রবিবার, ১১ জুন ২০২৩, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন

জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নিয়োগ পেলেন কবিরুল বাশার

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২

নিউজটি শেয়ার করুন

জাপানের কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ এডভাইজার পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত কীটতত্ত্ববিদ ও মশা গবেষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার।

গত শুক্রবার অধ্যাপক কবিরুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেন । গত ১লা এপ্রিল ২০২২ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২ বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশারের জন্ম ঢাকার দোহার উপজেলার মালিকান্দা গ্রামে। তার পিতার নাম আইযুব আলী চোকদার। ৬ ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম । তার মাতার নাম কুলসুম বেগম। তিনি ২০১৯ সালে রত্নগর্ভা উপাধি পান। ৭ সন্তানকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন কুলসুম বেগম। সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে আবুল বাশার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত), বাবুল চৌকদার ব্যবসায়ী, আব্দুল আওলাদ হোসাইন এমদাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, এমারত হোসেন পদ্মা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক, কবিরুল বাশার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও ছোট ছেলে শিমুল বাশার ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের চিফ রিপোর্টার হিসাবে কর্মরত এবং একমাত্র মেয়ে কহিনুর বেগম তিনি গৃহিণী।

তার মা’ নারী কুলসুম বেগমের হাতে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতা রত্নগর্ভা মা (সফল জননী) হিসাবে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও ২০১৯ সালেও কুলসুম বেগম ঢাকার দোহার উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা রত্নগর্ভা মা নির্বাচিত হন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘আমি খুব সম্মানিত বোধ করছি যে, কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে যোগ্য মনে করে নিয়োগ দিয়েছে। এটা আমার বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক। এ নিয়োগের মাধ্যমে আমি বাংলাদেশে অবস্থানরত কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ও ডক্টরাল পর্যায়ে গবেষকদের গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা, বাংলাদেশ এবং কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময়, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারব।’

তিনি আরও বলেন , ‘বাংলাদেশ থেকে যে ছাত্রগুলো যাবে, তাদের সার্কুলার পৌছে দেয়া এ দায়িত্বের মধ্যে পড়বে। বাংলাদেশ থেকে যারা আবেদন করবে তাদের আবেদনপত্রের মূল্যায়ন করার কমিটিতে আমি থাকব। এখানে মূল্যায়ন কমিটিতে কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা কমিটি কাজ করবে, সেই সাথে বাংলাদেশ থেকে আমরা কাজ করব। আবার যদি কানাজাওয়া থেকে কোন ছাত্র বা শিক্ষক এদেশে গবেষণার কাজে আসেন তাদের সহযোগিতা করাও এ দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫জন ছাত্র কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সুযোগ পাবে।’

কবিরুল বাশার কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ম্যালেরিয়া বাহক মশা নিয়ে গবেষণা করে ২০১২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি এপ্রিল ২০২১ থেকে মার্চ ২০২২ পর্যন্ত তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলাবোরেটিভ অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র মশা গবেষক। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য, গ্লোবাল ফান্ড সহ দেশী-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থায় মশা ও মশাবাহিত রোগ (ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা) নিয়ন্ত্রণে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x