সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

ধোঁকা দিয়ে ফখরকে রান আউট করেছেন ডি’কক, বিতর্ক

খেলাধুলা ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার ৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩০ বার পঠিত

প্রায় সাড়ে তিনশ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২৫তম ওভারে ১২০ রানে নেই ৫ উইকেট। বড় হারের মঞ্চ প্রস্তুত। সেই ম্যাচ জমিয়ে তুললেন ফখর জামান। তবে আশা জাগিয়েও ডাবল সেঞ্চুরি পেলেন না। ১৯৩ রানে আউট হলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। দারুণ জয়ে সিরিজে সমতা আনল দক্ষিণ আফ্রিকা।

রবিবার (০৪ এপ্রিল) জোহানেসবার্গে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৭ রানে জিতেছে স্বাগতিকরা। ৩৪২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ফখরের বীরত্বে পাকিস্তান করেছে ৩২৪ রান। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা।

ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে যখন প্রথমে ব্যাট করেতে নামেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা, তখন তাঁদের মাথায় ঝুলছে সিরিজ হারের খাঁড়া। তিন‌ ম্যাচের সিরিজে তাঁরা পিছিয়ে রয়েছেন ১-০ ফলে। এই অবস্থায় ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। তেম্বা বাভুমার ৯২ রান, কুইন্টন ডি’ককের ৮০ রান, ভান ডুসেনের ৬০, ডেভিড মিলারের ৫০ রানে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ৩৪১ রান বোর্ডে তোলে প্রোটিয়া বাহিনী।

রান তাড়া করার কাজটা পাকিস্তানের জন্য সহজ হয়নি। একের পর এক ব্যাটসম্যান উইকেটে সেট হওয়ার আগেই ফিরে গিয়েছেন সাজঘরে। ব্যতিক্রম শুধু ওপেনার ফখর জামান এবং বাবর আজম। ১৫৫ বলে ১৯৩ রানের এক চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে ম্যাচ প্রায় একার হাতে জিতিয়ে দিয়েছিলেন ফখর। লুঙ্গি এনগিডি যখন শেষ ওভারটা বল করতে এসেছিলেন, তখন ৬ বলে ম্যাচ জিততে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৩১ রান। প্রথম বলে স্ট্রাইকে ছিলেন ফখর। পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হলে ৬টি বলই খেলার দরকার ছিল ফখরের। এই অবস্থায় ফখর বল লং-অফে ঠেলে দিয়েই দু’রানের জন্য দৌড়ান। লং-অফ থেকে এডেন মার্করামের বুলেট থ্রো ধরেই ডি’কক রান আউট করে দেন ফখরকে। শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের জয়ের আশা।

তবে এই আউট নিয়েই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। প্রোটিয়াদের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ডি’ককের বিরুদ্ধে উঠছে ফেক ফিল্ডিংয়ের অভিযোগ। কিন্তু সেই ঘটনা আম্পায়ারদের চোখ এড়ানোর ফলে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্কের।

আইসিসির কোড অফ কন্ডাক্টের ৪১.৫ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, যদি কোনও ফিল্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে ‘আনফেয়ার’ অর্থাৎ অবৈধভাবে তার কথা বা অ্যাকশনের মধ্যে দিয়ে ব্যাটসম্যানকে বাধা প্রদানের চেষ্টা করেন বা ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেন (যখন স্ট্রাইকারের কাছে বল রিসিভ হয়ে গিয়েছে) তাহলে তাকে ফেক ফিল্ডিংয়ের আওতায় ফেলা হবে। এর ফলে ব্যাটিং টিমের ব্যাটসম্যানকে আউট তো দেওয়া হবেই না, উলটে ব্যাটিং দলকে পাঁচ রান পেনাল্টি হিসেবে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ডি’ককের আচরণ এই আইনের আওতাধীন হওয়া উচিত ছিল কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান সমর্থকদের বক্তব্য, সেই পেনাল্টি দেওয়া হলে ম্যাচের ফলে অন্যরকম হতে পারত।

আগামী বুধবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩৪১/৬ (ডি কক ৮০, মারক্রাম ৩৯, বাভুমা ৯২, ফন ডার ডাসেন ৬০, মিলার ৫০*, ক্লাসেন ১১, ফেলুকওয়ায়ো ৩, রাবাদা ১*; আফ্রিদি ১০-১-৭৫-১, হাসনাইন ১০-০-৭৪-১, ফাহিম ৯-০-৬২-১, রউফ ১০-০-৫৪-৩, শাদাব ৯-০-৬৪-০, আজিজ ২-০-১১-০)।

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩২৪/৯ (ইমাম ৫, ফখর ১৯৩, বাবর ৩১, রিজওয়ান ০, আজিজ ৯, শাদাব ১৩, আসিফ ১৯, ফাহিম ১১, আফ্রিদি ৫, রউফ ১*, হাসনাইন ১২*; রাবাদা ১০-২-৪৩-১, এনগিডি ৯-০-৬৬-১, ফেলুকওয়ায়ো ১০-০-৬৭-২, নরকিয়া ১০-১-৬৩-৩, শামসি ৭-০-৬০-১, মারক্রাম ৪-০-১৬-০)।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭ রানে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায়।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ফখর জামান।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..