শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:২২ অপরাহ্ন

ভোক্তা অধিকার আইনঃ ভোক্তার আইনি প্রতিকার ও বিবিধ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ মার্চ, ২০২২

আমরা যখন কেনাকাটা করতে যাই প্রায়শই প্রতারণার স্বীকার হই। একজন ভোক্তাকে নিত্যনতুন অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে যেখানে বাজারের সূচক ঠিক নেই,থাকলেও সেখানে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। জনগণকে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য ২০০৯ সালে সরকার ভোক্তা অধিকার আইন প্রণয়ন করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকরী এই আইনটির রয়েছে বিবিধ সুবিধা।

 

একটু পেছনের দিকে ফিরে তাকানো যাকঃ
১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের মাধ্যমে জাতিসংঘ ভোক্তা অধিকার রক্ষার নীতিমালায় কেনেডি বর্ণিত চারটি মৌলিক অধিকারকে আরো বিস্তৃত করে অতিরিক্ত আরো আটটি মৌলিক অধিকার সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনাল এ সকল অধিকারকে সনদে অন্তর্ভুক্ত করে। কেনেডি’র ভাষণের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫ মার্চকে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও বাস্তবায়নে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন আইন এবং দিক নির্দেশনা প্রণয়ন করে। তার মধ্যে United Nations Guidelines for Consumer Protection (as expanded) 1999, European Union Unfair Commercial Practices Directive, 2005, The Consumer Protection from Unfair Trading Regulations, 2008 (UK) উল্লেখযোগ্য ।

জাতিসংঘ নির্ধারিত ভোক্তা অধিকারঃ জাতিসংঘ স্বীকৃত ভোক্তা অধিকার ৮টি।

যথা:
১। মৌলিক চাহিদা পূরণের অধিকার

২। তথ্য পাওয়ার অধিকার

৩। নিরাপদ পণ্য বা সেবা পাওয়ার অধিকার

৪। পছন্দের অধিকার

৫। জানার অধিকার।

৬। অভিযোগ করা ও প্রতিকার পাওয়ার অধিকার ৭। ভোক্তা অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা লাভের অধিকার

৮। সুস্থ পরিবেশের অধিকার ।

ভোক্তা কে?
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ধারা ২ উপ-ধারা ১৯ মতে, ভোক্তা অর্থ এমন কোন ব্যক্তি, (ক) যিনি পুনঃবিক্রয় ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ব্যতীত-মূল্য পরিশোধে বা মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে কোন পণ্য ক্রয় করেন বা আংশিক পরিশোধিত ও আংশিক প্রতিশ্রুত মূল্যের বিনিময়ে কোন পণ্য ক্রয় করেন বা প্রলম্বিত মেয়াদ বা কিস্তির ব্যবস্থায় মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে কোন পণ্য ক্রয় করেন, (খ) যিনি ক্রেতার সম্মতিতে দফা (ক)-এর অধীন ক্রীত পণ্য ব্যবহার করেন, (গ) যিনি পণ্য ক্রয় করিয়া উহা, আত্মকর্ম সংস্থানের মাধ্যমে স্বীয় জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করেন, (ঘ) যিনি মূল্য পরিশোধে বা মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে কোন সেবা ভাড়া বা অন্যভাবে গ্রহণ করেন বা আংশিক পরিশোধিত ও আংশিক প্রতিশ্রুত মূল্যের বিনিময়ে কোন সেবা ভাড়া বা অন্যভাবে গ্রহণ করেন বা প্রলম্বিত মেয়াদ বা কিস্তির ব্যবস্থায় মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে কোন সেবা ভাড়া বা অন্যভাবে গ্রহণ করেন, (ঙ) যিনি সেবা গ্রহণকারীর সম্মতিতে দফা (ঘ) এর অধীন গৃহীত কোন সেবার সুবিধা ভোগ করেন ।

একজন আদর্শ ভোক্তার সচেতনতায় করণীয়
পণ্যের মোড়কে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওজন, পরিমান,উপাদান, ব্যবহারবিধি, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাতকরণেরমেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ইত্যাদি দেখে পণ্য ক্রয় করা। মূল্য রশিদ গ্রহণান্তে মালামাল সংগ্রহ করা। দ্রব্য বা সেবা সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে জেনে দ্রব্য ক্রয় করা। বিজ্ঞাপন না বুঝে দ্রব্য সংগ্রহ থেকে বিরত থাকা। সরকারি-পেশাদারী ট্রেডমার্ক সম্বলিত দ্রব্য ক্রয় করা। দ্রব্য বা সেবা সম্পর্কে অন্ধ বিশ্বাস পরিহার করা। দ্রব্য বা সেবা সম্পর্কে অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট লিপিবদ্ধ করা।

