শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

লকডাউনকালীন জীবন

খাদিজাতুল কুবরা
  • আপডেট টাইম : সোমবার ৩০ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৩৩ বার পঠিত

আমাদের জীবনের চলতি পথে লকডাউন বর্তমানে আমাদের কাছে একটি অভিশপ্ত অধ্যায়। এই অবরুদ্ধ নিষ্ক্রিয় কর্মহীন একঘেয়ে জীবনযাপন যেনো আমাদের ক্রমাগত গ্রাস করে ফেলছে! এই অবরুদ্ধ অবস্থায় কর্মহীনতা ও জীবনযাপনের একঘেঁয়েমিতার কারণে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগ ব্যাধি আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে । এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং জীবনে বৈচিত্র্যতা আনতে হবে । আমাদের মস্তিষ্ক অধিক সময় নিস্ক্রিয় থাকলে সেখানে হতাশা ও বিভিন্ন দুশ্চিন্তা এসে ভর করে এমতাবস্থায় আমাদের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকান্ডের সাথে নিজেদের জড়িত রাখতে হবে। অনলাইন ভিত্তিক জীবন থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে । কারণ দীর্ঘ সময় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের ব্যবহার আমাদের ভেতরে একধরনের একঘেঁয়েমিতা এবং ডিপ্রেশন তৈরি সহ চোখের ক্ষতিসাধন করে তাই একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত যথাসাধ্য আমাদের এটি এড়িয়ে চলতে হবে। এইসময় বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা নিজেদের প্রফুল্ল , হতাশামুক্ত, দুশ্চিন্তাহীন ও রোগমুক্ত রাখতে পারি।
প্রথমত নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে হবে । রাতে ঘুমানোর সঠিক সময়ে (১০-১১ টা) ঘুমিয়ে ভোরে ঘুম থেকে উঠুন । দিন শুরু করুন প্রার্থনা দিয়ে । প্রার্থনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মেডিটেশন হয়ত আমাদের অনেকেরই ব্যাপারটি অজানা ! এটি আমাদের মনকে শান্ত করে এবং দুশ্চিন্তা ও বিভিন্ন কুচিন্তা দূর করে মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে তাই নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে প্রার্থনা সেরে ফেলুন । এরপর কিছু সময় ব্যায়াম এবং যোগব্যায়াম করবেন এটা যথাক্রমে আপনার শরীরকে সতেজ , প্রাণবন্ত এবং রোগ প্রতিরোধক্ষম করে তুলবে । কিছুক্ষণ আপনি বেলকনি ,ছাদ বা বাড়ির উঠানে বসতে পারেন এর ফলে ভোরের দূষণমুক্ত নির্মল ঠান্ডা বাতাস ,সদ্য উঠা সূর্যের কিরণ , কোলাহল শূন্য পরিবেশ এবং পাখির কলতান কিছুক্ষণের জন্য আপনাকে জাগতিক সমস্ত দুশ্চিন্তা থেকে দূরে নিয়ে মনকে শান্ত করে তুলবে । এরপর আপনি সকালের নাস্তা সেরে পড়াশোনা ও আপনার দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ করতে পারেন । আপনার পরিবারকে কাজে সাহায্য করতে পারেন । নতুন নতুন রান্না করে পরিবারকে পরিবেশন করতে পারেন। অবসর কাটানোর সব থেকে সুন্দর মাধ্যম হচ্ছে বই । সুতরাং বিভিন্ন ধরনের চমকপ্রদ বই পড়তে পারেন । ছাদ বাগান করে প্রতিদিন প্রিয় গাছগুলোর পরিচর্যা করতে পারেন । নিজের ভেতরকার সৃষ্টিশীলতাগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারেন যেগুলো যান্ত্রিক কর্মমুখর জীবনের চাপে আপনার মনের অজান্তেই চাপা পড়ে গিয়েছে। পরিবারের শিশু সদস্য দের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের প্রতি উৎসাহিত করুন । পরিবারকে বেশি বেশি সময় দিন সবাই একসাথে বিভিন্ন বিনোদন মূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করুন । ব্যস্ত জীবনে ছুটোছুটির ভেতর পরিবারকে সময় দেওয়ার অবকাশ থাকেনা সুতরাং এভাবে আপনার পরিবারের সাথেও আপনার বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। দূরের আত্নীয় স্বজন ও প্রিয় বন্ধুদের সাথে সোশ্যাল মিডিয়া অথবা ফোনে যোগাযোগ করুন।
উপরোক্ত কিছু বিষয় গুরুত্বসহকারে মেনে চললে আমরা এই অবরুদ্ধ অবস্থায় একঘেঁয়েমিতা ,দুশ্চিন্তা ও বিভিন্ন রোগমুক্ত সুস্থ্য সুন্দর ও প্রানবন্ত জীবন অতিবাহিত করতে সক্ষম হবো।
সকলে ঘরে থাকুন , স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ইনশাআল্লাহ এই সঙ্কটময় দিন আমারা কাটিয়ে উঠবোই!

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..