রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন

প্রতিশ্রুিত মিললেও সমাধান হয় না ঢাকার জলাবদ্ধতার

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার ৬ জুন, ২০২১
  • ৩৭ বার পঠিত

মহানগরী ঢাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। প্রতি বর্ষায় জলজটে নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় শহরের সড়ক ও গলিপথ। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রতি বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। গতকাল শনিবারও বৃষ্টিতে মিরপুর, ধানমন্ডি, রামপুরা, বাড্ডা, উত্তরা, মগবাজার, পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় যানজট। এতে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। এর আগে গত ১ জুন প্রায় তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে তীব্র জলজটের সৃষ্টি হয় রাজধানীতে।

ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ওয়াসার দায়িত্বে থাকা রাজধানীর সব নালা ও খাল দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে ‘বহুলাংশে’ মুক্তি দেবে বলে আশ্বস্ত করে। কিন্তু গত ১ জুন ও গতকালের বৃষ্টিতে সংস্থা দুটির দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি পায়নি ঢাকাবাসী।

নগরবাসী বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের আশা দেখিয়েও কথা রাখতে পারেনি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ খালগুলোর অবৈধ দখল। অধিকাংশ খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ ঠিক না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে আরও সময় লাগবে।

রাজধানীর পানি নিষ্কাশন পথগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় দ্রুত পানি নামতে পারে না, ফলে প্রতিবারই এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই মতিঝিল, গুলিস্তান, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, মালিবাগ, রামপুরা, পুরান ঢাকা, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

গত দুই জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ওয়াসার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর ২ জানুয়ারি থেকে জিরানি, মা-া, শ্যামপুর, কালুনগরসহ খালগুলোর শাখা-প্রশাখা এবং পান্থপথ ও সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট থেকে আমরা বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছি। এছাড়াও ওয়াসার কাছ থেকে পাওয়া বন্ধ নর্দমা ও আমাদের উন্মুক্ত নর্দমাগুলো পরিষ্কারের কাজ চলমান। চলতি মাসের মধ্যেই তা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কাজগুলো শেষ হলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে যাবে।

ডিএনসিসি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে মগবাজার, মধুবাগ, কারওয়ান বাজার, উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরসহ এয়ারপোর্ট রোড এবং বনানী রেলগেট থেকে কাকলী মোড় পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ ও পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া ইব্রাহিমপুর খাল, কল্যাণপুর খাল, আব্দুল্লাহপুর খিজির খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে।

শনিবার এক অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম জলাবদ্ধতার বিষয়ে বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ডিএনসিসি বিভিন্ন জায়গায় খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..