বিক্রেতা কে?
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ধারা ২ উপ-ধারা ১৬ মতে, ‘বিক্রেতা’ অর্থ কোন পণ্যের উৎপাদনকারী, প্রস্তুতকারী, সরবরাহকারী এবং পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

ভোক্তা অধিকার আইনে ভোক্তার সুবিধা
আইন অনুযায়ী, মোড়কজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ওজনে কারচুপি হচ্ছে, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ থাকছে না এবং মোড়কের উল্লিখিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে—এমন নানা প্রতারণার শিকার হলে ৩০ দিনের মধ্যে ভোক্তাকে অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে হয়। তবে খসড়া সংশোধনীতে ভোক্তাকে অভিযোগ করার জন্য ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে।

খসড়ায় কোনো পণ্যসেবার অসত্য বর্ণনা-সংবলিত বিজ্ঞাপন ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ক্রেতাকে প্রতারণা করাকেও ‘ভোক্তা অধিকারবিরোধী কার্য’-এর তালিকায় রাখা হয়েছে। এর শাস্তি এক বছরের জেল বা দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা দুটোই।

ভোক্তা আইনে এত দিন সেবা খাতের আওতায় ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কুরিয়ার সার্ভিস ও আবাসন খাত ছিল না। অর্থাৎ এসব খাতে প্রতারিত ব্যক্তিরা এ আইনে প্রতিকার পেত না। খসড়ায় এগুলোকে সেবার আওতায় আনা হয়েছে।

কোনো ভোক্তা ব্যবসায়ীকে হেয় করতে অধিদপ্তরে অভিযোগ জানালে এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত হলে ভোক্তার তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে আইনে। এখানেও ভোক্তাকে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। খসড়া সংশোধনীতে এ ক্ষেত্রে এক বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রমজান মাস এলেই সরকার প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেয়। তা না মানলে শাস্তির হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্তু এখনকার কোনো বিধি বা আইনেই এমন বিধান নেই। খসড়া সংশোধনীতে মূল্যতালিকা না টাঙানোকে ‘ভোক্তা অধিকারবিরোধী কার্য’ হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টিকে আইনি কাঠামোয় আনা হয়েছে।

সেবার মূল্যতালিকার ক্ষেত্রেও একই বিধান রাখা হয়েছে। সেবার আওতায় এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাফির মতো বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআইয়ের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়াতে চাইলে আগে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের তা জানাতে হবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এটি কখনোই মানেনি। কারণ এ আইন না মানলে শাস্তির কোনো বিধান নেই। সংশোধনীর খসড়ায় এ অপরাধের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা দুটোরই বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার আইনে ভেজাল পণ্য ও ওষুধ বিক্রেতাদের শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু যারা এসব উৎপাদন, আমদানি কিংবা মজুত করে, তাদের শাস্তির বিধান নেই। একইভাবে খাদ্যে ক্ষতিকর দ্রব্য যারা মেশায়, তাদের শাস্তির বিধান আইনে আছে। কিন্তু এই ক্ষতিকর দ্রব্য উৎপাদনকারী, বিপণনকারী কিংবা বিক্রেতাদের শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই। আবার নকল পণ্য প্রস্তুতকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু যারা এসব আমদানি, মজুত এবং বিক্রি করে, তারা শাস্তির বাইরে। তিনটি ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের তিন বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়।

ভোক্তা অধিকার আইনে পণ্য, ওষুধ ও সেবা বিক্রির রসিদ না দিলে শাস্তির বিধান নেই। সে কারণে নতুন একটি ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। খসড়ায় ক্রেতাকে রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

একজন ভোক্তা কখন আইনের আশ্রয় নিবেন-
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী, ক্রেতা যেসব বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন, তা হলো বিক্রেতার পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, সেবার তালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন না করা, অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা, পণ্য মজুত করা, ভেজাল পণ্য বিক্রয়, খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রতারণা, প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহ না করা, ওজনে ও পরিমাপে কারচুপি, দৈর্ঘ্য পরিমাপের ক্ষেত্রে গজফিতায় কারচুপি, নকল পণ্য প্রস্তুত, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়, অবহেলা

