মো. হানিফকে আহ্বায়ক ও কাজী সাখাওয়াত হোসেনকে সদস্য সচিব করে বিএনপিপন্থি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সংগঠন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিইএব) আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষনা করা হয়।
তবে এ কমিটি ঘোষনার পর থেকে ডিইএবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। যদিও গত ৩ আগস্ট অভিযোগ আকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জানিয়েছিলেন ডিইএবের সদ্য সাবেক সভাপতি ইবনে ফজল সাইফুজ্জামান। কিন্তু তাদের এসব অভিযোগ আমলে নেয়নি বিএনপি। উল্টো তাকে বা তার অনুসারীদের আহ্বায়ক কমিটিতেই রাখা হয়নি।
পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, ডিইএব ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সংগঠন। অথচ এ কমিটির আহ্বায়ক মো. হানিফ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। তিনি একটি কলেজে শিবিরের সভাপতি ছিলেন। আবার ৩৩ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটির অন্তত ২৭ জন নেতা গণঅভ্যুত্থানে আগে সংগঠনে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। মাঠ পর্যায়ে তাদের অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। কমিটির অনেক নেতা নতুন এ কমিটি সম্পর্কে অবগত নন। আবার যারা যোগ্য ছিলেন, তাদের আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়নি। উল্টো আওয়ামী লীগ বড় নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, এমন ব্যক্তিরাও এখন এই কমিটিতে পদ পেয়েছেন।
আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো. হানিফকে আহ্বায়ক ও কাজী সাখাওয়াত হোসেনকে সদস্য সচিব করে ওই আহ্বায়ক কমিটিতে ৮ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২৩ জনকে সদস্য করা হয়েছে। এই কমিটি ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও ডিইএব’র বিগত কমিটির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পদবঞ্চিত নেতারা জানান, প্রকৌশলী মো. হানিফ সংগঠনের প্রাক্তন সদস্য হলেও তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য তৃণমূলে তারা এখন যথেষ্ট বিতর্কিত। মোহাম্মদ হানিফ ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন এবং ১৯৮০ সালে ছাত্রশিবির থেকে ভিপি নির্বাচন করেন। তখন বর্তমান ডিইএবের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী ইবনে ফজল সাইফুজ্জামান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সরাসরি ভোটে ভিপি নির্বাচিত হন।
জানতে চাইলে ডিইএবর আহ্বায়ক মো. হানিফ বলেন, ৪৫ আগে বিএনপিরও জন্ম হয়নি। ফলে এর আগে কে কি করছে তা এখন দেখার বিষয় না। আমি ৮২ সাল থেকে বিএনপি করছি।
অন্যদিকে কাজী সাখাওয়াত হোসেন আইডিইবির সদস্য সচিব হয়ে আইডিইবিতে ব্যাপক লুটপাট ও অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে কাজী সাখাওয়াত হোসেন বিভিন্ন জেলা কমিটি গঠনে বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন।
যুগ্ন আহবায়ক মো. আবেদুর রহমান গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা বড় একটি গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে ওই কোম্পানির একজন জিএম (জেনারেল ম্যানেজার) পদে বর্তমানে ও কর্মরত। সদস্য সৈয়দ রাশেদুল হাসান রেজা এই ব্যক্তি দীর্ঘ ১৫ বছর ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতির কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানেও আছেন। সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সবুজ ওই গ্রুপের একজন সাইট ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট আমলে কর্মরত ছিলেন। অথচ রুহুল কবির রিজবী স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বায়ক কমিটিকে বলা হয়েছে, পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে ছবি, ভিডিও বা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, এমন ব্যক্তিদের ডিইএবের সদস্য করা যাবে না।
এ ছাড়া আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল রানা স্বপন, সদস্য আসাদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবির শামিম, গাজী মো. সেলিম, মো. আশরাফুল হোসেন শাকিল, কাজী মো. ইলিয়াস, মো. শফিউল আজম সোহেল, মো. মিজানুজ্জামান রুবেল ডিইএবে সক্রিয় ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই কমিটির ৩১ নম্বর সদস্য কাজী মো. ইলিয়াছ। শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে তিনি তাঁর ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছেন, ‘তিনি কমিটি সম্পর্কে অবগত নন। এ বিষয়ে তাকে নিয়ে কেউ যাতে ফেসবুকে পোস্ট না করে।’
ডিইএবের ঢাকা জেলার সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মেহেরাব। তিনিও এই কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেন, ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটির অধিকাংশই আওয়ামী লীগ আমলে রাজপথের আন্দোলনে নিস্ক্রিয় ছিলো, জেল জুলুম হামলা মামলা কিছুই হয়নি বরঞ্চ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলো।
ডিইএবের খুলনার সাধারণ সম্পাদক শাহিন মিয়া। তিনি ওই কমিটি গঠনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই কমিটিতে ত্যাগিদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এমন লোকদের কমিটিতে রাখা হয়েছে, যাদের অধিকাংশকে আগে কখনো দেখিনি।
আপনার কমিটিতে যারা আছেন, তারা সবাই বিগত বছরগুলোতে সক্রিয় ছিল কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিইএবর নতুন কমিটির আহ্বায়ক মো. হানিফ বলেন, রাজপথে যখন আন্দোলন সংগ্রম হয়, তখন পেশাজীবীরা সংখ্যায় কম থাকে। কারণ, যেকোনো পেশাজীবীরা হলো সুবিধাভোগী শ্রেণীর। তারা যখন সুবিধা দেখে, ঝাপায় পড়ে। আবার বিপদ দেখলে পিছ পা দেয়। আবার যারা বুদ্ধিমান, তারা কচ্ছপের মতো। একবার মাথা বের করে, আবার ভেতরে ঢুকে যায়। এমন কচ্ছপের মতো কিছু লোক কমিটিতে আছে। অথচ রাজপথে আন্দোলনের সময় আমাদের ব্যানার ধরার লোক ছিল না।
সুবিধাবাদীরা কীভাবে ঢুকলো, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিইএবের আহ্বায়ক বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমাদের কমিটি গঠনে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। আমরা দুইটা প্যানেল থেকে তার কাছে নাম দিয়েছি। তখন তারা যাচাই-বাছাই করে আহ্বায়ক কমিটির তালিকা তৈরি করেছে। এখানে যোগ্যদেরই রাখা হয়েছে।
তবে এ কমিটিতে যোগ্যদের রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ডিইএবের সদ্য সাবেক সভাপতি ইবনে ফজল সাইফুজ্জামান। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর যারা দলের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, তাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়নি। উল্টো অনেক বিতর্কীত ব্যক্তি কমিটিতে পদ পেয়েছেন। বিএনপির মতো বড় দলের কাছে মানুষ এমনটা প্রত্যাশা করে না
উপদেষ্টা সম্পাদক: জুনায়েদ আহমদ হালিম # নির্বাহী সম্পাদক: সানজিদা হক প্রমা # বার্তা প্রধান: মামুনুর রশিদ # প্রধান প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আসিফ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০২৪