শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন

সুদানের ৪ মন্ত্রী আটক, প্রধানমন্ত্রী গৃহবন্দী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১

সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদুককে গৃহবন্দী করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ অক্টোবর) ভোরে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা তার বাড়ি ঘিরে ফেলে। আল হাদাথ টিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স ও আল-জাজিরা।

এর আগে সুদানের বেশ কয়েকজন বেসামরিক কর্মকর্তাকে আটক করে দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের মধ্যে চারজন মন্ত্রীও রয়েছেন।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-শেখ, তথ্যমন্ত্রী হামজা বালৌল, সার্বভৌম কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ আল-ফিকি সুলেমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ফয়সাল মোহাম্মদ সালেহ।

দেশটির চারজন মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন বেসামরিক কর্মকর্তাদের আটকের পরই প্রধানমন্ত্রীকে গৃহবন্দী করার খবর এলো।

রাজনৈতিক সংকটে টালমাটাল সুদানে এখন সামরিক অভ্যুত্থানের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।

এদিকে, অভ্যুত্থান ঠেকাতে নাগরিকদের রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছে গণতন্ত্রপন্থী একটি গ্রুপ।

স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম বলছে, সুদানের রাজধানী খার্তুমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে টেলিযোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে।

দক্ষিণ সুদানের ইতিহাস বলতে বুঝায় বর্তমানের দক্ষিণ সুদানের ভূখণ্ড ও এর মধ্যে বসবাসরত মানুষদের ইতিহাস।

সুদান প্রজাতন্ত্র থেকে ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান আলাদা হয়। ভৌগোলিকভাবে, দক্ষিণ সুদান মোটেই সুদান অঞ্চলের (সহিল) মধ্যে পড়েনা। বরং এটি সাহারা-নিম্ন আফ্রিকার মধ্যে পড়ে। বর্তমানের পরিভাষায় এটিকে সুদান অঞ্চলের মধ্যে ফেলা হয়। যদিও ভূখণ্ডটির মধ্যে পূর্ব সুদানিয়ান সভানার কিছু অংশও রয়েছে। সুদান অঞ্চলের মধ্যে ভূখন্ডটি অন্তর্ভুক্ত হয় মূলত ১৯ শতকে। তখন মিশরের অটোমান খেদিভ দক্ষিণ দিকে তার রাজ্য বিস্তৃত করছিলেন। এছাড়াও ১৮৮৫ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এটি মাহদিস্ট সুদান, এংলো মিশরীয় সুদান এবং সুদান প্রজাতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দক্ষিণ সুদানে নিলো-সাহারার ভাষায় কথা বলা মানুষের সংখ্যা বেশি। এছাড়াও নাইজেরিয়া-কংগো ভাষায় কথা বলা অল্পসংখ্যক মানুষও রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, কেন্দ্রীয় সুদানের ভাষায় কথা বলা মানুষরাই বর্তমানের দক্ষিণ সুদানের প্রতিনিধিত্ব করতো। কিন্তু ১৪শ শতকের পরে, খ্রিস্টান শাসকগোষ্ঠী মাকুরিয়া এবং আলোডিয়া বিলুপ্ত হওয়ার পর, নিলো-সাহারার মানুষরাই এই অঞ্চলটির দখল নিতে শুরু করে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক গোষ্ঠী ক্ষমতার ভাগাভাগি করে নেয়। এরপর থেকে তারাই সুদান শাসন করে আসছিল।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ওমর আল-বশিরের অনুসারী সামরিক কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর থেকে দেশটিতে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

ওই ঘটনায় সরকারের সামরিক ও বেসামরিক অংশগুলো বিভক্ত হয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে দেখা দেয় আস্থার সংকট।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x