বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

বিনা ভোটে ৮১ জন হলেন ইউপি চেয়ারম্যান

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১

যাওয়া লাগেনি ভোটারদের কাছে। যাওয়া লাগেনি এলাকায়। দূর থেকেই যেনো এক অসাধারণ সফলতা। পেয়ে গেছেন চেয়ারম্যানের চেয়ার। কোথায় প্রতিপক্ষ প্রার্থী নেই! আবার কোথাও মনোয়ন করেছেন প্রত্যাহার এভাবেই ৮১ জন পেয়ে গেছেন আলাদিন এক উন্নয়ন চেরাগ। যা দিয়ে হয়তো হতে পারে এলাকার মানুষের ভাগ্য বদল। প্রার্থী না ভোটারদের ভাগ্য বদল হবে! সেটি হয়তো সময় বলে দেবে। আপাতত চেয়ারম্যানরা সফলতার সঙ্গে বিজয় অর্জন করেছেন কোন পরিশ্রম ছাড়াই।

এবার দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিনা ভোটে জয়ী হওয়া চেয়ারম্যানের সংখ্যা দাঁড়িছে ৮১ জন। এ ছাড়া সাধারণ ওয়ার্ডে ২০৩ জন এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৭৬ জন সদস্য ভোট ছাড়াই জনপ্রতিনিধি হলেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।

গত মঙ্গলবার এই নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীদের সংখ্যা বাড়ে।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রতিপক্ষরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এ উপজেলার পাঁচটি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না। সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য পদেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। লাকসামের কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ—প্রার্থিতা প্রত্যাহারে অনেককে বাধ্য করা হয়েছে। এ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের সঙ্গে প্রত্যাহার বাণিজ্যও যোগ হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদর মত। তবে প্রথম ধাপের নির্বাচনে বিনা ভোটে জয়ীদের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে তা কম।

গতকাল বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। একই সঙ্গে এ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারও শুরু হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের হিসাব অনুসারে এ দফার নির্বাচনে ৩২টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো দলের বা স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে একক প্রার্থী আরো একজন বাড়ে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সেখানে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। এর ফলে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী রয়েছেন—এমন ইউপির সংখ্যা ৩৩-এ পৌঁছে যায়।

যে ৮১ টি ইউপি বিনা ভোটের চেয়ারম্যান পেতে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে —সিরাজগঞ্জ সদরের সয়দাবাদ, ছোনগাছা ও সয়দাবাদ, রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া, ধমাইনগর ও ব্রহ্মগাছা; যশোর চৌগাছার ফুলসারা; মাগুরা সদরের হাজরাপুর; বাগেরহাট সদরের গোটাপাড়া, যাত্রাপুর, ষাটগুম্বজ এবং মোল্লাহাটের গাংনী; জামালপুর সদরের রশিদপুর; শেরপুর সদরের কামারেরচর, গাজীর খামার ও পাকুড়িয়া; কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের বলিয়ারদি, হালিমপুর ও মাইজচর; মানিকগঞ্জের সিংগাইরের বায়রা; নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া, গোলাকান্দাইল ও ভুলতা; চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর, মুরাদপুর, কুমিরা, সোনাইছড়ি ও ভাটিয়ারী, মিরসরাইয়ের করেরহাট, ধুম, ওসমানপুর, কাটাছাড়া, মঘাদিয়া, মায়ানী, হাইতকান্দি, ইছাখালী ও ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ; কুমিল্লার লাকসামের কান্দিরপাড়, গোবিন্দপুর, উত্তরদা, আজগরা ও লাকসাম পূর্ব; ফেনীর ফুলগাজীর ফুলগাজী, মুন্সিরহাট ও আনন্দপুর; বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার, বাকাল, বাগধা, গৈলা ও রত্নপুর; ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা; মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর; শরীয়তপুরের সদর উপজেলার চন্দ্রপুর, চিতলিয়া ও বিনোদপুর এবং লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চরলরেন্স।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: