মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

মাতব্বরদের আইনে চলছে কুষ্টিয়ার স্বর্গপুর গ্রাম: ছাগল পালনের নিষেধাজ্ঞা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের স্বর্গপুর গ্রাম দীর্ঘদিন চলছে মাতব্বরদের বানানো আইনে। বাংলাদেশ প্রায় ৫০ বছর স্বাধীন হলেও কুষ্টিয়া স্বর্গপুর গ্রাম এখনো পরাধিন রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় আইনকে উপেক্ষা করে কয়েকজন প্রভাবশালী সমাজপতিদের চাপিয়ে দেওয়া আইনে চলছে এই গ্রাম। নিজেদের গ্রামীণ প্রভাব ও নিজস্ব গোষ্ঠীর কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখতে আলামপুর ইউপি সদস্য মুন্সি কুরবান আলী, নজরুল শেখ, মতিয়ার রহমান মিলে নিজস্ব আইন চালু করেছেন স্বর্গপুর গ্রামে। যেটা রাষ্ট্রীয় সংবিধান পরিপন্থি।

ইউপি সদস্য মুন্সি কুবান আলী, নজরুল শেখ, মতিয়ার রহমান মিলে স্বর্গপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আইন চালু করেছেন ওই গ্রামে কোনো ব্যক্তিই ছাগল পালন করতে পারবেন না যদি কেউ তাদের এই আইন অমান্য করে ছাগল পালন করেন তবে আইন অমান্যকারী ব্যক্তি ৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। আর এই জরিমানার টাকা এলাকার উন্নয়ন ফান্ডে জমা করার নামে অর্থ আত্মসাত করা উদ্দেশ্যে গ্রামের অসহায় মানুষকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ফাঁদ পেতেছেন। জরিমানা কেউ না দিতে চাইলে তাদেরকে একঘরে করে রাখারও বিধান তাদের অলিখিত এ আইন রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্বর্গপুর গ্রামে গাছ, বাগান নষ্ট করার অযুহাতে দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য মুন্সি কুরবান আলী, নজরুল শেখ, মতিয়ার রহমান মিলে ওই গ্রামে ছাগল পালন নিষিদ্ধর সিদ্ধান্ত জোড় করে গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে গ্রামের মানুষ কথা বলতেও সাহস পান না। গ্রামের বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা নারীরা স্বাবলম্বী হতে ছাগল কিনলেও গ্রামের এই তিন মাতব্বরের হুমকিতে কেউ বিক্রি করে দিয়েছেন নয়তো অন্য কোনো গ্রামে আত্মীয়র বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমরা অসহায় কেউ বিধবা আবার কেউ স্বামী পরিত্যাক্তা আমরা একটা ছাগল পালন করলেও আস্তে আস্তে স্বাবলম্বী হতে পারি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি কিন্তু এই গ্রামে ছাগল পালার আইন নাই। মাতব্বরা নিজেরা আইন করে ছাগল পালন বন্ধ করে রেখেছে। সরকার যেখানে প্রতিটি বাড়িকে খামারে রূপান্তর করতে চাচ্ছে সেখানে আমাদের গ্রামে ছাগল পালন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা গ্রামবাসীরা চাই গ্রামের মাতব্বরদের এই আইন বন্ধ হোক। মাতব্বরা নিজেদের গোষ্ঠীর লোকজন মিলে এই আইন গ্রামের মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এর প্রতিকার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলামপুর ইউপি সদস্য মুন্সি কুরবান আলী বলেন, ছাগল পালন নিয়ে এলাকায় ঝর্গা জ্ঞানজাম লেগে থাকে তাই এই গ্রামের মানুষ কেউ ছাগল পালতে চাই না সে কারনেই আমরা এই গ্রামে ছাগল পালন বন্ধ করে দিয়েছি।

অপর অভিযুক্ত মতিয়ার রহমান বলেন, গ্রামের নিজস্ব আইন আছে সেই আইনেই গ্রাম চলে। সবাই মিলে বসে ছাগল পালন বন্ধ করা হয়েছে। জরিমানার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জরিমানার টাকা গ্রামের উন্নয়ন ফান্ডে জমা হবে সেই টাকা দিয়ে গ্রামের উন্নয়ন কাজ করা হবে। টাকাটা কার কাছে জমা হবে এবং কি কাজ করা হবে এর কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
আরেক অভিযুক্ত নজরুল শেখের কাছে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সিরাজ উদ্দিন শেখ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটলে বিষয়টি অন্যায় ও বেআইনি। গরিব মানুষ ছাগল পুষবে সমস্যা কোথায়। আপনারা একটু পেপার পত্রিকায় লিখে ওই গ্রামে ছাগল পালনের জন্য একটু ব্যাবস্থা করে দেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পেলে এমন কিছু আমরা হতে দেবো না। আর যদি কেউ ছাগল পালনে বাধা দেয় বা কারো কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেয় তবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x