রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

প্রস্তাবিত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান-ড্যাপ বাস্তবায়ন হলে দ্বিগুণ হবে ফ্ল্যাটের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার ১ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৩১

করোনায় আবাসনখাতের দূরাবস্থা জেনো কাটছেই না। এরইমধ্যে চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান-ড্যাপ। প্রস্তাবিত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান-ড্যাপ (২০১৬-৩৫) ও সংশ্লিষ্ট খসড়া ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২১ চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্বে তা নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী ও স্টেক হোল্ডারদের বাস্তবসম্মত মতামতের ভিত্তিতে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

সংগঠনটির মতে, সংশোধন ছাড়া প্রস্তাবিত ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালা অনুমোদন হলে ফ্ল্যাটের মূল্য ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের আবাসন সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করবে।

আবাসন খাত ও এর সঙ্গে জড়িত ২৬৯টি উপখাত ধ্বংসের মুখে পড়বে, ঝুঁকিতে পড়বে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ৪০ লাখ শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২ কোটি মানুষের রুটি-রুজি।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল আরও বলেন, পূর্বে ঢাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ মোতাবেক ২০ ফুট রাস্তার পাশে ৫ কাঠা জমিতে ১৩ হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের গ্রাউন্ডফ্লোরসহ আটতলা ভবনের অনুমতি পাওয়া যেত। প্রস্তাবিত বিধিমালায় পাঁচতলা ফ্লোর বিশিষ্ট ৯ হাজার বর্গফুটের ভবন নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যাবে। রাস্তা ২০ ফুটের কম হলে ভবনের উচ্চতা ৩/৪ তলার বেশি হবে না। বর্তমানের তুলনায় ভবনের আয়তন ৩৩-৫৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, যা একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। ভবন ওপরের দিকে বাড়ানোর সুযোগ কমে যাওয়ায় ফ্ল্যাটের মূল্য কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে। ফ্ল্যাটের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় আবাসন সংকট আরও ঘনিভূত করবে। বাড়িভাড়া সীমাহীন বেড়ে যাবে।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নির্মাণ খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত নগর ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় তিন দশক ধরে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে রিহ্যাব। ড্যাপ ও নতুন নির্মাণ বিধিমালা সংশোধন না হলে আবাসন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে জনবহুল দেশ। জমি অপ্রতুল। রাজউক এলাকায় মাত্র দশমিক ১৬ শতাংশ ভবন আটতলার বেশি উচ্চতার। ৯৩ শতাংশ ভবন একতলা থেকে তিনতলা উচ্চতাবিশিষ্ট। এখানে ভবনের উচ্চতা বাড়িয়ে নিরাপদ আবাসনের সুব্যবস্থা যত বাড়ানো যাবে, ততই এই খাতে জমির ব্যবহার কমবে ও আবাসন সমস্যা সমাধানে অধিক কার্যকর হবে।

সৌজন্যে বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..