শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

সরিষায় চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন কৃষকের

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২

নিউজটি শেয়ার করুন

বিভিন্ন এলাকায় এবার ব্যাপক হাড়ে সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব এলাকা হলুদ রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য বিরাজ করছে এ জেলায়। সরিষার ভাগ্য বদলের স্বপ্ন ভাসছে এসব এলাকায়। চাষিরা এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার আবাদ করছে। ডিজেল, সারসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় আমন এবং বোরর মাঝামাঝি সময়ে বাড়তি ফসল হিসেবে এ সরিষার আবাদে ঝুঁকছেন তারা। এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা খরচ করে বিঘায় সর্র্বোচ্চ আট মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন চাষিরা।

তারা বলছেন, দেশি জাতের টরি-৭ এর চেয়ে বারী ৯, বারি ১৬ এবং বারি ১৭ জাতের সরিষার ফলন দ্বিগুণ হয়ে থাকে। জেলার দেবীগঞ্জ এলাকার নদী অববাহিকায় চলতি বছর প্রায় ১ হাজার বিঘা জমিতে এ উচ্চ ফলনশীন সরিষার আবাদ করছে চাষিরা। চাষিরা বলছেন ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার সরিষার আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ। বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ সরিষা ২৫ শ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমন মৌসুম শেষ হওয়ার পর এ অঞ্চলের জমিতে আলু ভুট্টাসহ অন্যান্য আবাদ হতো। সরিষা আবাদে সেচ লাগে না। কীটনাশকও লাগে না। খুব বেশি সারও দিতে হয় না। তাই সরিষায় লাভ বেশি। আমন কাটার পরই ৬০ দিনের মধ্যেই বাড়তি ফসল হিসেবে এ সরিষার ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফলন পাওয়ার কারণে একই জমিতে কয়েকটি আবাদও করা যায়। দেবীগঞ্জ উপজেলার শান্তিনগর এলাকার চাষি শাকিল খান এ বছর ১০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছে। তিনি জানান, বর্তমানে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভুট্টাসহ অন্যান্য আবাদ বাদ দিয়ে সরিষার আবাদ করেছেন। বিঘাপ্রতি ৩ হাজার টাকা খরচ করে আট মণ পর্যন্ত সরিষার ফলন তিনি আশা করেন। একই এলাকার চাষি ইউসুফ আলী এবার ২ বিঘা জমিতে দেশি টরি-৭ জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেশি থাকায় তার উৎপাদিত জমির সরিষা মাড়াই করে তিনি নিজেই ব্যবহার করবেন।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শাহ মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রিন্স জানান, এবার এ জেলায় সরিষার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। এটা কৃষকের বাড়তি লাভ। এ আবাদ তুলে চাষিরা আবার দুটি ফসল করতে পারবেন। তিনি বলেন, এবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষাসহ বিভিন্ন তেলবীজ জাতীয় ফসল উৎপন্ন হচ্ছে। চাষিদের আগ্রহ বাড়ায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার, বীজসহ নানা উপকরণ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x