একজন ভোক্তা কীভাবে আইনের আশ্রয় নিবেনঃ
ভোক্তা হিসেবে ক্ষতির শিকার হলে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়ে প্রতারিত সংক্ষুব্ধ ভোক্তা উল্লেখিত আইনের ৭৬(১) ধারার অধীনে এ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনের আশ্রয় নিতে পারে ।তবে এই অভিযোগটি পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে।অভিযোগ দেয়ার জন্য চাইলে কিছু প্রমাণ ও দেওয়া যাবে। যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেবেন সেটার প্রদত্ত বিল বা পণ্য – সেবার ক্যাশ মেমো এবং যদি দৃশ্যমান জিনিস হয় তাহলে ছবি থাকলে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।অপরাধটি সম্পর্কে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কিংবা অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। এতে আপনার নাম, মা ও বাবার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ফ্যাক্স ও ই-মেইল (যদি থাকে) উল্লেখ করতে হবে। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dncrp.g.bd থেকে অভিযোগের ফর্মটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন । প্রিন্ট করে তাতে তথ্য ও বিবরণগুলো লিপিবদ্ধ করুন। ফর্মটি পূরণের পর তার একটি ছবি নিতে পারেন অথবা স্ক্যান করতে পারেন যেন লেখা স্পষ্ট বোঝা যায়। বিলের কাগজটির একটি ছবি নিন মোবাইলে অথবা স্ক্যান করুন। অভিযোগ এবং বিল যদি ছবি থাকে পণ্যের বা সেবার তাহলে তা সংযুক্ত করে ই-মেইল করুন- nccc@dncrp.gov.bd এই ঠিকানায়। যেসব জেলায় অধিদপ্তরের শাখা নেই, সেসব জেলায় এই আইনে মহাপরিচালককে যে ক্ষমতা দেওয়া আছে, তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর ন্যস্ত থাকবে। অথবা সরাসরি ডাকযোগে পাঠাতে পারবেনজাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র, টিসিবি ভবন (৯ম তলা), কারওয়ানৎবাজার, ঢাকা-১২১৫ ঠিকানায়।এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় অধিদপ্তরের শাখা কার্যালয় রয়েছে। যেখানে নাই সেখানে জেলা- উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজগুলো করেন।অথবা আপনার জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালকের স্থানীয় অফিসেও অভিযোগ করতে পারবেন একই পদ্ধতিতে। মনে রাখবেন, ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন না করলে অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আদায়কৃত জরিমানার অর্থের ২৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত অভিযোগকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হয়।এ আইনের অধীনে সর্বনিম্ন পঞ্চাশ হাজার টাকা থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়।এ ছাড়া জরিমানা ছাড়াও ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িক বা স্থায়ীভাবে স্থগিতও করতে পারে অধিদপ্তর।এছাড়াও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৬৬ ধারা অনুযায়ী একজন ভোক্তা চাইলে অধিকার আদায়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা করতে পারে।

ভোক্তা অধিকারসংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা:
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৬০ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তিকে কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই আইনের অধীন অভিযোগ দায়ের করতে হবে। অন্যথায় অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না।

জরিমানার অর্থের ২৫% প্রদান:
দায়েরকৃত আমলযোগ্য অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত ও জরিমানা আরোপ করা হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৭৬(৪) অনুযায়ী, আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে প্রদান করা হবে।

দেওয়ানী প্রতিকার:
ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যক্রমের পাশাপাশি উপযুক্ত ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কোন ভোক্তা উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানী প্রতিকার দাবি করে স্থানীয় অধিক্ষেত্রের যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে, এতে আইনগত কোন বাধা নেই। কোন বিক্রেতা ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্যের দ্বারা কোন ভোক্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করলে এবং উক্ত ক্ষতির পরিমাণ আর্থিক মূল্যে নিরূপণযোগ্য হলে, উক্ত নিরূপিত অর্থের অনূর্ধ্ব পাঁচগুণ পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবী করে এখতিয়ার সম্পন্ন যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করা যাবে।

 

লেখকঃ
ফাইজুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
www.dncrp.g.bd

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: