বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

প্রয়োজন থেকে মাস্কের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হয়ে ওঠা

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ২৯ জুলাই, ২০২০
  • ৩৮ বার পঠিত

যখন ফেস মাস্ক নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়, তখন কেউ কদাচিৎই চিন্তা করতে পেরেছিল যে এটা ফ্যাশনের বস্তু হয়ে সামনে আসবে। সত্যি কথা বলতে গেলে, কেউ জানত না এই মহামারী আমাদের জীবনকে এভাবে বদলে দেবে এবং মাস্ক পরার এমন রীতি দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকবে। সুরক্ষা পোশাক মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের সাহায্য করে চলেছে। কিন্তু এখন এটি ফ্যাশনেরও অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। কেবল আমাদের মতামত নয়, ফ্যাশন দুনিয়ার বর্তমান চিত্রও সে রকম কিছুই বলছে।

বাজারগুলো এখন কৌতূহলোদ্দীপক প্রিন্ট, ঝলমলে অলংকরণ, হাতে তৈরি ডিজাইনসহ হরেক রকমের মাস্কে সয়লাব। মনে হচ্ছে এমন কোনো ডিজাইন নেই যা এখন পাওয়া যাচ্ছে না। মজার বিষয় হচ্ছে, ফ্যাশনেবল মাস্কের বাজার একেবারেই সীমিত না। স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে উঁচু মানের ডিজাইনারদের তৈরি করা মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া যেকোনো জায়গায় সহজেই এখন মাস্ক সহজলভ্য। ইনস্টাগ্রাম স্টোরস এবং ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে বাহারি মাস্ক।

আমি অবাক হয়েছি যখন আমার এক ফ্যাশন-উৎসাহী কাজিন আমাকে জানায় যে সে সম্প্রতি দিল্লির মার্কেটে ঘোরার সময় সত্যিকার অর্থেই ট্রেন্ডি ফেস মাস্ক দেখেছে। এনিম্যাল প্রিন্টের একটি মাস্ক তার বেশ পছন্দ হয়েছিল। পাশাপাশি কালো জরির একটি মাস্ক তাকে প্রলুব্ধ করেছিল, কিন্তু সেটি কেবল পার্টিতে ব্যবহার উপযোগী বলে মনে হচ্ছিল তার কাছে। এ তথ্যগুলো ছিল আমার আপডেটেড হওয়ার মতো ব্যাপার। বুঝতে পারলাম যে স্টাইলিশ মাস্কগুলো বাজারে তাদের পথ খুঁজে পেয়েছে।

ভারতে ফ্যাশন জগতের ডিজাইনার জুটি শিভান ও নরেশ প্রথম আনুষ্ঠানিক ফ্যাশনেবল ফেস মাস্কের সংগ্রহ সামনে আনে। তাদের সংগ্রহের মাস্কগুলোর মূল্য ছিল ২ হাজার রুপি থেকে শুরু করে ৮ হাজার পর্যন্ত। এ মাস্কগুলো ছিল নানা ধরনের প্রিন্ট ও অলংকরণযুক্ত। যখন গোটা পৃথিবী মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে তখন এমন ডিজাইনার কলেকশনের ফেস মাস্ক সবাইকে বিনোদন দিতে পারেনি।

সংগ্রহটি, বোধগম্যভাবে সবার সঙ্গে ভালোভাবে যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর ভারতীয় বিয়ের আসরগুলোতে ফ্যাশনেবল মাস্কের দারুণ উত্থান দেখা গেল। ইনস্টাগ্রামে এখন বর ও কনেকে ম্যাচ করে মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি বিবাহিত ভবদ্বীপ কৌর তার মেহেদি অনুষ্ঠানে মাস্ক দিয়ে মুখ অলংকৃত করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বেছে নিয়েছিলেন ঝলমলে হলুদ লেহেঙ্গা এবং তার সঙ্গে মানানসই একটি মাস্ক, যা দিয়ে তিনি তার মুখ ঢেকেছিলেন। এ নিয়ে তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, আমি জানতাম যে আমি মেহেদি অনুষ্ঠানের বেশির ভাগ সময় মাস্ক পরে ছিলাম এবং আমি আমার সচরাচর ব্যবহূত নীল মাস্কটি পরতে চাইনি, কারণ মেহেদি অনুষ্ঠানে নীল রঙের মাস্ক মানাবে না। তাই আমি অনুষ্ঠানের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে মাস্ক ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। বলা যায় মজা করেই এটা করা। আক্ষরিক অর্থে আমি ব্লাউজ কেটে তার আস্তিন দিয়ে মাস্ক তৈরি করেছি। এটা করতে পেরে আমি বেশ আনন্দিত।

বিয়ের এই আলংকারিক মাস্কগুলো দক্ষিণ ভারতের কনেরাও বেশ ব্যবহার করছে। ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জি তার তৈরি করা লেহেঙ্গাগুলোর জন্য বিখ্যাত। তিনিও এখন কনেদের অতিরিক্ত কাপড় দিচ্ছেন মাস্ক বানানোর জন্য। অবশ্য ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে এক আলাপে তিনি বলেছিলেন, তিনি কখনো মাস্ক ডিজাইন করবেন না। তার মতে, এটা জঘন্য ও আপত্তিকর। আবু জানি সন্দীপ কোশলা এবং রিম্পল ও হারপ্রিত নারুলাসহ শীর্ষস্থানীয় ডিজাইনাররা এখন এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। তারা সাম্প্রতিক কিছু ডিজাইনের সঙ্গে মানানসই মাস্কও এনেছেন।

এদিকে ঘরোয়া ডিজাইন (যেমন পুচকি) নামমাত্র মূল্যে নকশা করা মাস্ক বিক্রি করছে। সে সঙ্গে প্রতিটি বিক্রয়ের সঙ্গে অভাবী মানুষকে একটি করে দান করছে। গড়পড়তা চেহারার মাস্কগুলোর এই মহামারীতে গ্রামে কাজের জন্য সংগ্রাম করতে থাকা অনেক শিল্পীর জীবিকার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। সম্প্রতি বিহারের আর্টিস্ট মাধুবানি কন্টাক্ট ডিটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন, যিনি কিনা হাতে মাস্ক তৈরি করেন। এর পর থেকে তার ফোনের রিং বেজেই চলছে।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ হিসেবে যে মাস্ক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এখন স্টাইল স্টেটমেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী গন্তব্য কী: রেড কার্পেট?

ডেইলি ও

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..