহে ইন্সুলিন তৈরি করে। ইন্স্যুলিন হচ্ছে একটি প্রোটিন। এ প্রোটিনটি অর্থাৎ ইন্স্যুলিন এর প্রধান ৩ টি কাজ। প্রথম কাজ হচ্ছে রক্ত থেকে কোষের ভিতর গ্লুকোজ পরিবহন করা, দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে অতিরিক্ত অব্যবহৃত গ্লুকোজকে চর্বিতে পরিনত করে পেট এবং উরুতে জমা করা,তৃতীয় কাজ হচ্ছে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে লিভারে সঞ্চয় করা। এভাবে দেহের গ্লুকোজের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইন্সুলিন। এজন্য দেহে ইন্সুলিন উৎপাদন ঘাটতি হলে রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমান বেড়ে যায়।

দেহের ইন্স্যুলিন এর ঘাটতি হলে বাইর থেকে ইন্সুলিন নিতে হবে এতে কোন দ্বিমত নাই। বিজ্ঞানের সাধারন জ্ঞানে যতটুকু জানি দেহে খুব তাড়াতাড়ি ইন্স্যুলিন ভান্ডার নিঃশেষ হয়না। বিটাসেলের ইন্স্যুলিন তৈরি ক্ষমতা রয়েছে প্রায় ১ হাজার বৎসর। প্রথমটি হচ্ছে বিটাকোষের ইন্সুলিন তৈরির ক্ষমতা অাছে কিন্তু তৈরি কম করছে বা একে বারেই করছেনা। অন্যটি হচ্ছে বিটাসেল ইন্স্যুলিন তৈরির ক্ষমতা একেবারই হারিয়ে ফেলেছে,এ ক্ষেত্রে বাইর থেকে ইন্স্যুলিন নিতে হবে। এটি নিশ্চিত না হয়ে যদি ইন্সুলিন নেয়া শুরু হয় তবে সক্রিয় বিটাকোষের ক্ষমতা স্থায়ী ভাবে নষ্ট হতে পারে। সুতরাং রক্তে বেশী গ্লুকোজ দেখা গেলেই ইন্সুলিন নিতে হবে এটি একেবারেই অযৌক্তিক।

এভাবে দীর্ঘ দিন ইন্স্যুলিন গ্রহনের কারনে দেহে ডায়বেটিস স্থায়ী নিবাস গাড়ে। বাইরের ইন্স্যুলিনও এক সময় এসে অকার্যকর হয় কারন ইন্সুলিন এর প্রধান কাজ হচ্ছে কোষের ভিতর গ্লুকোজ বহন করে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু বিপত্তি হচ্ছে কোষ অাবরনী। ইন্স্যুলিন ধরার জন্য কোষ অাবরনীতে একটি রিসেপ্টর (প্রোটিন) অাছে। এ প্রোটিন যদি ড্যামেজ থাকে তবে গ্লুকোজ বহনকারী ইন্সুলিন কোষের ভিতর ঢুকতে পারেনা। সুতরাং এটি পরিষ্কার দেহে ইন্সুলিন প্রতিরোধী হয়েও রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রনহীন হতে পারে।

এটি একেবারেই পরিষ্কার যে, মুখে খাওয়া ড্রাগ ও ইন্স্যুলিন ইনজেকশান করার মাধ্যমে ডায়বেটিস এর যে চিকিৎসা চলছে এটি রোগীদের দীর্ঘ মেয়াদি জটিল রোগের সূচনা করছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়বেটিক নির্মুল করা সম্ভব।

এটি অন্তত বুঝা গেল দেহ রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ কেন থাকে। গ্লুকোজ কোষের খাবার। কোষ গ্লুকোজ খেতে পারছেনা, চর্বিতে পরিনত হতে পারছেনা বা লিভারে গ্লাইকোজেনে সঞ্চিত হতে পারছেনা।তাহলে গ্লুকোজ কোথায় যাবে? স্বাভাবিক নিয়মে রক্তেই ভেসে বেড়াবে। অবশ্যই রক্তে বেশী মাত্রায় গ্লুকোজ থাকা মোটেই উচিত নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..