বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০৩:০৭ অপরাহ্ন

ধর্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে আইন পরিবর্তন করা জরুরি

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। এই সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সহিংসতা বন্ধ করতে হলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি। ধর্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে আইন পরিবর্তন করা জরুরি। এই বিষয়ে আমাদের সমাজ, রাষ্ট্রে বিদ্যমান দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। গতকাল রবিবার বিকেলে “নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ কর সম অধিকার নিশ্চিত কর’’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে অনলাইনে “নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ: মানবাধিকার লঙ্ঘন” বিষয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তরা এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম, এনডিসি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন খন্দকার ফারজানা রহমান, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম মাসুম বিল্লাহ, দীপ্ত টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়াদ আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন, বাংলদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাড. জেসমিন সুলতানা (শামসাদ), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম। সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইনজীবী অ্যাড. দীপ্তি সিকদার।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আমরা দেখছি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। আমরা লক্ষ্য করছি এই সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সহিংসতা বন্ধ করতে হলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।

প্রধান অতিথি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে আজকে বাংলাদেশ সবার শীর্ষে আছে। কিন্তু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের নানা ঘটনা সব অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। ধর্ষণ কেন হচ্ছে এর মূল কারণ উদঘাটন করতে হবে বলে তিনি মত দেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৪০টার উপরে ‘কেস মিটিং’ করা হয়েছে এবং সকল মন্ত্রণালয় ও সংবাদমাধ্যমে এসব ব্যাপারে কথা বলা হয়েছে। তবে সরকার ও মানবাধিকার কমিশনের একার পক্ষে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ। তিনি সকলকে আশ^স্ত করেন যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এসব নিয়ে কাজ করছে।

সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবীর, অর্থ সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক এবং গণমাধ্যম সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) রীনা আহমেদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, রোকেয়া সদন সম্পাদক নাসরিন মনসুর, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. সামিনা চৌধুরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠক, সাংবাদিক, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহিলা পরিষদের লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাড. মাকছুদা আখতার।

 

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x