শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে তারুণ্যের প্রত্যাশা

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১

নিউজটি শেয়ার করুন

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর, দুই লক্ষ মা বোনের সম্মান ও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের মহান স্বাধীনতা এবং বিজয় অর্জিত হয়। যুদ্ধ চলাকালে বাঙালি নানা সমস্যা এবং কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। পাকিস্তানি বাহিনীদের দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া তো আছেই তাছাড়াও খাদ্য, বস্ত্র সমস্যায় পড়ে চরম ভুগান্তির শিকার হয়। হাজারো ত্যাগ, সাধনার বিনিময়ে অবশেষে অর্জিত হয় আমাদের লাল সবুজের বিজয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাবনা নিয়ে লিখেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোছা. জান্নাতী বেগম।
জাতির সূর্য সন্তানদের সহস্র লাল সালাম
বাঙালি সত্ত্বার যে অভিনব উত্থান তা বহু ত্যাগ তিতিক্ষার ফসল। ভোরের সূর্যের ঊষা রাঙানো মাধুর্যতার বর্ণনা কবি তার কবিতায় আনেন মনকাড়া পঙক্তির মাধ্যমে, তেমনি বাংলার সূর্য সন্তানেরা বিজয় এনেছে তাজা রক্তের ভালোবাসার প্রতিফলনে। দীর্ঘ নয় মাস যে দেহগুলি পাক হায়েনা হরণ করে শহীদ করেছে এই বিজয় মাসে তারা আবার ফিরে আসে উন্নত মম শিরে। বাঙালির অস্থিমজ্জায় বিজয় ছিনিয়ে আনার যে নেশা তা জানান দেয় মহান বিজয় মাস। বাঙালি মরতে জানে উঁচু শিরে, রক্তের স্রোতে ভেলা ভাসিয়ে ঠিকই শিরদাঁড়া উঁচু করে সমুন্নত রাখে দেশ মাতৃকার লাল সবুজের পতাকা। ইতিহাস শুধু জানান দেয় বাংলার একাত্তরের কথা। অথচ বাঙালি বুক চিতিয়ে ইতিহাসকে জানান দেয়, আমরা গর্দান দিতে পারি, ইতিহাস হতে পারি তবুও পরাধীন থাকতে পারি না। তাই এই বিজয় মাসে জাতির সূর্য সন্তানদের সহস্র লাল সালাম।
রায়হানুর রহমান তানজিম
অর্থনীতি বিভাগ
গৌরবময় বিজয় হোক অর্থবহ
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় যেকোনো মুক্তিপাগল মানুষের জন্য অমূল্য সম্পদ। মরণযজ্ঞের মধ্য দিয়ে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ গড়ে তুলেছিলো প্রতিরোধ আন্দোলন। শত অত্যাচার নিপীড়নও বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্য থেকে বঞ্চিত করতে পারে নি। স্বাধীনতা অর্জনের থেকে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। ভৌগোলিক বিজয় মিললেও আমরা এখনো অর্থনৈতিক বিজয় অর্জন করতে পারি নি। প্রান্তিক অঞ্চলের অনেক মানুষের মৌলিক অধিকার এখনো নিশ্চিত করতে পারি নি। দেশ ও জাতির উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যদি আমরা রক্ষা করতে পারি তাহলেই বিজয় দিবসের আনন্দ অর্থবহ হবে। বিজয় আমাদের জাতীয় চেতনায় অফুরন্ত প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
আলমগীর হোসেন
স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগ
রক্তমাখা ডিসেম্বর হাসে বিজয় উল্লাসে
ডিসেম্বর, বাঙালির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল মাস। এই মাসে স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। এই বিজয়ের মাসের প্রতিটি ঘটনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর দ্বিপ্তকণ্ঠে নিসৃত ভাষণ বাঙালিদের মাঝে যে তেজের সঞ্চার ঘটিয়েছিল তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালি ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা।  দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ তাজা প্রাণ, প্রায় দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই সবুজের মাঝে রক্তিম সূর্য পতাকা। অর্জন করে নিজস্ব সার্বভৌমত্ব। এই বিজয়ের মাস আমাদের প্রতিবছর স্মরণ করিয়ে দেয় এদেশের শহীদের আত্মত্যাগ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা নিয়ে সেই স্বপ্ন যে স্বপ্নের জন্য সপরিবারে দেশদ্রোহীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন। তাই তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
ফারিয়া দিশা
নৃবিজ্ঞান বিভাগ
বিজয় হোক তারুণ্যের উচ্ছ্বাস
বিজয়ের ৫০ বছরে এসে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। আমারা সকলে হয়তো জানি স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন, আজ আমাদের কাছে বিষয়টিও ঠিক তেমন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরেও আমরা বিজয়ের গান গাইছি। ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানি হানাদার বাহীনির বিরোদ্ধে সকলে এক হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু আজ আমরা সকলে দেশের ভেতরের শত্রুদের বিরুদ্ধে এক হয়ে রুখে দাড়াতে পারছিনা। এর চাইতে বড় পরাজয় আর কি হতে পরে। বিজয়ের ৫০ বছরে এসে বিজয়ের মাসে প্রজন্মের প্রত্যাশা হিসেবে এটাও একটা বড় চাওয়া। আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। এখন যুদ্ধ করতে হবে দেশের অস্থিত্ব রক্ষা করার জন্য। দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি, শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য। আমার আকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বাস। বিজয়ের এ মাসে আমাদের সকলের প্রতিজ্ঞা হওয়া চাই দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য আমাদের প্রাণ হাসি মুখে বিলিয়ে দিবো। তবেই বিজয়ের মাসে আমাদের সত্যিকারের বিজয় হবে।
রবিউল ইসলাম
স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগ
এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x