দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর বাজেট ও ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা, বলছেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা।
তারা আরো বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় ধরনের কেনাকাটার তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ন্যূনতম কমপ্লায়ান্স না মেনেও একাধিক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বরাদ্দ পেয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান OMC Bangladesh-এর নাম আবারও আলোচনায় এসেছে।
বহু বছর ধরেই নিম্নমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও তথ্য গোপনের অভিযোগে আলোচিত এ কোম্পানির অনলাইন উপস্থিতি (healthcare.omcbd.com) পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তাদের ওয়েবসাইটে কোন হালনাগাদ তথ্য নেই।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণের সনদপত্র বা স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণের কোন ঘোষণাও নেই যা সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম শর্ত।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন এগুলো একটি বৃহৎ সিন্ডিকেটের অংশ যেখানে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত হয়।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ISO সার্টিফিকেশন, CE marking, GMP স্ট্যান্ডার্ডসসহ একাধিক কমপ্লায়ান্স চেকলিস্ট পূরণ বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে এসব যাচাই প্রায় হয় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালযয়ের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন এদের কার্যক্রমে ন্যূনতম ট্রান্সপারেন্সি নেই। অথচ ঠিকাদার তালিকায় ওরাই বারবার ফিরে আসে। হয়তো পারস্পরিক সম্পর্কই এখানে মূল ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে।
M/S CSB Enterprise নামের একটি প্রতিষ্ঠানেরও অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের Beckmann Coulter-এর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে উপস্থাপন করে দরপত্রে অংশ নিলেও, একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত ডকুমেন্টে জানা গেছে তারা সাব-ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করে এবং প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রপাতি বিক্রি বা কেনার কোনো বৈধ অনুমতি তাদের নেই।
এই প্রতিষ্ঠানকেও সরবরাহের বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, যা সরাসরি কমপ্লায়ান্স লঙ্ঘন এবং Beckmann Coulter-এর নীতিমালার পরিপন্থী।
জনস্বাস্থ্যের জন্য এ ধরনের ‘নন-কমপ্লায়ান্ট’ প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা যন্ত্রপাতি মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা আরো বলেন সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এসব অনিয়মের কোনো স্বাধীন তদন্ত হয় না, বরং অভিযোগ উত্থাপনকারী সংস্থাগুলোকেই চাপে রাখা হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সহ একাধিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা বহুবার দাবি করেছে স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় কমপ্লায়ান্স যাচাই ও মূল্যায়নের জন্য একটি স্বাধীন অডিট ব্যবস্থা চালু করতে হবে। অন্যথায় বাজেট যতই বাড়ানো হোক না কেন, তার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে।
উপদেষ্টা সম্পাদক: জুনায়েদ আহমদ হালিম # নির্বাহী সম্পাদক: সানজিদা হক প্রমা # বার্তা প্রধান: মামুনুর রশিদ # প্রধান প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আসিফ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০২৪