বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

শিক্ষার পথ রুদ্ধ করে জাতিকে ধ্বংসের দিকে নেয়া হচ্ছে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২

দেশের সব কার্যক্রম চালু রেখে করোনার অযুহাতে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা দিয়ে জাতিকে ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ -এর প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, সবকিছু খোলা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এটা কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না। সংক্রমনের যে মাত্রা সেটা দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। গার্মেন্টস খোলা, বাণিজ্য মেলা চলছে, হাট-বাজার, শপিংমল খোলা, বিবাহ অনুষ্ঠান, টিএসসিতে কনসার্ট সহ নানান কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। এসব চালু রেখে সরকার শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। যা জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। মূলত শিক্ষার পথ রুদ্ধ করে জাতিকে ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

রোববার ২৩ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে রাজধানীর ভাটারাস্থ আস সাঈদ মিলনায়তনে আয়োজিত উপদেষ্টা পরিষদের সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ-এর সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবুল বাশার নোমানী, মাওলানা ফারুক আহমাদ, আলহাজ¦ হারুন অর রশিদ, প্রিন্সিপাল এম নাজিমুদ্দিন প্রমুখ।

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের কারণে এর আগে টানা ৫৪৩ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এর পর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয় সরকার। ফলে দীর্ঘদিন পর শ্রেণিকক্ষে ফেরার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। এখন আবার বন্ধ হওয়ায় সারাক্ষণই বাসায় থাকছে তার সন্তানেরা। তিনি বলেন, স্কুল এবং সশরীর উপস্থিত হয়ে শিক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিশুদের কেবল পড়াশোনার ক্ষেত্রে নয়, একই সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে। পূর্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন সময়ে আমরা দেখেছি শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়েছে মোবাইল এবং ইন্টারনেটের প্রতি। মনোযোগ হারিয়েছে পড়াশুনার ক্ষেত্রেও। এখন বন্ধ হওয়া আবার একই অবস্থা চোখে পড়ছে।

তিনি বলেন, সাধারণত সংক্রমনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তা বৃদ্ধদের তুলনায় অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব কিছুর পরে বন্ধ হওয়ার কথা। আমার মনে হয়, সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সঠিক নয়।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল শিশুরা এক ধরনের নিয়মকানুনের মধ্যে থাকত। তাদের মধ্যে এক ধরনের শৃঙ্খলা ছিল। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, পড়ালেখা, খেলাধুলা একটা রুটিন অনুযায়ী হতো। এটি তাদের সময়ের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষা দিতো। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তে সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিশুরা নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে না থাকলে বিভিন্নভাবে অলস সময় কাটায়, বাড়ির কিছু কাজ দিলে তাও ঠিক মতো করে না। তাছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক যে নিয়মকানুন তারা তা প্রায় ভুলেই যায়। যা তাদের সামাজিক বিকাশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সরকারের সেদিকে নজর দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x