বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন

মাসব্যপী ৫ম জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘৫ম জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী’র উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বিকাল ৪টায় প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর এবং বরেণ্য ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান এবং বরেণ্য শিল্পী অলক রায়, সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সৈয়দা মাহবুবা করিম (মিনি করিম)।

আলোচনা শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা ‘শুভেচ্ছা ভালোবাসা’ সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। নৃত্য পরিকল্পনা করেছেন লিয়াকত আলী লাকী এবং নৃত্য পরিচালনা করেছেন স্নাতা শাহরিন। পরিবেশনা শেষে অতিথিরা গ্যালারিতে ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশে ভাস্কর্য শিল্পের চর্চা ষাট বছরেরও অধিক সময় অতিক্রম করেছে। বিগত শতকের পঞ্চাশ দশকের শেষ দিকে নভেরা আহমেদের মাধ্যমে এদেশে আধুনিক ভাস্কর্য চর্চার সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে ষাট দশকের প্রথমার্ধে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সহচর্যে শিল্পী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ঢাকার তৎকালীন চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভাস্কর্যের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা আরম্ভ হয়, যা বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে স্বতন্ত্র বিভাগে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি মৃৎশিল্প ও অন্যান্য শিল্প মাধ্যমের অনেকেই ভাস্কর্য চর্চা করে চলেছেন। দেশে বর্তমানে একটি সমৃদ্ধ ও সক্রিয় ভাস্কর্য শিল্পীগোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে।

শিল্পীদের অনেকেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ভাষা আন্দোলনকে বিষয় করে তাৎপর্যপূর্ণ ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতায় ভাস্কর্য সম্পর্কে জনমানসে এখনও অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। শক্তিমান এই শিল্প মাধ্যমটির সুরক্ষা, বিকাশ ও বিস্তৃতির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জাতীয়, নবীন ও এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর পাশাপাশি আলাদাভাবে জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

ধারাবাহিকভাবে ভাস্কর্য চর্চায় উৎসাহ, বিকাশমান চর্চার সুরক্ষা ও বিস্তারে সহায়তা প্রদান করার লক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে প্রথম এবং ১৯৮৩ সালে দ্বিতীয় জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩১ বছর বিরতির পর ২০১৪ সালে তৃতীয় জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী এবং ২০১৮ সালে ৪র্থ ভাস্কর্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর পঞ্চম বারেরমত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী। এবারের প্রদর্শনীতে সারাদেশ থেকে ২১ বা তদুর্ধ বয়সী ১৩৫ জন শিল্পীর মোট ২৫৪ টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য জমা পড়ে। নির্বাচকম-লী বাছাই করে ১০৭ জন শিল্পীর মোট ১১৪ টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করেন। এছাড়া ১৬ জন আমন্ত্রিত এবং প্রয়াত ৫ জন পথিকৃৎ ভাস্করের একটি করে ভাস্কর্যও এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত হবে। এছাড়া স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্য কর্ণার থাকবে।

১৬ জন আমন্ত্রিত ভাস্কর হলেন- ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান, ভাস্কর অলক রায়, ভাস্কর শামীম শিকদার, ভাস্কর আইভি জামান, ভাস্কর মজিবুর রহমান, ভাস্কর রাসা, ভাস্কর মাহবুব জামাল শামিম, ভাস্কর সাইদুল হক জুইস, ভাস্কর শেখ সাদি ভূইয়া, ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী, ভাস্কর চৌধুরী জাহানারা পারভীন, ভাস্কর রেজাউজ্জামান রেজা, ভাস্কর মোস্তফা শরীফ আনোয়ার তুহিন, ভাস্কর মাহবুবুর রহমান, ভাস্কর প্রণবমিত্র চৌধুরী, ভাস্কর মুকুল কুমার বাড়ৈ, ভাস্কর নাসিমা হক মিতু। প্রয়াত ৫ জন পথিকৃত ভাস্কর হলেন- ভাস্কর আব্দুর রাজ্জাক, ভাস্কর আনোয়ার জাহান, ভাস্কর নিতুন কু-ু, ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী।

ইতিপূর্বে আয়োজিত জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে ৫জন শিল্পীকে পুরস্কার দেওয়া হলেও এ বছর ১৩ জন শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হবে। পুরস্কার হিসেবে থাকবে ৫ম জাতীয় ভাস্কর্য পুরস্কার-২০২১ শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ১টি যার মূল্যমান ২লক্ষ টাকা, ২য় পুরস্কার ১টি যার মূল্যমান ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ৩য় পুরস্কার ১টি যার মূল্যমান ১ লক্ষ টাকা। এছাড়াও ১০টি সম্মানসূচক পুরস্কার যার প্রতিটির মূল্যমান ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও পুরস্কার প্রাপ্ত প্রত্যেককে একটি ক্রেস্ট ও একটি সনদপত্র প্রদান করা হবে।

৫ম জাতীয় ভাস্কর্য পুরস্কার- ২০২১ শ্রেষ্ঠ পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন শিল্পী বিজন হালদার, ২য় পুরস্কার পেয়েছেন শিল্পী আসমাউল হুসনা মারিয়া, ৩য় পুরস্কার পেয়েছিন শিল্পী দিনার সুলতানা পুতুল এবং ১০টি সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন শিল্পী লাকী ওসমান, শিল্পী সাগর দে, শিল্পী মোর্শেদ জাহাঙ্গীর, শিল্পী সিগমা হক অঙ্কন, শিল্পী সুমন বর্মন, শিল্পী সৈয়দ তারেক রহমান, শিল্পী জয়তু চাকমা, শিল্পী মোহাম্মদ সামিউল আলম, শিল্পী ইসরাত জাহান তন্নী, শিল্পী ইউসুফ স্বাধীন।

প্রদর্শনীর বিস্তারিত তুলে ধরতে গত ২৮ নভেম্বর ২০২১ বেলা ১২টায় জাতীয় চিত্রশালা সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব মো. আছাদুজ্জামান, চারুকলা বিভাগের পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিম ও উপপরিচালক মোস্তাক আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারিতে প্রদর্শনী চলবে ২৯ নভেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা (শুক্রবার বিকাল ৩টা) থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: