শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙছে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০

সাধারণত শীত মৌসুমে পাম অয়েল জমাট বেঁধে যায় বলে চাহিদা বাড়ে সয়াবিনের। এতে সয়াবিনের দাম বাড়লেও নিম্নমুখী থাকে পাম অয়েলের বাজার। তবে এবারের বাজারচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সমানতালে বেড়ে চলেছে সয়াবিন ও পাম অয়েল উভয়েরই দাম। শুধু তা-ই নয়, মূল্য বৃদ্ধিতে প্রতি মাসেই ভেঙে চলেছে অতীতের রেকর্ড।

গত মাসের শুরুতে সয়াবিনের মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) দাম ছিল ৩ হাজার ৪৫০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এরপর প্রতি সপ্তাহেই বাড়তে থাকে পণ্যটির দাম। সর্বশেষ গতকাল প্রতি মণ সয়াবিন ৩ হাজার ৬৮০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

অন্যদিকে সরবরাহ কম থাকায় পাম অয়েলের দামও বাড়তির দিকে। গতকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের প্রতি মণ মিলগেট থেকে সরাসরি উত্তোলনযোগ্য পাম অয়েল ৩ হাজার ৩৫০ টাকা, সিটি গ্রুপের প্রতি মণ পাম অয়েলের ডিও ৩ হাজার ২৬০ টাকা, টিকে গ্রুপের প্রতি মণ পাম অয়েলের ডিও ৩ হাজার ১৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। তবে ঢাকার মিলগুলো থেকে মেঘনা গ্রুপের সরাসরি উত্তোলনযোগ্য পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪০০ এবং বসুন্ধরা পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪২০ টাকা দরে। পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির সুপার পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৩ হাজার ৫৫০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসন্ন শীত মৌসুমে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে ফের লকডাউনের আশঙ্কা থেকে ভোজ্যতেলের মজুদ বাড়িয়ে চলেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিতে জটিলতা পুরোপুরি নিরসন না হওয়ায় ভোজ্যতেলের বাজারে সরবরাহ অনেক কমে এসেছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শুরু হওয়ায় সরবরাহ চেইনেও কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। এসব কারণেই বেড়ে চলেছে পণ্যটির দাম।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাজিম বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দেশে সয়াবিনের দাম মণপ্রতি ৩ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। চাহিদা বৃদ্ধিজনিত কারণে শীত মৌসুমে দাম কয়েকশ টাকা বাড়ে। তবে এ বছর সয়াবিনের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা এ সংকটকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে দেশে ভোগ্যপণ্যের দামে অস্থিরতা শুরু হয়। এরপর জুলাই থেকে বৈশ্বিক লকডাউন পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হলে দেশের বাজারেও পণ্যের আমদানি স্বাভাবিক হয়। তবে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্য মজুদের প্রবণতা বাড়লেও দেশে চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবেলায় পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি হচ্ছে না। ফলে অস্থিরতার কারণে অতি ও অপ্রয়োজনীয় মজুদের পরিমাণও বাড়ছে। তাছাড়া সরকারিভাবে দেশে ভোগ্যপণ্যের প্রকৃত চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি ও নিট সরবরাহের চিত্র না থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি ভূমিকাও কাজে আসছে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ট্রেডিং ব্যবসায়ী ও ভোজ্যতেলের ডিও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক ভোজ্যতেল আমদানি ও পরিশোধনকারী মিল চাহিদা অনুযায়ী ভোজ্যতেল সরবরাহ দিতে পারছে না। এ কারণে ডিও ভোজ্যতেল ও প্রস্তুত ভোজ্যতেলের দামের মধ্যে বড় পার্থক্য হয়েছে। বিশ্ব বাজারে কম থাকলেও বাংলাদেশে লাগামহীনভাবে ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধি পণ্যবাজারে অস্থিরতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সয়াবিনের দাম বাড়লে দেশের ভোজ্যতেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ও খুচরা পর্যায়ে সয়াবিনের নামে পাম অয়েলের বিক্রি বেড়ে যায়। মূলত সুপার পাম অয়েলকে সয়াবিন হিসেবে বিক্রি করার প্রবণতা বাড়ে। অনেক সময় সয়াবিন তেলের সঙ্গে সুপার পাম অয়েল মিশিয়ে অতি মুনাফা করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দামের সমন্বয় জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

সূত্র: বণিক বার্তা

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x