রাজধানীজুড়ে রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে ৩৮১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বেইলি রোডে রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ আগুন লেগে ৪৬ জন মারা যাওয়ার ঘটনার পর গত রবিবার সকাল থেকে গতকাল সোমবার বিকাল পর্যন্ত ২৮৮ রেস্তোরায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা ৫টি মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সূত্র ডিএমপি।
ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আছে কিনা, নিরাপদ স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছে কিনা, রেস্তোরার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটুকু, অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র এবং ঝুঁকির বিষয়টি অভিযানে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ অভিযান চলমান থাকবে।
পুলিশ জানায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কেবলমাত্র ধানমন্ডিতেই ১৫টি রেস্তোরাঁয় অনিয়ম ও অবব্যবস্থপনার অভিযোগে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রান্না করা হতো। সেগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। রেস্টুরেন্টে যেখানে বসে লোকজন খাচ্ছে, তার পাশেই চুলা, গ্যাস সিলিন্ডার রাখা। কোনো কোনো ভবনে নেই বহির্গমনের সিঁড়ি। ভবনের সিঁড়ি ছোট ও সিঁড়ির মুখে বিভিন্ন মালপত্র রেখে জায়গা ছোট করে ফেলা হয়েছে। এসব অব্যাবস্থাপনার কারণে ওয়ারি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে কিছু গ্যাস সিলিন্ডার। এছাড়া কয়েকটি রেস্টুরেন্ট পাওয়াা গেছে, যেগুলো বাণিজ্যিক ভবনেই গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন সিঁড়িসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি মো, মোস্তাজিরুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) ও পুলিশ পরিদর্শক (অপস্) সহ অন্যান্য অফিসার সহ শাহবাগ মোড়, আনন্দ বাজার , ঢাকা মেডিকেল এলাকা, পিজি হাসপাতাল ও আশপাশ এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা পাশাপাশি রেখে রান্না করার সময় অভিযান চালিয়ে ১৮ জন গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ডিএমপি এ্যাক্টের ৭২/১০০ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও নজর রাখছে। যেসব রেস্টুরেন্টে অগ্নিঝুঁকি রয়েছে এবং নিরাপত্তা নেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে এ তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশর (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, মানুষ মারা যাওয়ার পর শোক করি, কান্না করি, জ্ঞান দেই। আসলে আমাদের প্রতিটি সংস্থার যে দায়িত্ব আছে, সেগুলো যদি আমরা পালন করতাম, তাহলে এমন ঘটনা হয়তো ঘটতো না। তাই এখন আমরা প্রতিটি রেস্টুরেন্টে খোঁজ নিচ্ছি।
ডিবিপ্রধান বলেন, ঢাকায় এমন কোনো রেস্টুরেন্ট আছে কি না যেগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা মানা হচ্ছে না, দ্রুত বের হওয়ার রাস্তা আছে কি না, বাতাস চলাচলের রাস্তা আছে কি না- আমরা সবকিছুর খোঁজ নিচ্ছি। কোনো অনিয়ম পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো এবং পুলিশের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা সম্পাদক: জুনায়েদ আহমদ হালিম # নির্বাহী সম্পাদক: সানজিদা হক প্রমা # বার্তা প্রধান: মামুনুর রশিদ # প্রধান প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আসিফ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০২৪