শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা, মৃত নবজাতককে নিয়ে থানায় হাজির কিশোরী

পজেটিভ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১০৭ বার পঠিত

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত মঙ্গলবার কন্যাসন্তান প্রসব করে সে। কিন্তু দুদিন পর গত বৃহস্পতিবার শিশুটি মারা যায়। পরে মৃত সন্তান কোলে নিয়ে ওই কিশোরী থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা করে।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরী দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ডালবাড়ী এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। আর অভিযুক্ত ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. রায়হান। তিনি দেওয়ানগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে কয়েকবার ধর্ষণ করে রায়হান। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। পরে রায়হানের বাবা হাবিবুর রহমান মেয়ের গর্ভের সন্তান প্রসবের পর দুজনের বিয়ে সম্পন্ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি ঘটনাটি গোপন রাখার অনুরোধ জানান।

একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার রাতে ওই মেয়েটি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কন্যাসন্তান প্রসব করে। কিন্তু নবজাতক ও তার মায়ের শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে রাতেই তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর দুদিন পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি হাসপাতালেই মারা যায়। পরে তার বাবা মেয়ের বিয়ে ও সুচিকিৎসার দাবি জানালে স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান কিছুই করতে পারবেন না বলে জানান।

তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রায়হান এবং তার বাবা স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েটি খুবই সহজ-সরল। এ সরলতার সুযোগে মেয়েটির জীবন যে লম্পট শেষ করেছে আমি তার শাস্তি চাই। আমার মেয়েটির শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়।’

দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএম মইনুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার একটি মৃত শিশু কোলে নিয়ে ওই কিশোরী তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানায় মামলা করতে আসে। এ ব্যাপারে থানায় একটি ধর্ষণের মামলা হয়েছে।

আলামত সংগ্রহের জন্য মৃত শিশুটিকে সংরক্ষণ করতে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..