রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

লকডাউন নয়, তৈরি করুন সচেতনতা

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার ২৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩৪৮ বার পঠিত

লকডাউনের প্রয়োগে ইউরোপের সাথে আমাদের দেশের রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। টানা ছয় মাস ধরে এখনো পর্যন্ত জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লকডাউন চলছে। কিন্তু নিয়ম কানুন ও প্রয়োগের ক্ষেত্র আমাদের দেশের সাথে ইউরোপের রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। জার্মানিতে লকডাউনে প্রায় ব্যবসা প্রতিষ্টান খোলা। যেমন রেস্টুরেন্ট খোলা, তবে রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া যাবে না, পার্সেল করে খাবার নিয়ে খেতে হবে বাসায় গিয়ে বা সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে । মার্কেট খোলা, তার মানে হলো আপনি কিছু কিনবেন আপনাকে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে শপিংয়ে ডুকতে হবে। লকডাউন মানে সব কিছু বন্ধ নয়, ১.৫/২ মিটার দূরুত্ব বজায় রেখে সব কাজ করা।

প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোতে অনলাইনে ক্লাস হলেও হল রুমে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এখানে লকডাউনে মানুষে জীবন জীবিকার কথা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে। সরকারী সকল প্রতিষ্টান খোলা। কিন্তু সেবা নেয়ার আগে সবাইকে মেইলে বা ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। সব কিছুতে সেবা দেওয়া ও নেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। কাছের বা দূর পাল্লার সকল বাস-ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক। সামাজিক দূরুত্ব বাজায় রেখে মানুষ বাস বা ট্রেনের সিট গ্রহণ করেন।

কিছু কিছু প্রতিষ্টান তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে এনেছেন। কিন্তু যারা করোনার কারণ চাকুরী হারিয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ৬০% করে বেতন দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা সুদে লোনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে যেন জার্মানি এক মানবিক ও জনকল্যাণের দেশ।
তবে সরকারে পক্ষ থেকে জনসগমের ব্যাপারে রয়েছে ব্যাপক বিধি নিষেধ। যেমন পার্টি করা যাবে না। কেউ করলে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। এছাড়া মাস্ক ছাড়া কোথাও প্রবেশের অনুমতি নেই। রাস্তায় মাস্ক ছাড়া পুলিশ কাউকে পেলে সাথে সাথে ৫০ ইউরো জরিমানা করা হচ্ছে।

জনকল্যাণে সবাইকে নিরাপদ রাখতে আমাদের দেশে লকডাউন পক্ষে আমারও মত রয়েছে। কিন্তু একেবারে সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে নয়। লকডাউন দিয়ে সব কিছু বন্ধ রাখলে দেশের অর্থনীতি একেবারে ভেঙ্গে পড়বে। আমাদের দেশের গরীব অসহায় মানুষ খাবে কি? তাদের পরিবার চলবে কেমনে? মানুষের কথা ভেবে আমাদের দেশেও লকডাউন ইউরোপ-আমেরিকার সাথে মিল রেখে শিথিল করা দরকার এবং সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার,মাস্ক পড়া দিকে জোর দেওয়া দরকার। এ্যাম্বেসির মাধ্যমে উন্নত দেশ গুলোর নিয়ম কানুন, সিস্টেম ও অন্যান্য বিষয় গুলো জানা দরকার এবং সেই সাথে পর্যালোচনা করে ভালো দিক গুলো আমাদের দেশে প্রয়োগ করা দরকার।

আমাদের দেশে লকডাউনের চেয়ে সচেতনতা তৈরি করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যার সঞ্চয় নাই, যে দিনে আনে দিনে খায় সেই বলতে পারবে কর্মহীন হয়ে বসে থাকার নিদারুণ কষ্ট।তাই আমাদের দেশে উচিত হবে লকডাউন নয়, তৈরি করতে হবে সচেতনতা। চালু রাখা উচিত মানুষের জীবন জীবিকার পথ।

এম এ হাসান
শিক্ষার্থী,ফিলিপস ইউনিভার্সিটি
জার্মানি।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..