সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

‘মনুষ্যত্ব’

সিলভিয়া আক্তার
  • আপডেট টাইম : রবিবার ২০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩১৮ বার পঠিত

করোনাভাইরাস আহনের পর থাইকা সবার মুখে শুধু আমারই নাম- ‘মাস্ক’। কারখানা থাইকা আইজ দোকানে নিয়া আইলো। আমারে পড়ার মালিক যে কে হইবো কে জানে! দুইডা দিন পর বয়স বাড়লে গিয়া ডাস্টবিনে ফালায়া দিবো। করোনাভাইরাসের থাইকা যে বাচাইলাম এইডা আর শুকরিয়া করবো না। হায়রে জীবন!
ঐতো আমারে লওয়ার মালিক আইছে মনে হইতাছে! দোকানির লগে এহন পাঁচ টাকা দশ টাকা কইরা দর কষাকষি করবো।
যাক, দশ টাকাতেই নিলো।
উহ! মা গো মা! এম্নে পা দুইডা টাইনা কানের পিছনে নিয়া যায় যেন কোনো দয়া-মায়া নাই। হাত ভরা জীবাণু। হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতে মাইখা আমারে ধরতে হয়, জানে না নাকি! বাঙালি যে মানুষ হইবো কবে কে জানে!
অনেক ধকল গেলো আইজ।
আরে আরে করে কি! সারাডা দিন করোনার লগে লড়াই করলাম। আমারে রাখবো কই বদ্ধ জায়গায়, তা না কইরা বিছানাডার উপরে আমারে ফালায়া নিজে গোছলখানায় ঢুইকা গেলো। লাভটা কি হইলো তয় আমারে পইড়া। উফ! আমার কি বাপু। একটু আরামে ঘুমাই। কাইল থাইকা তো আবার ডাস্টবিনে থাকতে হইবো।
সকাল সকাল বাইর হইলো আমারে লইয়া, শান্তি নাই আর। যাক হাত দুইডা এহন পরিষ্কারই আছে মালিকের।
ওমা! নাকের নিচে রাইখা দিলো আমারে। শুধু মুখ ঢাইকা লাভ কি৷ করোনা তো নাক দিয়া ঢুইকা গলায় যাইয়া বাস করবো। তারপর ঠুস কইরা জীবনডা নিয়া যাইবোগা একদিন। যহন আমারে পড়ার নিয়মই না মানে, কিনে কেন আমারে বুজিনা।
সন্ধ্যা হইছে।
ডাস্টবিনে ফালায়া গেলোগা। কি দুর্গন্ধ চারিদিকে! মাছির ভনভন! তগোই তো জীবন। কেনাবেচা করে না কেউ। সবখানে ঘুইরা বেড়াস। আহা!
এই মাঝ রাইতে এইডা আবার কেডা আইলো। আল্লাহ, কই লইয়া যায় আমারে? শরীরডা আর চলে না। এতো ধকল কি আর নেয়া যায়। করোনা আইলেও এহন আর রক্ষা করতে পারমু না কাউরে।
পরদিন,
এই যে তুমি আমারে শ্যাম্পু দিয়া ধুইয়া তারপর হুগাইয়া আয়রন করলা। এহন আবার আমারে বিক্রি করবা। আমার ভেতরে তো আর কিচ্ছু নাই। যে কিনবো আমারে, ঠকবো। করোনা আমার ভেতর দিয়া ঢুইকা তার ভেতরে যাইয়া বাস করবো, শেষে জীবনডাই নিয়া নিবো। আহারে, বেচারা! মায়া লাগে বড্ড।
মানুষ রূপি অমানুষ এরা। মনুষ্যত্ব বলতে এগো কিচ্ছু নাই। মাস্ক হইয়া আইজ গর্বই লাগে নিজের কাছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..