সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪১ অপরাহ্ন

প্রস্তুত কর্ণফুলীর দ্বিতীয় জেটি

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার ৩১ জুলাই, ২০২১
  • ১১১

বন্দরে জেটির অভাবে জাহাজ জটের কারণে পণ্য খালাসে ধীর গতি ও বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অবসানের লক্ষ্যে দেশের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান- কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিঃ চলতি বছরের মার্চে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড়ে আনোয়ারায় নির্মাণ করে দেশের প্রথম বেসরকারী কর্ণফুলী ড্রাই ডক জেটি। ঐ সময়ে নির্মানাধীন দ্বিতীয় জেটিটিও গত ২৯ জুলাই সম্পন্ন হল। উক্ত জেটিটি আগেরটির তুলনায় কিছুটা বড়।

দ্বিতীয় জেটি নির্মাণ শেষে ১নং ও ২নং জেটিতে ভেড়ে বিএসআরএম ও আবুল খায়ের গ্রুপের পণ্য বোঝাই ১৮০ মিঃ দৈর্ঘ্যরে দীর্ঘাকার দুটি জাহাজ। যাদের প্রত্যেকটি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন পণ্য বহন করতে সক্ষম। জেটি দুটিতে ১৭০ মিটার লম্বা দুটি জাহাজ একসঙ্গে ভিড়তে পারবে। দুই জেটিতে মাসে ১০-১২টি জাহাজ এক সঙ্গে পণ্য খালাস করবে। প্রথম জেটি নির্মাণের পর মার্চের ৩০ তাং এই জেটিতে ভেড়ে বিএসআরএম এর কাঁচামালবাহী প্রায় ১৫৪ মিঃ লম্বা এমভি দিনা ওশেন নামের প্রথম জাহাজটি।
উল্লেখ্য চট্রগ্রাম বন্দরে ঢোকার পথে একটি গুপ্ত ব্যান্ড তথা বাক থাকায় বড় জাহাজের পাখা চ্যানেলের বাইরে চলে যাওয়ার কারণে ঐ জাহাজগুলো বন্দরে ঢুকতে পারেনা। কর্ণফুলী ড্রাই ডক জেটিতে এই সমস্যা নেই, কারণ এটি গুপ্ত ব্যান্ডের বাইরে সাগরের দিকে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এখানে বিভিন্ন সাইজের দীর্ঘাকায় জাহাজ ভিড়তে সক্ষম।
জেটি তৈরির পর গত ২ মাসে এখানে ১.৫০ লক্ষ টন পণ্য খালাস হয়েছে। জেটি কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য মতে এই দুই জেটি দৈনিক কম করে হলেও ৬ হাজার টন এবং মাসে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন পণ্য খালাস করতে সক্ষম। কিছুটা কম ধরে হলেও মাসে দেড় লক্ষ টন হিসেবে বছরে ১৮ লক্ষ টন পণ্য এই দুই জেটিতে খালাস হবে। কর্ণফুলীর এই জেটি বেসরকারী হলেও এর মাধ্যমে বন্দরেরও উপার্জন হবে। বন্দরে পণ্য খালাস হলে যে উপার্জন বন্দরের হয় এখানেও তা হবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা এই বন্দর নির্মাণের ফলে জাহাজ জট হ্রাস পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গতি আসবে।

বন্দরে জেটি সমস্যায় মাসকে মাস পণ্য খালাস ব্যাহত হলেও এযাবৎকাল পর্যন্ত নদীর দক্ষিণ পাড়ে জেটি তৈরি করে পণ্য খালাস করার ব্যাপারটি বিভিন্ন আলোচনা ও সার্ভে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্ত কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্স কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় কাজটি আলোর মুখ দেখেছে। সাবেক বন্দর চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে তারা এই জেটি তৈরি সম্পন্ন করেছে। আরো দুটি জেটি এখানে তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে কর্ণফুলী ড্রাই ডক কর্তৃপক্ষ জানান । তারা বলেন, সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি এসব জেটি নির্মাণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে নিজেদেরকে সামিল করাই মূল লক্ষ্য ছিল। একই সঙ্গে পণ্য আমদানীবাহী জাহাজ বন্দরে এসে মাসকে মাস অপেক্ষা করেও পণ্য খালাস করতে না পারায় বিপুল অংকের যে আর্থিক ক্ষতি তার অবসানের লক্ষ্যেও এই জেটি আমরা নির্মাণ করেছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

জেটি তৈরির ক্ষেত্রে বন্দরের ক্ষয়ক্ষতি তথা সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই জেটি তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। পরিকল্পনাধীন বাকি জেটিগুলো নির্মাণ সম্পন্ন হলে অদূর ভবিষ্যতে মংলা বন্দরের সমপরিমান বা তার চেয়েও বেশি পণ্য দেশের এই প্রথম বেসরকারী কর্ণফুলী ড্রাইডক স্পেশালাইজড্ ইকোনোমী জোন জেটি তৈরি করবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..