শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

বিদেশি ঋণধারীদের মাথায় হাত, টাকার দরপতন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১

দেশের বাজার অস্থির, অস্থির বিশ্ববাজারও। ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব জায়গায় চলছে অস্থিরতা। এমন অস্থিরতায় অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে সব ক্ষেত্রে।পাঁচ বছর আগে যারা বিদেশ থেকে ঋণ এনেছেন, তাদের বিনিময় হারের কারণে ১০ শতাংশ বেশি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে সুদহার কম হলেও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে দেশি উৎসের ঋণে যে অর্থ পরিশোধ করতে হতো, তার চেয়ে বেশি খরচ হবে এখন। কম সুদের বলে বিদেশি ঋণ গ্রহণ করা ব্যবসায়ীরা ডলারের দর বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন। ফলে দেশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদ-আসলে যে টাকা পরিশোধ করতে হতো, এখন তাদের পরিশোধ করতে হবে তার চেয়ে বেশি।

এই ঘটনাটিই ঘটছে সম্প্রতি। টানা কয়েক বছর টাকার সঙ্গে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলেও এখন পরিস্থিতি অন্য রকম। ডলারের দর হঠাৎ করেই এখন চড়া। আন্তব্যাংকে প্রতি ডলার বিনিময় হার এখন ৮৫.৮০ টাকা। ৩-৪ মাস আগেও ব্যাংকে বিনিময় হার ৮০ বা ৮১ টাকা ছিল। এক বছর আগে ছিল ৭৬ থেকে ৭৭ টাকা।

এমন অবস্থায় দেশে বাড়ছে শিল্প উৎপাদন। উন্মোচন করা হচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থায়ন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থায়নের জন্য দেশি উৎসের পাশাপাশি এখন বেশিসংখ্যক উদ্যোক্তা বিদেশি ঋণে ঝুঁকছেন।

জানা যায়, বিদেশি ঋণে সুদহার কম। তবে ঋণের অর্থ ডলার বা অন্য কোনো মুদ্রায় দেশে আসে আর তা পরিশোধও করতে হয় বিদেশি সেই মুদ্রায়। এ কারণে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার যদি বেড়ে যায়, তাহলে ঋণগ্রহীতাদের বেশি দামে তা কিনতে হবে। ফলে তাদের প্রত্যাশিত অর্থের চেয়ে বেশি পরিশোধ করতে হতে পারে।

পাঁচ বছর আগেও ২০১৬ সালের এপ্রিলে ৭৬ টাকা ৬০ পয়সাতেও ডলার কিনতে পারা গেছে। প্রায় তিন বছর ঘুরে-ফিরে একই দর ছিল। তবে সে সময়ের চেয়ে ১০ শতাংশের বেশি মূল্য হারায় টাকা।

মোট বিদেশি ঋণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে ব্যক্তি বা বেসরকারি পর্যায়ে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা।

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ঋণ ছিল ৬৩ হাজার দুই কোটি টাকা।

অর্থাৎ ছয় মাসে ঋণ ১০ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা বেড়েছে।

২০১৯ সালের শেষের দিকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশে নেমে আসার পরই মূলত বিদেশি ঋণের প্রতি ঝোঁক কমতে শুরু করে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এ ঋণ ছিল ৬০ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। পরের বছরের জুন পর্যন্ত ঋণ বেড়ে হয় ৬৩ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা।

ঋণ যেভাবে নেয়া যায়

বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে বড় জোগানদাতা বা মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকের শাখাগুলো।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। অন্যদিকে দেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষপর্যায়ে রয়েছে ইস্টার্ন, সিটি, ব্র্যাক, এবি ও ইসলামী ব্যাংক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: