রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ৬ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার ১৪ জুলাই, ২০২১
  • ৫৪ বার পঠিত

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে বিস্ফোরণে চীনের ছয় নাগরিকসহ প্রাণ গেছে কমপক্ষে আটজনের। নিহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি সেনাও আছেন।

নিখোঁজ আছেন এক চীনা প্রকৌশলী ও আরেক পাকিস্তানি সেনা। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের আপার কোহিস্তানে বুধবারের এ বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বাসের ভেতরে অথবা রাস্তার ধারে বিস্ফোরক পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল চীনা নাগরিকদের বহনকারী একটি বাস। হামলার সময় ৩০ জন চীনা প্রকৌশলী ছিলেন বাসটিতে।

হাজারা অঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দাসু বাঁধ এলাকায় এ হামলা হয়েছে। চীনা প্রকৌশলীদের সঙ্গে থাকা আধা-সামরিক নিরাপত্তা বাহিনীর দুই পাকিস্তানিও নিহত হয়েছেন এ হামলায়।

তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর বাসটি একটি খাদে ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় উদ্ধার অভিযান চলছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃতদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।’

ঘটনাস্থল দাসু পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) একটি অংশ। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড কর্মসূচির আওতাভুক্ত সিপিইসি প্রকল্পে সাড়ে ছয় হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বেইজিং।

পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় গাদার সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে চীনের পশ্চিমাঞ্চল সংযুক্ত হবে উচ্চাভিলাষী এ প্রকল্পের মাধ্যমে।

দাসু পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কয়েক বছর ধরে অঞ্চলটিতে চীনা প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজ করছে পাকিস্তানি নির্মাণ শ্রমিকরা।

চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের আরেকটি প্রদেশ বেলুচিস্তানে চীনা রাষ্ট্রদূত নং রংকে লক্ষ্য একটি সন্ত্রাসী হামলা হয়। যদিও সে সময় প্রাণে বেঁচে যান রাষ্ট্রদূত।

গ্যাসসহ নানা খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ পাকিস্তানের দুর্গম উত্তরাঞ্চল দেশটির অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে। অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় সশস্ত্র বেশ কিছু সংগঠন।

বিশেষ করে সম্প্রতি সিপিইসির মাধ্যমে অঞ্চলটিতে চীনের বিনিয়োগ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ আরও দানা বাঁধে। এতে স্থানীয়রা কোনোভাবে উপকৃত হচ্ছেন না বলে রয়েছে ক্ষোভ। সিপিইসির নানাবিধ প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ মানুষই পাকিস্তানের ভিন্ন অঞ্চল বা অন্য দেশের বাসিন্দা।

২০১৯ সালে সিপিইসির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আরেকটি বিলাসবহুল হোটেলে হামলা চালিয়ে আটজনকে হত্যা করে বন্দুকধারীরা। আরব সাগরে চীনের সহজ প্রবেশ নিশ্চিতে বেলুচিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে নির্মিত গভীর সমুদ্রবন্দরের শহর গদরে হয় ওই হামলা।

গত বছরের জুনে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আংশিক মালিকানার অন্তর্ভুক্ত পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জেও হামলা চালায় বেলুচ স্বাধীনতাকামীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..