বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসিনতা আত্মহত্যা বাড়াচ্ছে!

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকার কারণে মানুষ সঠিক সিন্ধান্ত নিতে পারে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতি সিন্ধান্ত নিয়ে নেয় নারী-পুরুষ। করোনা মহামারীর সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, একজন পরিপূর্ণ সুস্থ মানুষ হতে শরীর-মন দুটোরই সুস্থতা প্রয়োজন। কিন্তু, শারীরিক সুস্থতাকে আমরা যতটা গুরুত্ব দেই, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক ততটাই অবহেলিত।

মানসিক স্বাস্থ্যও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেটা যেন সবাই ভুলেই যাই! যার মন সুস্থ নয়, তার শরীরও পুরোপুরি সুস্থ থাকতে পারে না। প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’।

করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বেড়েছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। করোনায় আক্রান্তরাই শুধু নন, ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হননি এমন মানুষের মাঝেও বাড়ছে মানসিক নানা সমস্যা। তাই স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রায় নেই বললেই চলে। দেশের মানুষ এখনও নিজের মানসিক সমস্যার কথা বলতে সংকোচবোধ করে। অথচ অন্য শারীরিক রোগের মতোই মানসিক রোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিষণ্নতা বিশ্বের প্রধান রোগ হয়ে উঠবে। আমাদের দেশে বিষণ্নতাকে প্রাণঘাতী সমস্যা মনে করা না হলেও এটি মানুষের চিন্তা ও কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। এছাড়া কর্মক্ষমতা নষ্ট করতে পারে দুশ্চিন্তা, সিজোফ্রেনিয়া, অ্যাসপারগারস সিন্ড্রোম, আলঝেইমারসহ নানা ধরনের মানসিক রোগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করেন। বিশেষ করে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে আত্মহত্যা প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি বছর ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন এদেশে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পুরুষদের আত্মহত্যার পরিমাণ বেশি হলেও বাংলাদেশে এর চিত্র উল্টো।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আত্মহত্যা প্রতিরোধে চারটি নির্দেশনা দিয়েছিল। সেগুলো হচ্ছে- আত্মহত্যার পদ্ধতি বা মাধ্যমের সহজলভ্যতা কমিয়ে আনা। সংবাদমাধ্যমকর্মীদের আত্মহত্যার খবর প্রকাশে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা। তরুণ–তরুণীদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, খাপ খাইয়ে নেওয়ার দক্ষতা ও জীবন দক্ষতা বৃদ্ধি করা। যারা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে আছে, তাদের আগে থেকেই চিহ্নিত করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x