রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

মাঝি হতে চান উজানগ্রাম ইউপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীর স্ত্রী রেহানা মজিদ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : সোমবার ২২ নভেম্বর, ২০২১
  • ৬৩

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১০ নং উজানগ্রাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের জন্য নৌকার কান্ডারী হতে চাচ্ছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে উক্ত ইউনিয়নের সভাপতি সানোয়ার হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী, বর্তমান চেয়ারম্যান সাবুবিন ইসলাম ও গত বারের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মজিদের স্ত্রী বিদ্রোহী রেহানা মজিদকে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দলীয় সিদ্ধান্ত মতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, ২০১৬ সালে যে সকল নেতারা নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন তাদেরকে এবছর নৌকা প্রতীক দেওয়া যাবে না এবং যে সকল নেতাকর্মীরা বিদ্রোহীদের পক্ষে ভোট করেছেন তাদের কেউ নৌকা প্রতীক দেয়া হবে না। ২০১৬ সালে দল থেকে ইউপি নির্বাচনে সাবুবিন ইসলামকে নৌকা প্রতীক দেয়া হলে ঐ সময় উজানগ্রাম ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আব্দুল মজিদ দলীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ১৫০০শ ভোট পেয়ে নৌকার কাছে পরাজিত হন। সেই সময় তার সহধর্মিনী রেহানা মজিদ নামে মাত্র সদর থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ দিয়ে রেখেছেন ঠিকই, কিন্তু কাগজে-কলমে তা নেই। এখন পর্যন্ত তিনি সদর উপজেলায় কোথাও কোনো মিটিং, বা কমিটিও করতে দেখা যায় নাই। অথচ এই রেহানা মজিদ ২০১৬ সালে বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মজিদের পক্ষে আনারস প্রতীকে ভোট করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে উজানগ্রাম ইউনিয়ন ব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কারণ একজন বিদ্রোহী প্রার্থীর স্ত্রী এবং তিনিও দলের একজন বিদ্রোহী হয়ে কিভাবে নৌকা প্রতীক নিতে চান ? এছাড়াও তারা বলেন, সোনাই ডাঙ্গা গ্রামের বিএনপি নেতা, মৃত নাদের বিশ্বাসের ভাতিজা বিএনপি নেতা খালেক বিশ্বাস ও মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বিশ্বাসের ভাই বিতর্কিত আব্দুল মজিদ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে ওই সময় সেক্রেটারি পদ হাঁকিয়ে নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিল। গত বারের নির্বাচনে তিনি বিদ্রোহী হওয়ায় নৌকা প্রতীক পাবেনা বিধায় আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী তারই স্ত্রীকে দিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করানোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা এটাও বলেন, যাদের পরিবার জুড়ে রয়েছে বিএনপি’র দুর্গ তারা কখনোই মনে প্রানে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারকে পছন্দ করেন না। তারা বিদ্রোহী হয়ে আওয়ামীলীগের ভরাডুবি দেখতে চাই।
উক্ত ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ বলেন, দল থেকে বিতাড়িত আব্দুল মজিদ পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তার স্ত্রীকে সদর থানা মহিলা আওয়ামী লীগের নামে মাত্র সেক্রেটারি পদে সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছিল, বর্তমান ইউপি নির্বাচনের নৌকার প্রতীকে ভোট করার জন্য। জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে নির্বাচন করেছিল সেই পরিবারের অন্য কোন সদস্যকে যদি নৌকা প্রতীকের জন্য সুপারিশ প্রেরণ করা হয় তাহলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জেলা আওয়ামীলীগই দায়ী হবেন।
উজানগ্রাম ইউনিয়ন বাসী কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে জানতে চান, ২০১৬ সালের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মজিদের স্ত্রী রেহানা মজিদ তিনি নিজেও একজন বিদ্রোহী। কিভাবে তিনি সদর থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। আজ তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট করার জন্য ইউনিয়ন জুড়ে ব্যাপক হারে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..