রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

শিশুদের লোভনীয় খাবার আইসক্রিম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে দেহে

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার ৬ জুন, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত

শিশুদের লোভনীয় খাবার আইসক্রিম। গরমকালে চাহিদা বাড়ে আইসক্রিম বিক্রিতে।

নজর কাড়তে বিভিন্ন রং মেশানো হয় আইসক্রিমে। দুধের মালাই বলে বিক্রি করা আইসক্রিমে নেই দুধের ছিটেফোঁটো। স্বাধের দুধ মালাইয়ে ব্যবহার হচ্ছে রং হিসেবে কাপড়ে ব্যবহারযোগ্য এরারুট।

জেনে, না জেনে অভিভাবকরাও আহ্লাদের সেই উপকরণটি তুলে দেন শিশুদের মুখে। বিষাক্ত রাসায়নিকে তৈরি আইসক্রিম কেবল শিশুরাই নয়, সঙ্গে বড়রাও খাচ্ছেন না জেনেই। আর আইসক্রিমের এসব রাসায়নিকের কারণে মানবদেহের সব সিস্টেমে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরাও।

সিলেটের শহরের বিভিন্ন এলাকায় আনাছে-কানাছে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য আইসক্রিম কারখানা। নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত শিশুদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা এসব কারখানার বেশিরভাগেরই নেই কোন সরকারি অনুমোদন।

মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি আইসক্রিমে উৎপাদন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক সব পদার্থ। প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর রং, নোংরা পানি, এরারুট ও লেবেলবিহীন ফ্লেবার। পাশাপাশি এসব কারখানাগুলো তাদের আইসক্রিমের মোড়কের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোর্ত্তীণের তারিখ না দিয়ে বিক্রি করছে কয়েক মাসের পুরনো আইসক্রিমও।

এ বিষয়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, আইসক্রিমে যেসব রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়, সোজা কথা শরীরের সব সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলে। বড়দের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে শিশুদের দেহে। এসব রাসায়নিক কিডনিতে প্রভাব ফেলে। যে কারণে ক্রমশ; কিডনি কার্যকরিতা হারায়। তাছাড়া নিম্নমানের আইসক্রিমে ক্যানসারের উপাদান থাকে। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে আইসক্রিম খেলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মানুষকে সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

গত ২৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র‌্যাব-৯ যৌথ অভিযান চালিয়েও আইসক্রিম কারখানাগুলোতে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখতে পায়। আইসক্রিম তৈরির ভয়াবহতা চিত্র অবাক করে অভিযানিক দলকেও।

ভোক্তা অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদের নেতৃত্বে নগরের ৪টি আইসক্রিম কারখানায় অভিযান চালিয়ে একই চিত্র দেখতে পায়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারা অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

নগরীরর নাইওরপুল এলাকায় শিল্পী আইসক্রিম কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, ময়লার ড্রেনের পাশে অবস্থিত একটি টিনের চাউনিতে গড়ে তোলা হয়েছে কারখানাটি। এখানে রং হিসেবে আইসক্রিমে মেশানো হচ্ছে ডাই কালার। দুধের বদলে মেশানো হচ্ছে কাপড়ে ব্যবহারযোগ্য এরারুট। এসময় কারখানাটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নামে পিওর বলেও কাজে পুরো বিপরীত নগরের জিন্দাবাজার এলাকার পিওর আইসক্রিম কারখানা। সেখানেও গেলে দেখা যায়, দরজা বন্ধ করে মালিকসহ সবাই পালিয়ে গেছে। পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই ধরা পড়ে আরও ভয়াবহ চিত্র। কারখানাটিতে বিষাক্ত রং ও এরারুটের পাশাপাশি মেশানো হচ্ছে বিভিন্ন অনুমোদনহীন ফ্লেবার। দুধের আইসক্রিমে ডিপ ফ্রিজ পূর্ণ থাকলে নেই দুধের কোন ছিটেফোটাও। শ্রমিকদের ছিল না কোনো ধরণের সুরক্ষা সামগ্রীও। ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই ধরনের অপরাধ ও সরকারি লাইসেন্স না থাকায় অভিযানে নগরের বাগবাড়ি এলাকার নূরানী আইসবারকে ৩০ হাজার ও তেমুখী এলাকায় বন্ধু আইসক্রিম কারখানাকে আরো ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আইসক্রিম তৈরির এমন ভয়াবহ চিত্র দেখে মানুষকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও সচেতনতামূলক লিফলেট ও পাম্পলেট বিতরণ করা হচ্ছে। তাছাড়া জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..