রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

মঞ্চায়িত হলো নাটক `গোল পোস্ট’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার ৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ১২৭

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকির ভাবনা ও পরিকল্পনায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশব্যপী ৬৪ জেলায় নির্মিত ও মঞ্চায়িত হচ্ছে গণহত্যা পরিবেশ থিয়েটার। আজ রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চস্থ হয় ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনা নাটক `গোল পোস্ট’। নাটকটি রচনা করেন আসাদুল ইসলাম পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন আবুল কালাম আজাদ (সেতু)। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ নাটকটি মঞ্চায়িত করা হয়।

উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক জনাব আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান এবং সভাপতিত্ব করবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মো. মাসুদুর রহমান। নাটক প্রদর্শনীটি অনলাইনে উদ্ভোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ফেনী কলেজ ছিলো পাকবাহিনীর অন্যতম ক্যাম্প আর টর্চার সেল। কলেজের গোলপোস্ট ছিলো তাদের অত্যাচার করার অন্যতম একটা জায়গা। কতশত জানা অজানা মানুষ এই কলেজ এর বধ্যভুমিতে শহীদ হয়েছে তা আজও অজানা। বাংলাদেশের জন্য কিছু অতি সাধারন মানুষের আত্মত্যাগের কাহিনী, পাক বাহিনীর ঘৃন্য যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়েই নাটক গোলপোস্ট।

“স্বাধীনতার জন্য আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান তো অনস্বীকার্য। কিন্তু পাক বাহিনীর আক্রোশের আগুনে পুড়েছে গ্রামের পর গ্রাম, প্রাণ হারিয়েছে সাধারন মানুষ, যাদের ছিলোনা কোন দল, মত, গোত্র। তাদের অপরাধ ছিলো একটাই, তারা বাংগালী। পাক বাহিনী ধর্মটাকে ব্যাবহার করেছে আড়াল হিসেবে। তারা এদেশের মাটিটাই চেয়েছে, মানুষ না। তাই বিনাকারনে হত্যা করেছে শিশু, নারী, বৃদ্ধ। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে করেছে রোমহষর্ক সব অত্যাচার। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আমার বাংলাদেশ। গণহত্যা পরিবেশ থিয়েটার ”গোলপোস্ট” সেই নাম জানা, না জানা সাধারণ মানুষগুলোর প্রতি উৎসর্গ করছি।”বলেন গোলপোস্ট নাটকের পরিকল্পক ও নির্দেশক আবুল কালাম আজাদ (সেতু)।

“সুবর্ণবর্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ৬৪ জেলায় বধ্যভূমিতে গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার নির্মাণ। ইতোমধ্যে বধ্যভূমি নির্বাচন, গবেষণা কার্যক্রম, পান্ডুলিপি তৈরি এবং মহড়া কার্যক্রম শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ থিয়েটার মঞ্চায়নের পথে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশাবাদী। রিচার্ড শেখনার পরিবেশ নাটক বলতে যা বুঝিয়েছিলেন তাতে বিষয়টি দাঁড়ায়, প্রচলিত প্রেক্ষাগৃহের বাইরে অন্যত্র নাটক মঞ্চায়ন। এ পদ্ধতিতে যেকোনো স্থানে নাটক মঞ্চায়ন উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে তাতে নাট্য পরিবেশনা সম্ভব। সে কারণেই পুরোনো গ্যারেজ, পরিত্যক্ত অস্ত্র কারখানা, অব্যবহৃত কসাইখানা, গীর্জা ইত্যাদি নাট্যকর্মীদের হাতে পড়ে রঙ্গালয়ের মাহাত্ম লাভ করেছে। বাংলাদেশে এ ধারণা ভিন্ন মাত্রা পায়। যেখানে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যে পরিবেশের কাহিনী ঠিক সেখানেই নাটকের অভিনয়ে পরিবেশ থিয়েটার প্রকৃত অর্থে পরিবেশবাদী হয়ে ওঠে। এ ধারার প্রযোজনার সাফল্য পুরোমাত্রায় নির্ভর করে টিমওয়ার্ক, নাট্যকর্মীদের কর্মতৎপরতার সমন্বয় এবং যথাযথ গবেষণার উপর।” উদ্বোধকের বক্তৃতায় বলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকি।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..