শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

মুসলিম নারীর খ্রিস্টান হওয়ার গল্প

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২

উনিশ শতকের এক বাঙালি বিদেশফেরত ম্যাজিস্ট্রেটের বিয়ে হল ১০ বছরের এক বালিকার সঙ্গে। এবং সেই সময়ে নারী শিক্ষা বলতে গৃহের কাজ শেখা এবং কোরআন পড়া ও কোরআন খতম দেয়াকে নারী শিক্ষা বলা হতো। বালিকাটিও সেই সময়ের নারী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিল।

আরবি ভাষায় কুরআন পড়ার শিক্ষা দেওয়া হলেও ইসলামকে বুঝার মতো কোনো শিক্ষা সেকালে দেওয়া হতো না। ইসলামি জ্ঞান চর্চা করতে শুধু কোরআন পড়াকে বোঝানো হতো। ইসলামের গভীর ও সঠিক শিক্ষা হতে বাঙালি নারীরা বঞ্চিত হত। মুসলিম নারীরা ইসলামের সৌন্দর্য এবং গভীর স্বাদ উপভোগ করতে পারতো না। মুসলিম নারীদের গুরুজনরা যে আমলগুলো করত নবীনরাও যুগের পর যুগ তাদের অন্ধ অনুসরণ করতো। ইসলাম মুসলিম নারীদের কেন নামাজ পড়তে বলে, কেনো কোরআন শরীফ পড়তে হয়, কেনো পর্দা করতে বলা হয় এবং এই আমল গুলো করলে যে সুখের প্লাবনে ডুবে থাকা যায়- তা সেকালের মুসলিম নারীরা জানতো না। এক কথায় বলতে গেলে তারা ইসলামকে বুঝে বুঝে আনন্দের সাথে পালন করতো না।

মূল গল্পে ফেরা যাক। ম্যাজিস্ট্রেটের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে হয়। ছেলের বয়স যখন ছয় বছর তখন তার স্ত্রীর মরণব্যাধি হলো। এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করলে কোনভাবে বাঁচানোর উপায় নেই। সেই সময়ে মুসলিম নারীদের কোনোভাবেই পরিবার হাসপাতলে নিয়ে যেতে দিতো না। তাছাড়া হাসপাতালগুলোও ছিল বিধর্মী মিশনারি খ্রিস্টানদের অধীনে। ম্যাজিস্ট্রেটের মা কোনোভাবেই বৌমাকে হাসপাতালে পাঠাবে না। জীবনে প্রথমবার ম্যাজিস্ট্রেট মায়ের কথা অমান্য করল এবং বউকে হাসপাতালে ভর্তি করালো। এটাই ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রী নওমীর জীবনের কাল হয়ে উঠলো। স্ত্রী নওমী ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করলো এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হতে কয়েক মাস পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করতে হলো।

এসময় নওমীকে যে সকল খ্রিস্টান নার্স দেখাশোনা করতো তারা মুসলিম নারীকে খ্রিষ্টান করার মতো সুবর্ণ  সুযোগ পেয়ে আনন্দিত হলো। মিশনারী খ্রিষ্টান নার্স যীশুর গুনাগুন এবং খ্রিস্টান ধর্মের মহত্ব বোঝাতে থাকলো। একসময় তাদের প্রচেষ্টা সফল হলো নওমী মুসলিম থেকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহন করলো। ধর্মান্তরিত হওয়া পাশাপাশি সোনার সংসার, স্বামী-সন্তান ত্যাগ করে। নাউজুবিল্লাহ। নওমী খ্রিস্টান হলো, ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্যের স্বাদ পেয়েও পেলো না। (“হাইরে নিয়তি তুমি কত খেলা খেলো সুখের শিখরে নিয়ে দুঃখ কূপে ফেলো।”-বেগম রোকেয়া)।

গল্পটি বেগম রোকেয়ার”সুলতানার স্বপ্ন”উপন্যাসের সত্যঘটনা অবলম্বনে লেখা।

নওমীর খ্রিস্টান হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ইসলাম ধর্মকে কখনো সঠিকভাবে জানতে বা সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারা। আমরা এই আধুনিক যুগেও বা কতটা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পেরেছি প্রশ্ন থেকেই যায়। আমাদের এই যুগে শিক্ষার কোনো বাধা নেই, বাধা নেই নারীদের কোন কিছু জানতে ও বুঝতে। তাহলে কেনো আমরা নওমীর মত অজ্ঞ আছি? কেনো এতো সুযোগ থাকতে আমরা ইসলাম সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ না করে নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতার স্বাদের জন্য বিধর্মীদের অন্ধভাবে অনুসরণ করছি? নওমীর মতো কোনো খ্রিষ্টান যদি আমাদের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করতে আসে এবং আমাদের সঠিক ইসলামিক জ্ঞান না থাকায়, দৃঢ় ঈমানের অভাবে যদি আমাদের মুসলিম নারী সমাজের কেউ কেউ ভুল পথে পরিচালিত হয় তাহলে আমি অথবা প্রকৃত মুসলিম সমাজ এতোটুকুও অবাক হবো না।

এই যুগে এসে বঙ্গ মুসলিম নারীসমাজ কতটুকু প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পেরেছে? আমাদের যুগের সাথে সেকালের মুসলিম নারীদের কী আদৌ কোন পার্থক্য হয়েছে?

আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান এবং সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন। (আমিন)

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x