বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

দুই দশকে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ১৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ২০ বার পঠিত

দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। এ খাতে সরকারের অগ্রাধিকারের কারণে এরই মধ্যে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৯৭ শতাংশ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। যদিও মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ২০২৪, ২০৩০ ও ২০৪১ সালের সম্ভাব্য চাহিদা ও লক্ষ্য সামনে রেখে খাতটিকে আরো এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। জ্বালানি খাতে সরকারের সাফল্যের কথা উঠে এসেছে ওয়ার্ল্ড এনার্জি কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনেও।

সংস্থাটির প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড এনার্জি ট্রিলেমা ইনডেক্স-২০২০-এর তথ্য বলছে, জ্বালানি খাতের দ্রুত উন্নয়ন করছে এমন শীর্ষ দশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। জ্বালানি নিরাপত্তায় বাংলাদেশের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৩৯। একই মানদণ্ডে বাংলাদেশের স্কোর পরিবেশগত টেকসইয়ে ৫৬ এবং জ্বালানি সরবরাহ ও প্রাপ্যতায় ৫০ দশমিক ৪।

সদস্যভুক্ত ৮৪টি দেশসহ মোট ১৩৩টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ র্যাংকিং প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড এনার্জি কাউন্সিল। এর মধ্যে র্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছে ১২৮টি দেশ। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় তালিকা থেকে বাদ পড়েছে পাঁচটি দেশ। ২০২০ সালে নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চয়তায় শীর্ষ দেশ ও এ খাতে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া ১০টি দেশের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

জ্বালানি খাতে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় স্থান পেলেও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের অবস্থান (র্যাংক) ৯৪তম। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী র্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে থাকা দেশগুলোর মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এরপর আছে সুইডেন, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের নাম।

অন্যদিকে জ্বালানি খাতে দ্রুত উন্নতি করা শীর্ষ ১০টি দেশ হচ্ছে কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, কেনিয়া, বাংলাদেশ, হন্ডুরাস, ঘানা, নিকারাগুয়া, ইথিওপিয়া, তাজিকিস্তান ও মঙ্গোলিয়া।

জ্বালানির নিরাপত্তা, মান ও স্থায়িত্ব বিচেবচনায় এ, বি, সি ও ডি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। এ তালিকায় ডি-গ্রেডে থাকা কম্বোডিয়া জ্বালানি নিরাপত্তায় দ্রুত এগিয়ে এসেছে। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। ওয়ার্ল্ড এনার্জি ট্রিলেমা ইনডেক্সের তালিকায় ৯৪ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ ৮০ স্কোরের মধ্যে সামগ্রিকভাবে ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছে। জ্বালানি নিরাপত্তার গ্রেড বিবেচনায় খারাপ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। জ্বালানি নিরাপত্তা, মান ও স্থায়িত্ব বিবেচনায় (এ, বি, সি, ডি) সবগুলোতেই বাংলাদেশ এখনো খারাপ অবস্থানে রয়েছে।

তবে সংস্থাটি বলছে, জ্বালানি খাতের উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের জিডিপিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বেড়েছে। সক্ষমতা পাওয়ায় ডলারের মান, জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ।

জ্বালানি সরবরাহ বিবেচনায় গত পাঁচ বছরে মানসম্মত জ্বালানির ব্যবহার বেড়েছে বাংলাদেশে। এ সময়ে জ্বালানির প্রাপ্যতা বেড়েছে ৬ শতাংশ, সরবরাহ সক্ষমতা বেড়েছে ১১ শতাংশ এবং মাথাপিছু জিডিপি বেড়েছে ৯ শতাংশ।

এসবের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রিড সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো, কেন্দ্র নির্মাণ, একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেয়ায়। যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহূত হচ্ছে দেশে। একই সঙ্গে কয়লা, ডিজেল ও উচ্চমূল্যের জ্বালানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ করা হচ্ছে। এর বাইরে ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না (অফগ্রিড) সেসব এলাকায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

তালিকায় থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলংকা। তালিকায় দেশটির অবস্থান ৭৫তম। এছাড়া ভারত তালিকায় ৮৬তম, পাকিস্তান ৯৩তম ও নেপাল ১০২তম অবস্থানে রয়েছে। মিয়ানমারের অবস্থান এ তালিকায় ৮৯তম।

এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে সুপরিচিত। এ অঞ্চলে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত (প্যারিস) টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে এশীয় অঞ্চলের দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিয়ানমারে জনসংখ্যাজনিত সমস্যা লেগেই রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা বিবেচনায় এশীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে ১০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সেবা নিশ্চিত করে আসছে সিঙ্গাপুর। ফলে তাদের সফলতার অভিজ্ঞতা নিচ্ছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিয়ানমার। তবে কভিড-১৯-এর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। এ অবস্থায় জ্বালানিসেবায় অব্যাহত উন্নয়ন দেশগুলোর ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হবে বলে জানায় সংস্থাটি।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..